ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

ঢাকা শহর বসবাসের জন্য কতটুকু অযোগ্য হয়ে গেছে?
রবিবার ২২ মে ২০১৪। একটা সংস্থার নিজস্ব ছোট পরিবহন বিমানে করে যশোর থেকে ঢাকা আসছিলাম। ৩৫ -৪০ মিনিটের ফ্লাইট। যশোর থেকে টেক অফ করে কয়েক মিনিটের মধ্যে ৪ হাজার ফুট উঁচুতে উঠে গেল।

আমি ট্রেন, বাস কিংবা বিমানে বরাবর জানালার পাশে বসাটা খুব উপভোগ করি। এবারের যাত্রায় তার ব্যতিক্রম নেই। আকাশ পথে উড়তে উড়তে আমি নীচের জনপদ, খাল বিল নদী নালার দিকে খেয়াল করি। উপর থেকে ভাল লাগলে আর যদি সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারি তাহলে উপর থেকে দেখা শহর বা গ্রামে আমি সড়ক কিংবা নদী পথে বেড়াতে যাই । নীচের জনপদের পরিচিতি বের করা তাই আমার একটা শখের বিষয় বলা যেতে পারে।

এবারের যাত্রায় পাইলট কিছুটা নতুন পথ অনুসরন করায় বিশাল পদ্মা নদী ছাড়া আমি নীচের পথঘাট ঠিকমত চিনে উঠতে পারিনি। তবে আস্তে আস্তে যখন ঢাকার সীমানায় ঢুকে গেল ছোট্ট বিমানটি, সেটা বিমানের জানালা দিয়ে ঠিকই বুঝতে পেরেছি। ঢাকার কাছাকাছি আসতেই ৪ হাজার ফুট উপর থেকে ১২০০ ফুটে নেমে এসেছে বিমানটি। নীচের সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

হঠাৎ বিমানের কেবিনে তীব্র দুর্গন্ধ। যেহেতু ছোট বিমান তাই এর কেবিন সম্পূর্ন প্রেশারাইজড নয়। দুর্গন্ধের কারন অনুসন্ধান করতে গেলে তখন আইনস্টাইন হওয়ার দরকার ছিলনা। সামনে ২-৩ কিলোমিটারের দূরে বুড়িগঙ্গা নদী দেখা যায়। সরাসরি নীচে তখন সারি সারি ইটের ভাটা। বেশির ভাগ ভাটার আগুন নিভে গেছে বেশ কিছু দিন আগে। বৃষ্টির পানি জমে আছে এখানে সেখানে। তার মাঝে পচা দুর্গন্ধ ১২০০ ফুট উপরে বিমানের সেমি-প্রেশারাইজড কেবিন অবদি পৌছে গেছে। উপরে আর কতো উচ্চতা পর্যন্ত সেই দুর্গন্ধ টের পাওয়া যাবে জানি না। ২ হাজার ফুট, ৩ হাজার ফুট ????

নীচে ঢাকার বেড়িবাধ এলাকা দিয়ে যেতে দুর্গন্ধ ২৪ ঘন্টা। সেই দুর্গন্ধ ১২০০ ফুট উঁচু পর্যন্ত পৌঁছে গেছে সেটা ছিল আমার জন্য সত্যিই এক বিস্ময়!!!!!!!