ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

নদীর ধারে ধ্যানরত সক্রেটিসকে হটাৎ সন্যবাহিনী ঘিরে ফেললে আচমকা ধ্যান ভাঙ্গা সক্রেটিস বলে উঠেছিলেন –‘কীল মি , বাট নট কীল মাই ফিগার !’ অবশ্য আমি আজ এ কথার কোন গভীর এবং বিস্তারিত তাৎপর্যে যাব না , শুধু বলবো – একজন ব্যাক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যায় , হয়তো সামগ্রিক ভাবে ধ্বংসও করা যেতে পারে …কিন্তু তাঁর ‘ফিগার’কে ? –সম্ভব নয় । ইতিহাস তার সাক্ষী । এক্ষেত্রে বরং আমরা যুগে যুগে এমনও দেখেছি – বহু ব্যাক্তি তাঁর মৃত্যুর শত শত বছর পরও সেলিব্রেটি হয়ে উঠেছেন। তৈরি হয়েছে জনপ্রিয় মৃত্যুঞ্জয়ী ‘ফিগার’ । সেক্সপিয়র কিংবা সক্রেটিস নিজেই তার উদাহরণ ।

আমি ইফতি আবীর , নেহায়েত অতি সাধারণ একজন ( তবে যে কথাটি বেশ দায়িত্ব নিয়েই বলতে চাই তা হল , মুক্তি যুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ) বাংলাদেশের নাগরিক । তবে দু-একজন আমাকে প্রচার বিমুখ বা কারো কারো ভাষায় নিভৃতচারী কবি কিংবা সাহিত্যিক হিসেবে জানে। আমার সাহিত্যিক জীবন অতোটা গৌরবান্বিত (বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও লিটল ম্যাগে প্রকাশিত সব সুদ্ধ ডজন খানেক গল্প / কবিতা ও এক মাত্র উপন্যাস -২০০৩ সালের একুশে বই মেলায় ‘শ্রাবণ প্রকাশনী’ থেকে প্রকাশিত ) না হলেও , আমার কোন কোন শুভাকাঙ্ক্ষী কবি বন্ধু প্রায়ই , প্রতিভার (!) সদ্যবহার হচ্ছে না বলে বেশ জোরে সোরেই অভিযোগ করে থাকেন । তবে আমার প্রতিভা কতোটুকু আছে অথবা আদৌ সেটা আছে কিনা -তা কোন অবস্থাতেই আজকের এ লেখার বিবেচ্য বিষয় নয় । বরং বলা যায়, এই প্রথম বারের মতো আমি কলম ধরেছি –কোন সৃজনশীল সাহিত্য কর্মের উদ্দেশ্যে নয় । সাম্প্রতিক কালে আমি যে মর্ম পীড়ার যাঁতাকলে পৃষ্ঠ হচ্ছি তার কিয়ংদশ বর্ণনা করে এতোটুকু স্বস্থির নিঃশ্বাস নেয়ার মানসে ।

বিগত ২০০৭ সালের আগস্ট মাস , আমাকে আমূল নাড়িয়ে দিয়েছিলো একটি বাক্য – আর তা হল , ডিএসটিসি’র একজন বিভাগীয় ট্রেনার/ পিএসডি তাকবির হাসান বলছিলেন – ‘কখনও মিথ্যা কথা বলা যাবে না …।‘ বিশেষত আমি চমকে উঠেছিলাম এ জন্য যে , আমি তখন একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে (ফারমাসিউটিক্যালস) জব করতাম । এবং সেখানে –‘বেঁচে থাকার তাগিদে মাঝে মধ্যে মিথ্যে বলতে হয়…’ –এমন একটি বিষয় মোটামুটি রপ্ত করতে পেরেছিলাম । যেমন –‘প্লিজ ডক্টর , আমি যদি আপনাকে দিয়ে অন্তত এই এই প্রোডাক্ট গুলো না লেখাতে পারি তাহলে বস বলেছে আমার চাকরী থাকবে না …’ অথবা কোন কেমিস্ট্রি নিকট –‘ভাই যদি এ মাসে আপনি অন্তত এত টাকার প্রোডাক্ট না নেন তাহলে আমার সেলস টার্গেট এচিভ হবে না এবং সে ক্ষেত্রে চাকরী বাঁচাতে পারবো না …’ ইত্যাদি । আমি দুঃখিত কোন পেশাকেই ছোট করবার ন্যূন্যতম অভিপ্রায় আমার নেই । বরং আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি –সৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত যে কোন কর্মই অত্যন্ত মহৎ ।

