ক্যাটেগরিঃ ফটো

 

দক্ষিন সন্দ্বীপের অবহেলিত ইউনিয়নের মধ্যে একটি সারিকাইত ইউনিয়ন। উত্তাল প্রমত্ত মেঘনার স্রোত আর বিরামহীনভাবে নদী ভাঙ্গনের শিকার এই ইউনিয়নের চল্লিশ হাজার মানুষ। গত তিন মাস আগে বর্ষার প্রবল জোয়ারে ভেঙ্গে গেছে এখানকার দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের বেড়িবাধটি। আর এই ভাঙ্গনের কারনে প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি ঢুকছে এখানকার জনবসতিতে। নষ্ট হয়ে গেছে বিস্তৃর্ন ফসলের মাঠ আর মৎস চাষের ঘেড়। এই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড এলাকার বেড়িবাধটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে বিশাল এক খাল তৈরী হয়ে প্রতিনিয়ত ডুবে যাচ্ছে এখানকার বাডির আঙ্গিনা গুলো। মো: আবুল কালাম নামের এক কৃষক জানান এই অবস্থায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের সর্ব শেষ যে চাষের জমি টুকু আছে তাতেও আর চাষবাষ করা আর সম্ভব হবে না। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে একসময়কার সন্দ্বীপের শষ্য ভান্ডার বলে খ্যাত কালির চরের বিস্তৃর্ন অঞ্চল পুরোটাই চলে গেছে সাগরের গর্বে। এখন এই এলাকার মানুষের শেষসম্ভল টুকু যা আছে তাও আজ বিলিন হওয়ার পথে। ১৯৯৬-২০০০ সাল আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সাবেক এম পি দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমানের প্রচেষ্টায় এই এ্লাকায় পূর্বে মগধরা ইউনিয়ন থেকে পশ্চিমে বাংলা বাজার পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটারের বেড়ি বাধটি নির্মান করা হয়। কিন্তু নির্মানের পর থেকে এই পর্যন্ত কোন সংস্কারের উদ্যেগ নেওয়া হয়নি। যার কারনে বর্ষার ভরা মৌসুমের পানির তীব্রতায় ভেঙ্গে গেছে দক্ষিন সন্দ্বীপ রক্ষার এই বেড়ি বাধটি। এই ব্যপারে জানতে চাওয়া হলে সন্দ্বীপ থানার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই আল মাহমুদ জানান বেড়ি বাধটি ভেঙ্গে যাওযার পর থেকে সন্দ্বীপকে রক্ষার জন্য স্থায়ীভাবে এই ইউনিয়নে একটি টেকসই বেড়িবাধ নির্মান করার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে খুবই দু:খের বিষয় যে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চল হলেও স্থায়ীভাবে নেই এখানে কোন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কর্মকর্তা। নেই কোন স্থায়ী অফিস। এই ব্যাপারে আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। তারা খুব শিঘ্রই এখানে পরিদর্শন করবেন বলে জানিয়েছেন। সব আশাকে বেঁছে থাকার সম্বল করে এখানকার পঞ্চাশ হাজার মানুষের দাবি এই মৌসুমে যেন তাদের বেছে থাকার একমাত্র সহায়ক বেড়িবাধ টুকু সংস্কার করা হয়।