ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মন্ত্রীত্ব পেয়ে, পদ্মা সেতু নির্মান করাটাকেই এ মুহুর্তে সবচেয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিক কাজ বলে চিহ্নিত করেছেন। যেহেতু বিগত আবুল হোসেন সাহেব এর কথিত দূর্নীতির কারনে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য দাতা সংস্থা পদ্মা সেতু নির্মান কার্যক্রমে অর্থ প্রদান স্থগিত করেছে তাই এ বিষয়টি সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে । এ কারনে মন্ত্রী কাদেরের কাছেও বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় পদ্মা সেতুর চেয়েও জরুরী অনেক বিষয় রয়ে গেছে যার জন্য যোগাযোগ মন্ত্রনালয়কে কাজ করতে হবে আগে এবং সঠিক ভাবে যেন তা থেকে জনগন দীর্ঘ মেয়াদী সুবিধা প্রাপ্ত হন ।

কিন্তু এ মুহুর্তে দেশ বা দেশের মানুষের জন্য কোন বিষয়টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা তাকে আগে চিহ্নিত করতে হবে । এক্ষেত্রে তাকে দলীয় চিন্তা কিংবা ভোট ব্যাংক নিশ্চিন্তকরণ প্রজেক্ট বা কাছের মানুষের স্বার্থ থেকে বের হয়ে চিন্তা এবং সে অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে।পদ্মা সেতু হলে দেশের দক্ষিন-পশ্চিম অংশের সাথে ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে সন্দেহ নেই। সড়ক পথে ঢাকা থেকে ৩/৪ ঘন্টার দূরত্ব হয়ে যাবে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, বরিশাল সহ আরো অনেক জেলা; পণ্য পরিবহনেও হবে যুগান্তকারী পরিবর্তন।

কিন্তু দেশের রাস্তাঘাটের যে বহাল দশা, পরিবহন খাতের যে নৈরাজ্যতা, যানজটের যে ভয়াবহ থাবা বিশাল ভাবে বিস্তৃত সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে সর্বাগ্রে। তার মানে এই নয় যে আমরা পদ্মা সেতু নির্মান করাটাকে গুরুত্ব দেবো না।

ভূয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স , যততত্র গাড়ি পার্কিং ,রাস্তায় অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াটা এখন খুব জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে। আর সাধারণ মানুষের ভাড়া নিয়ে পরিবহন মালিকরা যা করছে তা যদি শক্ত হাতে দমন না করা যায় মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকাটাই হয়ে যাবে কঠিন। তেলের দাম যা বাড়ে পরিবহন ভাড়া বাড়ে তার চেয়েও অনেক অনেকগুন বেশি। গনমানুষের পরিবহন বাস। সারা দেশে বাস ভাড়া বিগত কয়েক মাসে কয়েক দফায় বেড়েছে অযৌক্তিক ভাবে। সিএনজি অটোরিক্সায় সাধারণ মানুষ উঠার সাহসই করে না। রিক্সাভাড়াও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। জ্বালানী মূল্য বাড়ার সাথে সব কিছু বাড়বে সেটা স্বাভাবিক, কিন্তু তার একটা মাত্রা থাকা চাই। সেটা কে নির্ধারণ করবে? হয়ত অনেক সময় সরকারের সাথে তাদের বৈঠক হয়, ভাড়াও নির্ধারন হয়। কিন্তু তারা সেটা কি মানেন? তাদেরকে মনিটরিং করার কে আছে? একই দূরত্বে এক এক বাসের এক রকম ভাড়া। আবার জ্বালানীর অজুহাত ছাড়াও কেউ সিটিং সার্ভিস করে ভাড়া বাড়াচ্ছে, কেউ করছে গেইট লক। সেটা দেখার কেউ নেই। মন্ত্রী কিছুদিন আগে রাস্তায় নিজে নেমে ঝটিকা অভিযানে অনিয়মের অভিযোগে কিছু বাসের রুট পারমিট বাতিল করেছিলেন । ধন্যবাদ তাকে তার এরকম পদক্ষেপের জন্য । কিন্তু তাকে এ বিষয়ে আরো কাজ করতে হবে । বাস, ট্যাক্সি, সিএনজি চালিত অটোরিকশা সহ নব ধরণের ভাড়া পর্যালোচনা করে সবার জন্য গ্রহনযোগ্য ভাড়া নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দান না করলে তার এই ধরণের ঝটিকা সফর বা অভিযান অর্থহীন রসিকতায় রূপ নেবে।

এবার ড্রাইভারদের কথায় আসি। আমাদের জীবনটা যাদের হাতে তাদের বেশিরভাগেরই কোন বৈধ লাইসেন্স নেই। এদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে কতটা শিক্ষিত হতে হবে সে বিতর্কে না যেয়ে বলা যায় তাদেরকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান অনুসারে ড্রাইভিং শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। না হলে ক্রমবর্ধমান ভাবে সড়ক দূর্ঘটনা বেড়ে কতো মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে তার হিসাব মিলবে না। আবার অপর কোন তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনিরের মতো বিশিষ্ট জন মৃত্যৃ হলেই কি আমরা সরব হব? প্রতিদিন কতো সাধারণ মানুয় সড়ক দূর্ঘটনায় ঝরে যাচ্ছে তার খবর কি আমরা রাখছি? কালও প্রান হারালো মনিপুর স্কুলের মেধাবী ছাত্রী পালোমা। এভাবে আর কতো পালোমারা অকালে ঝরে যাবে?

যোগাযোগ মন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা, সেতু করেন অসুবিধা নেই কিন্তু আমাদের সাধারণ জনগন যারা খুব কষ্ট করে দিনাতিপাত করে তাদের কথা একটু ভাবেন তাহলেই হবে আপনার মন্ত্রিত্বের সফল গাঁথা। কোন সরকারের লোক হিসেবে আপনি মূল্যায়িত হবার চেয়ে একজন কর্মনিষ্ঠ ওবায়দুল কাদের হিসেবে জনগনের মনে স্থান করে নিন সেই প্রত্যাশা রইলো।