ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ স্বীকার করুন আর নাই করুন এটা সূর্যালোকের মত সত্যি যে, গত ৩-৪ বৎসর যাবত প্রায় প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ডঃ জাফর ইকবাল এবং বেশ কিছু ছাত্র -ছাত্রী গতকাল ঢাকায় বৃষ্টিতে ভিজে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ডঃ জাফর ইকবাল এর মধ্যে বেশ কিছু পত্র পত্রিকায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কলাম লিখেছেন। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং তার অধঃস্তন শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান স্বভাব সুলভ ভাবে অনেক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

২০১০ সালে আমার ছেলে-মেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছিল। তখন আমার হাতে অন্তত তিনটি বিষয়ের প্রশ্ন এসেছিল যার সাথে পরীক্ষার হলে প্রদত্ত প্রশ্নের হুবহু মিল ছিল। ২০১৩ সালের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় বেশ কিছু প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল। একই বছর আমার ছেলে এবং মেয়ে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। শারিরীক শিক্ষা এবং ধর্মীয় শিক্ষা বাদে জেএসসি’র প্রতিটি প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। ঢাকার ফার্মগেটে একটি নামকরা বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত ফটোকপির দোকানে রাত ১০ টা নাগাদ প্রতি কপি প্রশ্ন ২০ টাকা করে আমার চোখের সামনে বিক্রি হয়েছে। আমি নিজে অঙ্ক পরীক্ষার প্রশ্ন কিনে রেখে দিয়েছি, পরদিন পরীক্ষার পর হলে সাপ্লাই দেয়া প্রশ্নের সাথে মিলিয়ে দেখছি – দাঁড়ি, কমা সহ ১০০ ভাগ মিল। মূল পরীক্ষায় কিছু বাড়তি প্রশ্ন থাকে, ফটোকপির দোকানে বিক্রি হওয়া প্রশ্নে বাড়তি প্রশ্নগুলি ছিল না। তার দরকারও ছিল না।

বর্তমান সরকারের আগের আমলে (১৯৯৬-২০০১) চলেছিল নকলের মহোৎসব। এসএসসি, এইচএসসি এবং এবং ডিগ্রী পরীক্ষায় নকলকে শুধু সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া বাকী ছিল। পেশাগত কারণে তখন ঢাকা, কুমিল্লা, রাজশাহী শহ বিভিন্ন শহরে ঘুরে বেড়াতে হত। নকলের মহোৎসব দেখে লজ্জায় আর ঘৃনায় মুখ ফিরিয়ে নেয়া ছাড়া তখন কিছুই করার ছিল না।

সেই সরকারের এবারের আমলে (২০০৯ থেকে অদ্যবধি) প্রশ্নপত্র ফাঁস শিল্পের পর্যায়ে চলে গেছে। অথচ সব দেখেও না দেখার ভান করেন আমাদের শিক্ষা মন্ত্রী। সব কিছু জেনেও না জানার ভান করেন তার মন্ত্রনালয় আর শিক্ষা বোর্ড সমুহ। একদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস, আরেকদিকে বেশী নম্বর দিয়ে পাশের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কড়া মৌখিক আদেশ। বিজ্ঞ শিক্ষামন্ত্রী কর্তৃক জাতিকে উপহার দেয়া এই ক্যন্সার এদেশের মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যত অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। জেনে শুনে দেশের শিক্ষা ব্যাবস্থাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কাউকে না কাউকে একদিন এর দায় নিতেই হবে।

প্রশ্নপত্র কিভাবে ফাঁস হয়?

কোটি টাকার প্রশ্ন। কিন্তু উত্তর খুব কঠিন নয়। প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বোর্ডের নিয়োগ দেয়া একটি প্রশ্নপত্র প্রনয়ন কমিটি থাকে। সেই কমিটি বিভিন্ন স্বনামধন্য বিদ্যালয়/কলেজের স্বনামধন্য শিক্ষক মন্ডলীর কাছ থেকে প্রশ্ন চেয়ে নেন কিংবা আহবান করেন। প্রতিটি বিষয়ের উপর ৫-৮ জনের কাছ থেকে ৫-৮টি প্রশ্ন জমা পড়ে। এরপর ঐ কমিটি সেই জমা পড়া প্রশ্ন থেকে বাছাই করে সাজিয়ে ৩-৪ সেট চুড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরী করেন। ভিখারুন্নেসা স্কুলের অংকের শিক্ষক যদি অংকের এক সেট প্রশ্ন জমা দেন , সেক্ষেত্রে তিনিও জানবেন না তার প্রশ্ন নির্বাচিত হয়েছে কিনা, কিংবা কোন কোন প্রশ্ন নির্বাচত হয়েছে। জানবেন শুধু প্রশ্নপত্র প্রনয়ন কমিটির সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ। সুতরাং আমাদের সন্দেহের তালিকায় প্রথমে থাকবে তাদের নাম। আমি ঠিক জানি না এই পর্যায়ে প্রশ্নপত্র গুলি হাতে লিখা থাকে নাকি কম্পিউটারে কম্পোজ করা হয়। যদি কম্পিউটারে কম্পোজ হয়, তাহলে কম্পোজকারীর নাম এবং কম্পিউটারটি যার জিম্মায় থাকে তার নাম এই তালিকায় যোগ করতে হবে।

