ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

দেশের প্রথম সারির দু’টি বিজনেস গ্রুপ ইমপ্রেস ও স্কয়ার । সাধারণ মানুষের মধ্যে এ দু’টি গ্রুপের একটা আলাদা ইমেজ আছে। ব্যবসায়ী হিসেবে তাদের সুনাম এবং সততা সবার কাছে একটা বিশ্বাসযোগ্য অবস্থায় ছিল । কিন্তু মহাহিসাব নিরীক্ষকের দপ্তর থেকে সম্প্রতি জানানো খবরটিতে অবাক করে দিয়েছে সবাইকে । স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস নানা অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ৬ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে মহাহিসাব নিরীক্ষকের দপ্তর জানিয়েছে।

এ যদি দেশের বড় এবং বিশ্বাসযোগ্য শিল্পগ্রুপগুলো অবস্থা হয় তাহলে দেশের অপরাপর কোম্পানীগুলোর কি অবস্থা হবে তা সহজেয় অনুমেয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “কোনো খুচরা দোকান থেকে এক প্যাকেট সিগারেট কিনলেও তার ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রযোজ্য। কিন্তু কেউ ভ্যাট দেয় না,” কিন্তু খুচরা দোকান থেকে কিছু কেনার সাথে বিষয়টি এক করে ফেললে তো হবেনা। ওয়ার্কসপে গাড়ি মেরামতের বিষয়টির সাথে তো সিগারেট কেনার মতো বিষয় এক হতে পারে না। গাড়ি মেরামত দু-দশ টাকার বিষয় নয়, তার জন্য ভ্যাট চালান তাকে অবশ্যই নিতে হবে । উদাহরন হিসেবে গাড়ি মেরামতের কথা বলেছেন । কিন্তু ৬ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকার বিষয়। এখানে প্রকাশনা, পরামর্শ (কনসালট্যান্সি), নিরাপত্তা, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা ধরনের সেবার বিষয় ছিলো। সব খাতেই কি তাদের এরকম সমস্যা ছিল ? খুব আশাব্যঞ্জক কথা,তারা করবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন।

মিডিয়া যদি মানুষের কন্ঠস্বর হয়, সমাজের প্রতি তাদের যদি দায়বদ্ধতা থাকে তবে বিষয়টি নিয়ে তারা কতবার সরকারকে অবহিত করতে চেষ্টা করেছেন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে কয়টি টক-শোর
আয়োজন করেছেন? চ্যানেল আই এর সাথে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই ভালো সম্পর্ক আছে । তারা একটা ব্যলেন্সড্ চ্যানেল হিসেবে পরিগণিত। তারা কি এ সমস্যা কাউকেই বোঝাতে সক্ষম হলেন না?
এবার আসা যাক স্কয়ার ফার্মার কথায়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে তারা শধু কর ফাঁকি নয়; উৎপাদনের চেয়ে কম দেখিয়ে, অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানি করা পণ্যের বিপরীতে কর ছাড় নিয়ে, ঔষধের দাম কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।

দেশের প্রথম সারির ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এর অবস্থা যদি এই হয় তাহলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির কোম্পানীগুলোর কি অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমেয়।
তারা বলেছেন, চ্যালেঞ্জ করে তারা আদালতে গেছেন এবং বিষয়টি বিচারাধীন। চাইবো তারা যেন সেখানে সততার প্রমান দিয়ে আসতে পারে।

তেল, মশলা থেকে শুরু করে ঔষুধের মতো জরুরী পন্য কেনার আগে আমাদের ভাবতে হয় কোনটা কিনব।কর ফাঁকির মতো বিষয়টিকে মানুষ এতো হালকা করে দেখবে না। এটা একটি প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন। এর ফলে অপরাপর কোম্পানীগুলোর প্রতিও মানুষের আস্থাহীনতার জন্ম নেবে।

কেননা জনসাধারণ এখন যে গুটিকয়েক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা রাখে তাদের মধ্যে এ দু’টি অন্যতম। এদের উপর আস্থাহীনতা মানেই পুরো দেশের অপরাপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থাহীনতা।