যা হোক , যা বলছিলাম – এই যখন অবস্থা , সেখানে তাকবির হাসান কিনা বলছে –‘হনেস্ট্রি ইজ দ্য অনলি পলেসি …!’ অবাক হবার মতোই ব্যাপার বটে !

তাকবির হাসান সেদিন আরও কিছু কথা বলছিলেন ,-কাউকে লোভ দেখানো যাবে না , প্রতারণা করা যাবে না , সবসময় হাসিমুখে থাকতে হবে , রাগান্বিত হওয়া যাবে না …’ এবং সর্বোপরি বিশ্বাস ও স্বপ্ন থাকতে হবে ইত্যাদি । -কথাগুলো নিঃসন্দেহে শুভ ও সুন্দর । আমার মনে হয়েছিলো – যে প্রতিষ্ঠানে এমন শিক্ষা দেয়া হয় , সে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও কাজ কোন ক্রমেই মন্দ হতে পারে না । সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম – হ্যাঁ , আমি এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করবো ।

আমি ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড এর কথাই বলছি । এখনে বলে রাখা ভালো , বর্তমানে আমি আমার আরও যে পরিচয়টি দিতে বেশ গর্ব বোধ করি তা হল – আমি ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের একজন গর্বিত স্বাধীন ক্রেতা পরিবেশক । এ ব্যাপারে একটি বিষয় আমি কিছুতেই না উল্লেখ করে পারছি না যে – গত কয়দিন পূর্বে আমার কোন এক কবি বন্ধু আমাকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে তাঁর আইডিতে স্ট্যাটাস লিখেছিল –‘ আমার এক বড় ভাই + বন্ধু সম্প্রতি ফেসবুকের মাধ্যমে ডেসটিনির স্বপক্ষপ্রচারণায় নিয়োজিত হয়েছেন । বিষয়টিকে আমি খুব দায়িত্ব নিয়ে ঘৃণা করে থাকি । ফলে তাঁর এসব প্রচারণামূলক পোস্ট দেখে ইদানীং ভীষণ বিরক্ত বোধ করছি । কিন্তু যেহেতু অন্যান্য কিছু বিষয়ে তিনি আমার কাছে অগ্রগণ্য ও সন্মানীয় , সেহেতু তাকে আনফ্রেন্ডও করতে পারছি না । ফলে তাঁর প্রতি আমার রিকুয়েস্ট –আপনি অতি শীগ্রই এসমস্ত প্রতারণামূলক প্রচারণা থেকে সরে আসুন , নচেৎ আমাকে আনফ্রেড করে কৃতজ্ঞ করুন।‘ আমি সে স্ট্যাটাসটা পড়ার পর সানন্দে এবং বলা যায় মহা উৎসাহ নিয়ে বন্ধুটিকে আমার ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে মুক্ত করে দিয়েছি । শুধু তাঁকে কেন , আমার প্রাণের প্রতিষ্ঠান ডেসটিনিকে ভালোবাসার অপরাধে যদি কোন ব্যাক্তি আমাকে ত্যাগ করতে চায় – তাহলে সে যেই হোক , আমি নুন্যতম বাধা দেব না । বরং ডেসটিনিকে আমি আমার জীবনের চেয়েও বেশী ভালোবাসি । এবং আমি বিশ্বাস করি – যেহেতু আমি আমার মা’কে ভালোবাসি , যেহেতু আমি আমার দেশকে ভালোবাসি , যেহেতু আমি এ পৃথিবীটাকে ভালোবাসি এবং সর্বোপরি যেহেতু আমি আমার স্ত্রী –সন্তান –আমার অনাগত প্রজন্ম ও মানুষকে ভালোবাসি – তাই আমার ডেসটিনিকে ভালোবাসা উচিৎ ।

