ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

দেশের মুল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সন্দ্বীপ উপজেলাটি জলবায়ু পরিবর্তনে যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব চেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলে অগ্রাধিকারে নেই সন্দ্বীপের নাম। উপকূলীয় এলাকা হিসেবে নাম মাত্র কিছু বরাদ্দ জুটেছে এই উপজেলাটির ভাগ্যে । যা দিয়ে ছোট খাটো কিছু এলাকা ভিত্তিক রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন ছাড়া আর কিছু করা সম্ভব নয় বলে জানা যায় সংশ্লিষ্ট মহল থেকে।এই ব্যাপারে জানতে গেলে জানা যায় জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ করা টাকা অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে সয়ং মন্ত্রনালয়ে । এ প্রকল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ ও উপকূলীয় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সহযোগিতা দেয়ার কথা থাকলেও, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। অথচ উপকূল না হলেও বর্তমান বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের এলাকায় রয়েছে প্রকল্পের ছড়াছড়ি। চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে ব্রিজ, সেচ উন্নয়নের জন্য রাবার ড্যাম। উপকূল রক্ষায় যেসব প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল সেসব প্রস্তাবনার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড আশানুরূপ কোন সাড়া পাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম বিভাগ-২ সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্প থেকে বরাদ্দ পাওয়ার জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, ও সীতাকুণ্ড এলাকার বেড়িবাঁধের উন্নয়নের জন্য ১৭৫ কোটি টাকার ৭টি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়। চট্টগ্রাম বিভাগ-১ থেকে আনোয়ারা ও পতেঙ্গা এলাকার বেড়িবাঁধ উন্নয়নের জন্য ১২০ কোটি টাকার ২টি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সে সব প্রস্তাবে কোনো সাড়া দেয়নি মন্ত্রনালয় । এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়–য়া বলেন,এই বরাদ্দ গুলো মুলত উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য হলে ও আমরা প্রকল্প পাঠিয়ে বরাদ্দ পাচ্ছি না, কিন্তু কিছু জায়গায় সেচ প্রকল্পের জন্য খরচ হচ্ছে এই টাকা । এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. ইসমাইল হোসেন বলেন গত জুনে বর্ষা মৌসুমে আমরা প্রকল্পের অনুমোদন পেয়েছি। বর্ষা মৌসুম থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি। তবে উপকূল রক্ষার কাজ না করে সেচ প্রকল্পে কেন জলবায়ুর টাকা ব্যয় করার অর্থ আমার কাছে বোধগম্য নয়।’ উল্লেখ্য ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদী ও সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে এ সময় প্রায় অর্ধলাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। বর্তমানে এসব এলাকার বেড়িবাঁধ অরক্ষিত ও ভেঙে যাওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে। তার মধ্যে উপকূলীয় এলাকা হিসেবে সন্দ্বীপ এলাকাটি ইতি মধ্যে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত হলেও প্রায় চার লক্ষ লোকের বসবাসের এই দ্বীপটির জন্য নেই কোন বিশেষ বরাদ্দ। তবে সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায় ইতি মধ্যে সন্দ্বীপের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ কিছু সাইক্লোন সেল্টার মেরামতের জন্য বেসরকারী সংস্থা কারিতাস কিছু বরাদ্দ দিলে ও আর তেমন কোন বরাদ্দ নেই এই তহবিল থেকে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় যেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সন্দ্বীপের মতো এই ধরনের এলাকায় বাঁধ-সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, কৃষি জমি রক্ষা ও উপকূলে ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতায় প্রকল্পের টাকা ব্যয় করা উচিত সেখানে বন ও পরিবেশমন্ত্রীর নিজের নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়ায় ব্রিজ কিংবা অন্যান্য এলাকায় সেচ প্রকল্পে ব্যয় করা হচ্ছে।