ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ব্লগার সাজ্জাদ ভাই (পাগল মন) কিছুদিন আগে,’মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুনুন এক ভদ্র লোকের অজানা কাহিনী’ ’নামে একটি লেখা দিয়েছিলেন। একটু অভিনব কায়দায় সে তিনটি ঘটনা উল্লেখ করে আলোচিত লোকটির হদিস বের করার জন্য ব্লগারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

কিন্তু তার ব্যক্তিটি বাঙালীর ইতিহাসের সেই মহান ব্যক্তি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হবেন তা অনেকেই ধারণা করতে পারেন নি। কেননা এরকম দৃশ্য দেখতে আমরা ভুলে গেছি। এবং কদাচিৎ দেখা গেলেও তার অর্থ ভিন্নরূপে প্রকাশের আশংকাও কম না। স্বাভাবিক ভাবেই এরকম গল্পের কথিত ব্যক্তি সম্পর্কে সঠিক রূপে ধারণা করার সম্ভাবনা ব্লগারদের অতটা জোড়ালো ভাবে ছিলো না।

আমি ঘটনাগুলো পড়ে আমার অভিজ্ঞতার সাথে মিলাচ্ছিলাম। এমনিভাবে হয়তো এক একজন এক ভাবে চিন্তা করছিলেন।আমি আমার মন্তব্যে বলেছিলাম, হয়তো এ লোকের বাস মিন্টো রোড এর আশে পাশে। আমার কাছে সেটাকেই মোক্ষম জবাব মনে হয়েছিলো। এর কারণ আমার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা।

কিছুদিন আগে বিপাকে পড়ে মন্ত্রীপাড়ায় গিয়েছিলাম, এক জাদরেল প্রতিমন্ত্রীর কাছে আমার সমস্যা নিয়ে একটু সহায়তা চাইতে। তার কাছে কোন অবৈধ সুবিধা পেতে আমি যাইনি। অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করাতে প্রশাসন দলীয় লোকজনকে সাপোর্ট দিচ্ছে অনৈতিক ভাবে। তারা নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করলে আমি ন্যায় বিচার পাবো। শুধু এ নিরপেক্ষতার আশায়ই তার কাছে গিয়েছিলাম এই ভেবে যে, তার সামান্য একটা কথায় হয়তো সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং দলীয় প্রভাবটাকে বড় করে না দেখে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করে যাবে।

ওয়েটিং রুমে বসে আছি আরো অনেকের সাথে। তিনি দর্শনার্থীদের সাক্ষাতকার নিচ্ছেন। তিনি নামাজ পড়ার জন্য অভ্যর্থনা কক্ষ দিয়ে অপর একটি রুমে গেলেন। সাধারণ একটা শার্ট আর লুঙ্গি পড়ে আছেন। বের হবার সময় অপেক্ষমান লোকদের মাঝ থেকে একজনকে নিজে এসে হাত দিয়ে টেনে চেয়ার থেকে উঠালেন। ‘আরে তুমি?’ বলে বুকে টেনে নিলেন। তারপর তিনি তাকে তার বাসার ভেতরে নিয়ে গেলেন। জীর্ণ ,ময়লা পোষাক পরা লোকটাকে জড়িয়ে ধরে যে ভালোবাসার মানসিকতার পরিচয় তিনি দিলেন, তাতে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের হৃদয়ের গভীরতা সম্পর্কে ধারণা পেলাম। উপস্থিত সকলে এ দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হলো।

তারপর তিনি নামাজ পড়ে এলেন। তখন দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আমরা একটু এগিয়ে গেলাম। আমার কাজিন (যাকে মন্ত্রী সাহেব চেনেন) তার যাবার পথে সালাম দিলেন। ‘ ‘তুমি? বাসার সবাই ভালো তো? আসো ভেতরে আসো।’’ আমরা বেশি অপেক্ষা ছাড়াই ভেতরে ঢুকে গেলাম। মন্ত্রীসাহেব নিজেই আমাদের নিয়ে এলেন। প্রতিদিন টিভিতে তাকে আগ্রাসী ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখি। আর আজকের এ লোকটির সাথে সে টিভিতে দেখা লোকটির কোন মিলই নেই। মনে মনে ভাবি, আমার কাজটা হবে হয়তো। তার আচার ব্যবহার দেখে নিজেকে আশাবাদী মনে হয়।

আমরা তার অফিস কক্ষে ঢুকে বসলাম।এর মাঝে আর এক গ্রুপ বসে আছে পেছনের চেয়ারে। আমার কথা শুরু করলাম। ফাঁকে ফাঁকে তাদের সাথেও কথা বলছেন তিনি। তার এলাকার কোন একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি’র নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের ভরাডুবি হয়েছে। কেন হয়েছে? কীভাবে হয়েছে তার পোষ্ট মর্টেম চলছে। তিনি উপস্থিত কর্মী/শিক্ষকদের রীতিমতো গালি গালাজ করছেন। আমিতো হতবাক। তিনি মানতেই পারছেন না পরাজয়।

-তোমরা কি করছিলা? হা কইরা বইসা ছিলা? কেমনে এখানে বিরোধী দলের জায়গা হইলো?
-স্যার, এটা ষড়যন্ত্র। নির্বাচনটা নিরপেক্ষ হয় নাই।
-নির্বাচন কমিশনে কি আমাদের লোকজন ছিলো না? তারা কি কিছু করতে পারে নাই? মন্ত্রী সাহেব উল্টো তাকে ধমক দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন।

তিনি আমার কথা শুনছেন আর ওদের সাথে কথাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি এর মধ্যে আমার কথা যতোটা সংক্ষেপে বলা যায় বললাম, কাগজপত্র ও দেখাতে চাইলাম। তিনি দেখতে চাইলেন না। তিনি যখন আমার কাছ থেকে জানলেন যে তার দলীয় কর্মীই আমার সাথে বিরোধের মূল হোতা তিনি যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

আমার কাজিনকে বললেন, দেখো আমি কিন্তু আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষদের সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেই, তুমি যাকে নিয়ে এসেছো সে তো আমার নির্বাচনী এলাকার না। এবার আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, এখনতো হরতাল এর ঝামেলা নিয়ে আছি, কদিন পরে আসেন দেখি কী করা যায়।

আমরা বের হলাম। দরজাটা পার হলাম। ভাবলাম দরজার এ পাশের মানুষটাকে যেমন দেখলাম, দরজার ওপাশের মানুষটাকে তেমন দেখলাম না কেন?