ডেসটিনির নাম নিলেই অবধারিত ভাবে যে ব্যক্তিটির নাম প্রথমেই চলে আসে –তিনি হলেন মোহাম্মদ রফিকুল আমিন । আমি এ কথাটি বেশ দায়িত্ব নিয়েই বলতে চাই যে , আমার এই এক জীবনে দেখা অত্যাশ্চর্য বিস্ময়কর এক প্রতিভার নাম মোহাম্মদ রফিকুল আমিন । আমার পছন্দের মনিষীদের তালিকায় হয়তো অনেকের নামই আছে । তাদের মধ্যে কাউকে বড় কিংবা ছোট করার ইচ্ছে নিয়ে নয় , কোন চাটুকারিতা কিংবা তোষামোদিতার অভিপ্রায়েও নয় …প্রাণের অসংযত আবেগকে স্বাধীনতা দেয়ার জন্যই বলছি – প্লিজ বন্ধুরা , যারা আমাকে জান এবং ভালোবাসো – আর যারা আজ থেকে আমাকে নতুন করে জানলে – তাদের সকলকে আমি এ মর্মে শতভাগ গ্যারেন্টি দিতে চাই যে –মোহাম্মদ রফিকুল আমিনের পক্ষে কোন দেশ –জাতি কিংবা মানুষতো দূর থাক ক্ষুদ্র একটি পিপীলিকার ক্ষতি হওয়াও একেবারে অসম্ভব । রফিকুল আমিন নির্ভেজাল সাদা মনের –একজন নিরহংকারী , নির্মোহ , নির্ঝঞ্ঝাট ও নিরীহ টাইপের অত্যান্ত ভাল মানুষ । আমি তাকে ভালোবাসি ।

এবং বিশ্বাস করি – ‘নো প্রবলেম , ইম্পসিবল ইজ নাথিং , বি অলওয়েজ পজেটিভ , ইউ আর হোয়াট ইউ থিংক …এবং প্রয়েক্টিভ এটিচ্যুড’ –শব্দগুলোর জন্য হলেও বাঙালি জাতির পক্ষে রফিকুল আমিনকে কোনোদিন ভুলে যাওয়া সম্ভব নয় । এমনকি তাকে যদি উদ্দেশ্যমূলক ধ্বংস করার চেষ্টাও করা হয় – তাহলে বেঁচে থাকবে তাঁর ‘ফিগার’ অনেকটা সক্রেটিশের মতোই ।

তবে এটা ঠিক , ডেসটিনির জন্য মোহাম্মদ রফিকুল আমিন খুব গুরুত্বপূর্ণ পারসন হলেও প্রতিষ্ঠানটি কেবল মাত্র রফিকুল আমিন নির্ভর নয় । তিনি বেশ দক্ষতার সহিত হুবুহু তাঁর মতো না হলেও , এক্ষেত্রে বলা যায় –অনেকটাই তাঁর মতো অসংখ্য রফিকুল আমিন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন । এবং এটাই হল যে কোন পরিস্থিতিতেই ডেসটিনিকে নিয়ে পরিপূর্ণ আশাবাদ ও আশ্বস্থ থাকতে পারার মূল সিক্রেট ।

