ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

জীবনের ব্যস্ততা আজ বড় নিষ্ঠুর করে দিয়েছে মানুষের মনকে। কত স্মৃতি মনে পড়ে আজ মনের গোধূলিতে। ছুটে চলা দিগন্ত পথ, গ্রামের প্রকৃতির সুনির্মল আবাসন। বিশেষ করে বর্ষার সময় দিগন্ত জোড়া মাঠে চারদিকে পানিতে টুইটম্বুর। নতুন পানিতে ব্যাঙের বিরামহীন ডেকে চলা। সন্ধ্যার সময় মেঠো পথ দিয়ে ছাতা আর টর্চ লাইট নিয়ে হাটুরের হেটে চলা । রাখালের গরু নিয়ে বুক সমান পানিতে সাতরে আসে। সবই যেন স্মৃতি !!!!!! এখন ও কিন্তু গ্রামে গেলে মনের কুটিরে সেই দৃশ্যটুকু দেখার অধির আগ্রহে আপেক্ষা করি। কিন্তু তার দেখা যে পাইনা, তখন তো গ্রামে ছিলনা বিজলী বাতির ঝিলিক, সাধারন কেরোসিনের কুপিতে ঝলমল করত কৃষক-কৃষাণির ঘর। ছোট ছেলে মেয়েরা সন্ধ্যার সাথে সাথে বসে পড়ত পড়ার টেবিলে। কিন্তু এখন ঘরে ঘরে জ্বলছে সৌর চালিত বিদুৎ। আলোকিত ঘর আলোকিত বাড়ির আঙ্গিনা যেন শহুরে জীবনের এক পশলা ছোয়া। যদিও আমার শৈশবের পুরো ভাগটাই কেটেছে বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ জনপদে। নামটি তার সন্দ্বীপ। দেখেছি সাগরের হাজারও জল রাশির সাথে মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামের জীবন চিত্র। কখনো নিদ্রাহীন কখনো ক্লান্তিহীন রাত জেগে সমুদ্রের সাথে নিরন্তর ছুটে চলা। ভাগ্যে কি ঘটে একমাত্র বিধাতাই জানে। তারপরও নেই তাদের থেমে চলা। জীবনের তাগিদে শরীরের শেষ রক্ত টুকু তারা জ্বেলে দেয় পরিবার পরিজনের জন্য।