প্রতিটি প্রশ্নের সকল সেট যথাযথ ভেটিং এর পর চলে যায় প্রেসে। প্রেসে রয়েছে বজ্র আটুনি ফস্কা গেরো। হাজারো কড়াকড়ির মধ্যে বিশাল বিশাল ফাক ফোকর। এই ফাক ফোকর গলিয়ে প্রশ্ন বের হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে সব সেট প্রশ্ন ফাঁস হতে হবে যা অনেক কঠিন ব্যাপার বলে আমার কাছে মনে হয় । সুতরাং এখান থেকে প্রশ্ন ফাঁস হলেও “সুনির্দিষ্ট সেট” মিলে যাওয়া কঠিন। যাইহোক, সন্দেহের তালিকায় প্রেস এর কিছু কর্মচারীকেও রাখা হল। অতীতে প্রেসের অনেক কর্মচারী প্রশ্নপত্র ফাসের অভিযোগে ধরা পড়েছে। তবে এদের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের বেশীর ভাগ ছিল এমন সব পরীক্ষা যেখানে সাধারণতঃ মাত্র এক সেট প্রশ্নপত্র ছাপা হয়, যেমন “সরকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা” । লক্ষ্যনীয় যে, প্রেসের সংরক্ষিত সকল এলাকায় ঢোকার সময় সকলকেই বডি সার্চ করে ঢোকানো এবং বের করা হয়।

ছাপা হওয়া প্রশ্ন এরপর খামে সিলগালা হয়ে চলে যায় সকল জেলা, উপজেলার সংশ্লিষ্ট ট্রেজারিতে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রের নামে একটি করে বড় খাম, তার ভেতরে প্রতিটি সেট প্রশ্নের জন্য আলাদা ছোট খাম। কেন্দ্রে প্রতিটি বিষয়ের জন্য যে ক’ জন পরীক্ষার্থী, তার চে ২-৪ টা প্রশ্ন বেশী থাকে বলে শুনেছি। প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষার আগের দিন প্রতিটি কেন্দ্র থেকে তাদের একজন যথাযথ প্রতিনিধি ট্রেজারীতে গিয়ে তার কেন্দ্রের প্রশ্ন পত্র আলাদা করে আসেন যাতে পরদিন প্রশ্নপত্র আনতে গিয়ে সময়ের অপচয় না হয়। ট্রেজারী বলতে সোনালী ব্যাংকের ভল্ট বোঝানো হচ্ছে। যেসব যায়গায় সোনালী ব্যাংক নেই, সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের নিরাপদ (?) কাষ্টডিতে প্রশ্ন রাখা হয়। পরীক্ষার আগের দিন নির্দিষ্ট সেটের প্রশ্ন পত্রের খাম সাজিয়ে রাখার সময় খাম খোলার অনুমতি নেই। কিন্তু লক্ষ্যনীয় বিষয় হল, একটি উপজেলার শতাধিক কেন্দ্রের ২ জন করে প্রতিনিধি (সধারনত একজন শিক্ষক এবং একজন পিয়ন বা অফিস সহকারী) যখন একসাথে ট্রেজারীতে ঢুকেন, তখন কে কাঁচি, কে ব্লেড আর আঠা নিয়ে ঢুকলেন সেটা মনিটর করা কঠিন। এখানে কাউকে বডি সার্চ করে ঢোকানো হয় না। বডি সার্চ করে বেরও করা হয় না। কাজের কোন এক ফাকে কেউ যদি একক ভাবে কিংবা সংঘবদ্ধ ভাবে চেষ্টা করে খাম কেটে একটি প্রশ্ন বের করে আনে, তাহলে খুব বেশী কিছু করার থাকবেনা। কারণ মোট কতটি প্রশ্ন ভেতরে আছে সেটা খামের উপর লেখা থাকে না। সিলগালা নতুন করে দেয়াও কঠিন কিছু নয়। আবার কেউ যদি মোবাইল ক্যামেরায় প্রশ্নের ছবি তুলে নিয়ে আসতে চায়, তাহলে সেটাও অসম্ভব নয়। তাই সন্দেহের তালিকায় এই দলকেও রাখা হল। আমি সম্প্রতি ময়মনসিংহের কয়েকটি কলেজ এবং বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলেছি। তাদের ২-১ জন আমাকে জানিয়েছেন যে, শিক্ষকের স্বল্পতার কারনে অনেক সময় কিছু কিছু স্কুল – কলেজ শিক্ষক না পাঠিয়ে শুধুমাত্র একজন অফিস সহকারীকে প্রশ্ন সাজিয়ে রাখার জন্য পাঠিয়ে থাকেন!!!

