ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সৌভাগ্য হয় নাই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। অথচ এই পুরস্কারটা সত্যিকারার্থে তাহাকেই মানায় বলিয়া আমাদের বিশিষ্ট জনেরা বারংবার দাবী করিয়া আসিতেছেন। তাহাদের যুক্তি, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করিয়াছেন, বিশ্ব শান্তি মডেলের রূপরেখা লইয়া কাজ করিয়াছেন এবং সর্বোপরি আমাদের দেশের জনগনকে একটি শান্তি আর সমৃদ্ধের দেশ উপহার দিতে চলিয়াছেন। নোবেল কমিটি তাহার এইসব শান্তি-মূলক কর্মকান্ড অবলোকন না করিয়া বাছিয়া বাছিয়া এমন সকল লোকদিগকে পুরস্কার প্রদান করিয়াছে, যাহাদের কর্মকান্ড নোবেল পুরস্কারের ন্যূনতম ধারে কাছে যাইবার মতো নহে। ইহা লইয়া দেশে তুমুল বাক-বিতন্ডা চলিতেছে।

নোবেল পুরস্কার না পাইলে কী হইবে? ‘আমাদের ‘ডটার অব পিস’’ জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশাল পুরস্কার প্রাপ্তির ঘটনা গতকাল ঘটিয়াছে।
গ্যালাপ নামক আমেরিকার প্রথম সারির একটি জরিপ কোম্পানি তাহাদের ওয়েব সাইটে সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে এশিয়ার নেতাদের মধ্যে প্রথম কাতারেই আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা রহিয়াছেন বলিয়া তথ্য প্রকাশ করিয়াছে । তালিকায় তাহার অবস্থান সপ্তম বলিয়া জানা যায়।

তিনি জাপানী প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিকো নোদা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জন ফিলিপ কি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইউধোইয়োনো, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নুয়েন তান ডাং, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডকেও টপকাইয়া গিয়াছেন।

তাহার এই সফলতা প্রমান করিলো নোবেল কমিটি কী ভীষন অন্যায় কর্মই না করিয়াছে আমাদের এই জননেত্রীকে না চিনিয়া। আসলে তাহারা মানিক চেনে নাই অথবা মানিককে মানিক বলিয়া আখ্যা দিতে তাহারা নারাজ।

কিন্তু গ্যালাপ ঠিকই মানিক চিনিয়াছে এবং তাহার মূল্যায়ণ সঠিক রূপেই করিয়াছে। তাহাদের জরিপ অনুসারে, আমাদের দেশের ৭৭ শতাংশ জনগণ শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করিতেছে। ইহার মতো সুসংবাদ আর কী হইতে পারে! আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের জরিপ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মের স্বীকৃতিকে আন্তর্জাতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করিলো এবং সে সাথে এইটাও প্রমান করিলো আমাদের দেশের অধিকাংশ জনগনের আস্থা তাহার প্রতি আছে।

আমরা আশা করিতে পারি, এখন হইতেই শুভেচ্ছার বান ছুটিবে। নেতা কর্মীরা অভিবাদন জানাইবে, মন্ত্রী-আমলারা উচ্চ স্বরে এই ‘গ্যালাপ পুরস্কার’ প্রাপ্তি লইয়া গর্ব করিয়া ভাষন- বিবৃতি প্রদান করিতে থাকিবেন। ইহা উপলক্ষে ‘সমুদ্র বিজয়’ এর মতো বিশাল কোন অনুষ্ঠান এর আয়োজন করা হইলেও অবাক হইবার কিছু নাই।

ইহার মাঝে আমার শ্রীলংকান এক বন্ধুর কথা মনে পড়িলো। সে আমাকে কিছুদিন আগে বলিয়াছিলো তাহার দেশের প্রেসিডেন্ট রাজাপাক্ষে তামিল আন্দোলনকে ভূপাতিত করিয়া সিংহলীজদের কাছে মোটামুটি জনপ্রিয় হইলেও তামিলদের কাছে শত্রু হিসাবেই চিহ্নিত। সুতরাং সার্বিক বিচারে তাহার দেশে জনপ্রিয়তায় তাহার অবস্থান খুব একটা সুখকর নয়। আশ্চর্য ব্যাপার তিনি ৯১ ভাগ ভোট পাইয়া গ্যালাপ পর্যবেক্ষণ এ এশিয়ায় হইয়াছেন তৃতীয়।

বি:দ্র: গত রাত্রিতে চা খাইতে গিয়াছিলাম মফিজ ভাইয়ের ভ্রাম্যমান চা’য়ের দোকানে। তাহাকে এই সু সংবাদটি জানাইলে উৎফুল্ল হইয়া আমাকে বলিল, ‘ওই গ্যালপ না কী কইলেন, হেরা আমার কাছে ভোট না লইয়া এই রেজাল্ট ক্যামনে দিলো?’ আমি তাহাকে শুধু এতটুকু বলিলাম, ‘এইটা ভোট না মফিজ ভাই, এটা জরিপ এবং এ জরিপটা ডিজিটাল পদ্ধতিতে দৈব-চয়ন এর মাধ্যমে সম্পাদিত হইয়াছে, ইহা আপনি বুঝিবেন না। সে উত্তরে বলিলো, ‘সব খালি আপনেরাই বুঝেন, এ মফিজরা বুঝি কিছুই বুঝে না?’ আমি আর কিছুই বলিতে পারিলাম না। শুধু তাহার মুখপানে চাহিয়া রহিলাম। কিন্তু এভাবে আর কতো কাল?