আমি ডেসটিনির একজন ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে এটা বেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ডেসটিনি যে গোল সেটআপ করেছে –তা অবাস্তব কোন কিছু নয় । ডেসটিনির প্রতিটি টার্গেট অর্জনযোগ্য এবং ডেসটিনির প্রতিটি পদক্ষেপ সুচিন্তিত । তবে মানুষ মাত্রই ভুল করে এবং যেহেতু মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্যের কারনেই কাজ করতে গেলে অনিচ্ছাকৃত অনেক ভুল স্বাভাবিক ঘটনা , সেহেতু সে ভুল শুধরে নেয়ার প্রস্তুতি ও মানসিকতা ডেসটিনির সর্বাবস্থায়ই বিরাজ থাকে । এবং আরও একটি কথা এখানে না বললেই নয় যে , –ডেসটিনি বিশ্বাস করে , কাজ করতে গেলে (বিশেষ করে যদি সেটা হয় কল্যাণকর কাজ) বাধা আসবেই , এবং কোন বাধাই অনতিক্রম্য নয় ।

ডেসটিনির মূল শ্লোগান হল – ‘টুগেদার উই বিল্ড আওয়ার ড্রিম’। যেখানে প্রথম ও প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল –অর্থনৈতিক স্বাধীনতা । ডক্টর রফিকুল আমিন মনে করেন – সুইজারল্যান্ড কিংবা নরওয়ে বাসীর তুলনায় বাঙালি জাতি কোন বিচারেই কম মেধাবী নয় । ঐসব দেশের আবহাওয়ার তুলনায় বাংলাদেশের আবহাওয়া মোটেই বিরূপ নয় । সর্বোপরি ঐ দেশের মাটির তুলনায় বাঙলার মাটিও কম উর্বর নয় –তাহলে , বাঙালি জাতি পিছিয়ে থাকার মূল মাজেজা কী হতে পারে ? তবে কি সৃষ্টিকর্তা পক্ষপাতিত্ব করছেন ? –সেটাও তো সম্ভব নয় , তাহলে ?

মিস্টার আমিন শেষতক আইডেন্টিফাই করতে সক্ষম হয়েছেন- বেসিক যে কারণটা ওদের এবং আমাদের মধ্যে তফাৎ তৈরি করেছে তা হল –এটিচ্যুড । হ্যাঁ , শুধুমাত্র এটিচ্যুড পরিবর্তন করলেই বদলে যাবে বাঙালি জাতির ভাগ্য । এবং বদলে যাবে ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত এই সোনার দেশ । অতএব শুধুমাত্র একটি শব্দের পরিবর্তনের অভাবে বাঙালি জাতি যুগ যুগ ধরে পিছিয়ে থাকতে পারে না । তাইতো ডেসটিনি বার বার বলে –‘চ্যাঞ্জ ইউর এটিচ্যুড এন্ড চ্যাঞ্জ ইউর লাইফ’!

অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ধারাবাহিকতায় ডেসটিনির অর্জনযোগ্য অন্যান্য বিবেচ্য বিষয়গুলো হল যথাক্রমে বেকার মুক্ত , ক্ষুধা মুক্ত ও দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ । পাঠক একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন যে – একটি অর্জিত হলে তারই ধারাবাহিকতায় অন্যগুলোও হয়ে যায় অর্জিত বাস্তব ।

ডেসটিনি আরও একটি কথা খুব বেশি বেশি উচ্চারণ করে –তা হল, সবুজ এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ । এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে আরও যে শব্দগুলো এসেছে তা হল- সুস্বাস্থ্য , প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিউর…ইত্যাদি । এ জন্যেই তার প্রতিটি পণ্য চয়েজ (যেহেতু এটি একটি বিপণন সংস্থা) এবং পদক্ষেপে এ বিষয়গুলো অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত থাকে । যেমন- ফুড সাপ্লিমেন্ট , প্রুবায়টিক , বৃক্ষ রোপণ , জৈব সার , ইকোনেট, গ্রিন স্মার্ট সুইচ , পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মত আবাসন , কাগজবিহীন গ্রিন অফিস...ইত্যাদি। ডেসটিনি বিশ্বাস করে এর মাধ্যমেই তৈরি হতে পারে একটি সুশিক্ষিত , স্বাস্থ্যবান , কুসংস্কার মুক্ত ও সর্বোপরি বিজ্ঞান্মনস্ক আধুনিক জাতি ।

