ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সুরঞ্জিত বাবু কোন একসময় বলেছিলেন, ‘বাঘে ধরলে নাকি বাঘ ও ছেড়ে দেয়, শেখ হাসিনা যাকে একবার ধরেন তাকে নাকি ছাড়েন না’! ড. ইউনুস প্রসঙ্গে সুরঞ্জিত বাবুর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে করা এ মন্তব্য একটা তত্ত্ব আকারে দাড়িয়ে যাবে তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি এমনকি স্বয়ং সুরঞ্জিত বাবুও এর মাজেজাটা সঠিক ভাবে উপলব্ধি করতে পারেন নি। তার এপিএসের কাছ থেকে টাকার বস্তা উদ্ধার হবার পর অনেকেই ভেবেছিলেন , হাসিনা বিষয়ক তত্ত্বের আবিষ্কর্তা রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত বাবু এবার ধরা পড়বেন এবং তার তত্ত্ব যে অসার নয় তার প্রমানটা তিনি নিজেই দেবেন।

কিন্তু এই তত্ত্বের মহিমা যে এতো সহজে উপলব্ধি করার মতো বিষয় না তা অনেকেই আন্দাজ করতে পারেননি। সুরঞ্জিত বাবুকে তিনি ধরলেন আবারো ধরলেন এবং কঠিন ভাবেই ধরলেন। রেল মন্ত্রীত্ব চলে গেলেও দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে দাদাবাবু জামাই আদরে ঘরেই রইলেন। সুরঞ্জিত বাবু এখন বুঝেন, এই তার ছাড়া-ধরার তত্ত্ব কতোটা গভীর অর্থ বহন করে। ধরা তো কতো রকমের হতে পারে। প্যাদানি বা তিরস্কারের জন্য ধরা আর আদর বা পুরস্কারের জন্য ধরা। কে কিভাবে ধরা পড়বে সেটাই হলো বিষয়।

সুরঞ্জিত বাবুর এই ‘হাসিনা তত্ত্ব’ আর একজন ভালো ভাবেই বুঝতে চলেছেন। তিনি হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের এমপি তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। তানজিম সৎ-অসৎ বা ভালো-মন্দ ইত্যাদি বিশ্লেষন এখানে করতে চাই না। এ নিয়ে পত্র,পত্রিকা, ব্লগে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমি শুধু সুরঞ্জিত বাবুর তত্ত্বটা এবং তার প্রয়োগ সম্পর্কে আলোকপাত করছি।

২০০৯ সালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তিন স্বয়ং ২০০৯ এর ৩১ শে মে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদত্যাগ পত্র দেন এবং তারপর আরেক দফা ১ জুন ও তার কার্যালয়ে পদত্যাগ পত্র পাঠান। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে জানানো হয় তার পদত্যাগ পত্র নাকি রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেননি। তিন বছরেরও অধিককাল তিনি মন্ত্রী হিসেবে থাকলেন তার বেতন ভাতাও যথারীতি তার একাউন্টে জমা হলো।তিনি তার বেতন-ভাতা এর টাকা তার একাউন্ট থেকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য কিছুদিন আগে চিঠিও দেন।

কিন্তু তিনি চাইলেইতো সব হবে না, তিনি তো বাঘের কাছে পড়েননি । এতো সহজে কি ছাড়া পাবেন! গত মাসের ২৩ তারিখ তিনি এমপি পদে ইস্তফা চেয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে একটি পদত্যাগ পত্র পেশ করেন।গতকাল স্পিকার তা প্রত্যাখান করেছেন এই যুক্তিতে এটা নাকি নিয়মানুযায়ী করা হয়নি। পদত্যাগ পত্র তিনি তার এপিএস এর মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পাঠিয়েছিলেন। মাননীয় স্পিকারের মতে সেটা টাইপ করা ছিলো এবং তাতে নাকি দুই রকমের কালি ব্যবহৃত হয়েছে। এটা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করিয়ে করানোও হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

কিন্তু একাধিক পত্রিকাতে সোহেল তাজের বক্তব্য জানা গেছে। সেখানে স্পিকারের সাথে তার আলোচনা এবং কিছু কথা-বার্তার নমুনাও দিয়েছেন। সরাসরি পদত্যাগ পত্র নিজে এসে না দিলে তার পদত্যাগ গৃহীত না হওয়ার কোন কারণ নেই বলে তিনি তাকে জানিয়েছিলেন ফোনে। ১৯৯৫ সালের হাইকোর্টের এক রুলের কথা সোহেল তাজ স্পিকারকে উল্লেখ করেছেন। সেখানে পদত্যাগ পত্র জমা দিতে হলে আবেদনকারীর স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই বলে হাইকোর্ট জানিয়েছিলো।

তাহলে সমস্যাটা কোথায়? কী কারনে মাননীয় রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র গ্রহন করেন না, মাননীয় স্পিকার তার পদত্যাগ পত্র গ্রহন করেন না? এখন বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে এই – এতো সহজে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে না তানজিম কে। সুরঞ্জিতের তত্ত্ব অনুসারে, তানজিম তো বাঘের খপ্পরে পড়েন নাই যে এতো সহজে পার পেয়ে যাবেন !

তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। সেখানে হুন্দাই কোম্পানীতে চাকুরী করছেন , জীবন যাপন করছেন আরো আট দশ জন সাধারণ মানুষের মতো। তিনি দেশে এসে রাজনীতিতে সক্রিয় না হবার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তার নির্বাচনী এলাকা কাপাসিয়ার জনগণের কাছে।

তাহলে, তাকে এতো ধরে রাখার খায়েস কেন এ সরকারের? দলের মন্ত্রী বা এমপি তানজিম এর চেয়েও কি মুক্ত তানজিম সরকারের জন্য বেশি বিপজ্জনক? তিনি রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেও অন্যকোন ভাবে কাপাসিয়া বাসীর কাছে থাকার কথা বলেছিলেন। এ অন্যকোন ভাবে থাকতে চাওয়াটাও কী সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে !