ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

শেয়ার বাজার ছড়িয়ে দিয়ে সরকারের সে কি গর্ববোধ ৷ ঢাকার মতিঝিল বা চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ছেড়ে মার্কেট বিস্তৃত হলো দেশের আনাচে কানাচে, মানুষকে জানানো হলো শেয়ার বাজারে ইনভেষ্ট করলেই লাভ ,এখানে লস্ এর কোন আশংকাই নেই ৷ মানুষ গ্রাম থেকেও এসে জড়ো হতে লাগলো পঙ্গপালের মতো ৷ অনেকে দশ/পনেরো নামে বিও খুলে প্রাথমিক শেয়ারের জন্য আবেদন করে ৷ অফিসের কাজ রেখে কম্পিউটার স্ক্রিনে ব্যবসা, কেউ চাকরী ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা, বিদেশ থেকে কষ্টে জমানো টাকা দিয়ে ব্যবসা, গয়না-জমি বিক্রি করে ব্যবসা, নিজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা, পেনশনের টাকা দিয়ে ব্যবসা ৷ মানুষ ব্যবসায়ী হয়ে যায় পুরোদস্তর ৷ আজকে টাকা রাখলেই কাল টাকা বেড়ে যাচ্ছে অলৌকিক ভাবে, এমনই এক ব্যবসা ৷বিশাল লাইন ব্যাংকের দরজা থেকে বহুদূর চলে যায় ৷ তখন বলা হয়, ব্যাংকের দরজায় দাড়ানো মানুষগুলো বাংলাদেশের উন্নয়নের সব দরজা খুলে দেবে ৷গনতান্ত্রিক সরকার দেশে নাকি বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলেছে!

কিন্তু ছোট টোপের পর বড় টোপ ফেলে অধীর অপেক্ষায় বসে আছেন যে শিকারী তার কথা কেউ ভাবে না ৷ টোপের পাশে ক্রমাগত জড়ো হয় অগুনতি শিকার ৷ তারপর হঠাৎ একদিন শিকারীর হাতে সমস্ত শিকার ৷ শিকারী হাসে নিরাপদ দূরত্বে থেকে বোকা মানুষগুলোকে দেখে । যখন মানুষগুলো বুঝতে পারে তখন তাদের সব শেষ, এ যেন ‘কোথাও কেউ নেই, খাঁটি করুন বাস্তবতা’ ৷
এরপর…..তদন্ত হলো শিকারীও চিহ্নিত হলো কিন্তু তারা থেকে গেলো ধরা ছোঁয়ার বাইরে ৷ এখন সরকারের কাছে শেয়ার মার্কেট হলো একটা ফালতু জিনিস ৷ আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা হলেন লোভী জুয়াড়ী ৷ এদিক দিয়ে বিরোধী দলের কাছে বিষয়টি রাজনৈতিক ফায়দা লুটার একটা উপাদান, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পাশে কেউ নেই ৷ কেননা তাদের দলেও ঘাপটি মেরে আছে অসংখ্য শিকারী ৷

এখনও কেউ বলছে আস্থাহীনতা কেউ বলছে কারসাজী ৷ কিন্তু এ আস্থাহীনতার শেষ কোথায় বা এ কারসাজীর শেষ কোথায় এ কথা কেউ বলতে পারছে না৷ শুধু দেখে যাবার ছাড়া কারো যেন কোন কিছুই করার নেই এখন ৷

আমাদের আছে শুধুই সমবেদনা জানানোর ভাষা ৷ ঢাকা আর চট্টগ্রামে ঝ’রে গেলেন দু ব্যবসায়ী ৷ তাতে কার কি যায় আসবে? শুধু শুধু সংবাদ পত্রের পাতা নষ্ট আর অকার্যকর সমবেদনা আর আমাদের এই নিষ্ফল কথাবার্তা ।

আর যত পতন হচ্ছে পরিচালকদের শেয়ার কেনার ঘোষনা বাড়ছে ৷ উদ্যোক্তা, পরিচালকদের কোম্পানীর পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ পূরন করতে হবে ৷ আর পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ না থাকলে তিনি পরিচালক থাকতে পারবেন না ৷

এসময় মূলধনের অভাবে যখন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে অক্ষম তাহলে কারা কেনা বেচা করে মার্কেটকে আরো তলানীতে নিচ্ছে তা বুঝতে খুব বেশি চিন্তা ভাবনার কিছু নেই ৷ সুতরাং শিকারীরা এখন আবার তৈরি হচ্ছে নতুন করে ৷ তাদের যখন কেনার সময় আর আপনি শুধু আতংকে পানির দামে শেয়ারগুলো বেঁচে যাবেন বা চেয়ে চেয়ে দেখবেন এবং তারপর আবার নতুন করে একদিন আবার তাদের শিকার হবেন ।