আমরা যারা ডেসটিনির ডিস্ট্রিবিউট্রর তারা বাইরে কান রাখলে এখনও শুনতে পাই – সরকার এটা করেনি , সেটা করেনি , এই করলে ভাল হত , সেটা করা উচিত ছিল তাছাড়া ‘বদলে দাও- বদলে যাও ‘…ইত্যাদি । কিন্তু ডেসটিনি বিশ্বাস করে শুধু বললেই হবে না ,বিড়ালের গলায় ঘণ্টাটা কাউকে না কাউকে বাধতেই হবে । এককথায় বসে না থেকে শুরু করতে হবে । মোহাম্মদ রফিকুল আমিন একটি কথা প্রায়ই বলে থাকেন –‘দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪০ বছর এবং চল্লিশ বছর যথেষ্ট সময় একটি দেশকে স্বাভলম্বি হবার জন্য’ । তাছাড়া ডেসটিনি বিশ্বাস করে –সরকারের একার পক্ষে দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয় । জনগণ নিয়েই তো সরকার । দেশ পরিবর্তনের জন্য এগিয়ে আসতে হবে সর্বস্তরের জনগণকে ।

এ পর্যায়ে এসে অনেকে হয়তো প্রশ্ন করবেন –দেশ পরিবর্তনের জন্য বিপণনকে কেন বেছে নেয়া হল ? –এর উত্তরে আমি বলবো , বিষয়টা চয়েজের নয় , বরং বলা যায় একটা জাতিকে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য বিপণন হল সবচেয়ে কার্যকরী ও টেকসই মাধ্যম । পৃথিবীতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে যতকিছু ঘটছে –তার মূলে রয়েছে এ পণ্য বিপণন তথা বাজার তৈরি । আজকে জাপানকে যে অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হয় তা কিন্তু কোন পারমাণবিক শক্তির জন্য নয় , বরং তা হল তাদের প্রোডাক্ট ও প্রোডাক্টের বাজার । অথচ পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানকে বিশ্ব কুর্ণিশ করা তো দূরে থাক –বেশ অবজ্ঞাই করে বলা চলে । এ থেকে সহজেই প্রমাণিত হয় আগামি দিনের বিশ্ব কারা ডমিনেট করবে ,-এক কথায় যাদের হাতে বাজার থাকবে । এবং ডেসটিনি যেটা করছে সেটা হল বাজার তৈরি । এ বছরের মধ্যেই ডেসটিনির টার্গেট ছিল –তার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড কার্যক্রমের মাধ্যমে কমপক্ষে ১২টি দেশে বাজার সম্প্রসারণ করা । যার ধারাবাহিকতায় ডেসটিনি ইতিপূর্বেই অন্তত দুটো যুগান্তকারী পরিবেশ বান্ধব প্রোডাক্ট (স্মার্ট সুইচ ও ইকোনেট) সারা বিশ্বব্যাপী বিপণনের ‘মার্কেটিং স্বত্ব’ কিনে নিয়েছে । যা ডেসটিনি তো বটেই বাংলাদেশের জন্যও গর্বের বিষয় । এ ছাড়াও ডেসটিনির রয়েছে বেশ কিছু চমৎকার চমৎকার প্রোডাক্ট যা বিশ্বব্যাপী খুবই সমাদৃত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি । ফলে এসব প্রোডাক্ট ও ডেসটিনির উদ্ভাবিত অত্যাধুনিক মার্কেটিং টেকনোলজি বিপণনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাউন্ড / ডলার / ইয়েন / ইউরো …আসতে বাধ্য । ডেসটিনি মনে করে – আমরা যদি কেবল আমাদের প্রোডাক্ট ব্যাবহার বৃদ্ধি করি তাহলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং তৈরি হবে কোটি মানুষের কর্মসংস্থান । যে লক্ষে ডেসটিনি ইতিপূর্বেই প্রায় ৪৫ লক্ষ কনজ্যুমার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে । যা বার সালের শেষ নাগাত ১ কোটিতে উন্নীত হবার কথা ছিল ।

যাহোক , লেখাটি দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার কারণে ইচ্ছে থাকলেও অনেক কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না । হয়তো অন্য এক সময় এ বিষয়ে আরও কিছু লেখার প্রত্যাশা থাকলো । এখন শুধু মোহাম্মদ রফিকুল আমিনের ভাষায় বলবো ”…প্লিজ দয়া করে আমাদেরকে কাজ করতে দিন । আমরা আর কিছু চাই না , চাই শুধু বাঁধাহীন ভাবে কাজ করার স্বাধীনতা । এবং বাধা না দেয়াটাই হবে –আমাদের ব্যাপারে সব চেয়ে বড় সহযোগিতা … ।

আমি এ ব্যাপারে বিশেষ করে (বিশেষ কিছু) মিডিয়াকে বলবো – দয়া করে আমাদের নিকট আসুন । দেখুন আমরা কী করছি । আমাদেরকে জানুন । তারপর লিখুন । অযথা জাতিকে বিভ্রান্ত করবেন না । এবং এ বিষয়টা আপনাদের জানানো বিশেষ প্রয়োজন বোধ করছি যে , শুধু আড়াই মাস কেন আড়াই শো বছর মিথ্যাচার করলেও ডেসটিনির একজন ডিস্ট্রিবিউটরকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হবে না । কাজেই গঠনমূলক সমালোচনা করুন । আমরা প্রকৃত সমালোচকদের সবসময় বন্ধু জ্ঞান করি । যদি কোন বন্ধু বা বন্ধুমহলের পানি ঘোলা করা এবং সেখানে মাছ শিকার করা অভিপ্রায় থেকে থাকে –তাহলে বলবো , সম্ভব নয় । ডেসটিনি তার ডিস্ট্রিবিউটরদের এমন শিক্ষা দেয়নি যে রাস্তায় নেমে হৈচৈ করবে , গাড়ি ভাংচুর করবে …।

তাছাড়া ডেসটিনির ৪৫ লক্ষ ডিস্ট্রিবিউটরের মধ্যে অন্তত একজনও – ‘অস্ট্রেলিয়ায় আপেল বাগান , পরিচালকদের নামে লন্ডনে বাড়ি , তাদের একাউন্টে হাজার হাজার কোটি টাকা স্থানান্তর , পাঁচ পরিচালকের পদত্যাগ – পরিচালকগণ ফাইল ছোড়া ছুড়ি , পরস্পরকে গালাগালি , বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের প্রজ্ঞাপনে ডেসটিনিতে বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা , পাওলনিয়া ব্যাপক ক্ষতিকর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দিয়ে টকশো নাটক সহ কোন নিউজই বিন্দুমাত্র গিলেনি ! অতএব বৃথা চেষ্টা করবেন না । তাছাড়া আমরাও এ দেশের নাগরিক । আপনাদেরই প্রতিবেশি / ভাই / বন্ধু ।

পরিশেষে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের আকুল আবেদন , আপনি আমাদের অভিবাবক । আমরা ২ কোটিরও অধিক মানুষ বড় আশা নিয়ে আপনার বিশেষ কৃপা প্রার্থনা করছি । আপনি একটি সুন্দর যুগোপযোগী ডিরেক্ট সেল এক্ট প্রণয়ন করে আমাদের এ প্ল্যাটফর্মটিকে আইনের কাঠামোয় এনে আমাদের পথচলাকে আরও নিস্কন্ঠক ও সাবলিল করে দিন । আমরা কথা দিলাম –আমাদের অনাগত প্রজন্ম আপনার এ অবদানের কথা স্মরণ রাখবে যুগ যুগ ধরে ।

ইফতি আবীর