ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

নোয়াখালী, ১৯ এপ্রিল (শীর্ষ নিউজ ডটকম): নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় গ্রাম্য মতব্বররা শালিসের রায়ে এক স্কুলছাত্রীর ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করেছে ৫০ হাজার টাকা। সে টাকারও পুরোটা ভিকটিমের পরিবারের ভাগ্যে জোটেনি। সোমবার রাতে ভিকটিমের বাবা-মাকে পুলিশ থানায় আনলেও ভয়ে তারা গ্রাম্য মাতুব্বরদের বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস পাননি।
জানা গেছে, গত ১৪ এপ্রিল সকালে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের কাজিম উদ্দিন পাটোয়ারী বাড়ির আহম্মদ উল্যাহর মেয়ে ও স্থানীয় হাই স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে (১১) বাড়ির পাশের ধান ক্ষেতে ধর্ষণ করে একই এলাকার মৃত মাওলার ছেলে ৪ সন্তানের জনক লম্পট ছোলেমান ওরফে হুক্কা (৪৫)। ঘটনার পর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ও সাবেক মেম্বার আজাদ শালিস করার কথা বলে কাউকে না জানিয়ে মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে নিষেধ করে। পরে ধর্ষিতার প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে ঘটনার দুই দিন পর গত ১৬ এপ্রিল স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য ইউপি চেয়ারম্যানের নিয়োগ করা গ্রাম্য মতব্বররা এক শালিসে ধর্ষক হুক্কার ৫০ হাজার টাকা জরিমান করে। ওই টাকারও পুরোটা ভিকটিমের পরিবার পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার রাতে বিষয়টি জানার পর সংবাদকর্মীরা বেগমগঞ্জ থানার ওসিকে জানালে ধর্ষণের ঘটনায় তার কিছুই করার নেই বলে জানিয়ে দেন। পরে সাংবাদিকরা এএসপি সার্কেলকে (বেগমগঞ্জ) জানালে তিনি প্রাথমিক আইনগত ব্যবস্থা নেন। সোমবার এসআই ইকবাল বাহার চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান। তিনি ধর্ষিতার বাবা-মাকে থানায় মামলা করতে বললেও গ্রাম্য মাতুব্বরদের ভয়ে মামলা করার সাহস পাননি।

এসআই ইকবার বাহার চৌধুরী জানান, ভিকটিমের পরিবার মামলা না করায় আপাতত জিডি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদলতকে অবহিত করে রাখবো।