প্রশ্নপত্রের সেট (অর্থাৎ খাম) সাজানো হয়ে গেলে ট্রেজারী বন্ধ হয়ে যায়। পাঠককে মনে রাখতে হবে যে আগের দিন রাতে বা বিকেলেই সিদ্ধান্ত হয়েছে কোন সেট এ পরবর্তী দিনের পরীক্ষা হবে। তাই পরীক্ষার দিন সকালে কেন্দ্রের যথাযথ প্রতিনিধি গিয়ে ঠিক ওই সেট এর প্রশ্ন ট্রেজারী থেকে তুলে আনেন। যখন প্রশ্ন বা খাম সাজানো হল তখন ও কিন্তু জানা নেই ঠিক কোন সেট প্রশ্ন নির্বাচিত হতে যাচ্ছে।

সাধারণত পরীক্ষার আগের দিন বা আগের রাতে প্রশ্ন পত্র ফাঁস হচ্ছে। আগের রাতেই বেশী হচ্ছে। আর বেশীর ভাগ প্রশ্ন হাতে লেখা থাকে। তাই সন্দেহের তালিকা একটু ছোট করে আনা যায়।

প্রথমতঃ প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকে এটা জানার জন্য যে – ঠিক কোন সেট এর মাধ্যমে পরীক্ষা হবে। এটা জানার পর তারা সকল সেট এর মধ্যে ঘোষিত সেট এর প্রশ্নটি কাংখিত ব্যবহারকারী/ক্রেতা/অভিবাবক কে দেয়। অর্থাৎ যাদের কাছে সব সেট এর প্রশ্ন আছে এবং তার মধ্য থেকে কোন “সেট” এ পরীক্ষা হবে সেটা জানার মত উপায় যাদের আছে তারা আর কেউ নয়, সংশ্লিষ্ট বোর্ডের কেউ হতে বাধ্য।

দ্বিতীয়তঃ ৪-৫ টি স্কুল বা কলেজের সংশ্লিষ্ট সকলে একজোট না হলে ট্রেজারীতে বসে আর যাই হোক সব সেটের কিংবা একটি সেটের প্রশ্ন হাতে লিখে আনা সম্ভব নয়। ফটোকপি করাও অসম্ভব। যে কোন একটি সেট এর এক কপি প্রশ্ন পত্র চুরি করে আনা সম্ভব সেটা আগেই বলেছি। সেক্ষেত্রে বাইরে এসে আবার হাতে লেখার ঝামেলা কে করতে যাবে? সোজা ফটোকপি টু ফটোকপি। অবশ্য কাংখিত ব্যক্তি দূরে থাকলে এই প্রান্তে ফোনে বলা হল আর অপর প্রান্তে হাতে লেখা হল সেটাও সম্ভব। এক্ষেত্রেও বোর্ডের ভেতরের লোকের উপর সন্দেহের তীর আসে আমার বিবেচনায়। থানা বা জেলা পর্যায়ে ট্রেজারী থেকে প্রশ্ন সাজানোর সময় ফাঁস হলে সেটা হাতে লিখে আনা যেহেতু কঠিন তাই ফোনে ফোনে বলাটাও যুক্তিযুক্ত নয়। তবে যেসব ক্ষেত্রে কেবল মাত্র ৩-৪ টি প্রশ্ন ফাঁস হয় সেক্ষেত্রে আমি ট্রেজারীতে যারা গিয়েছেন তাদের দিকে আংগুল তুলবো। কারন হাতে লিখে সম্ভব না হলেও খাম খুলে ৩-৪ টি প্রশ্ন দেখে মনে রাখা এবং বাইরে এসে দ্রুত বই খুঁজে মিলিয়ে তারপর ফাঁস করে দেয়া সম্ভব।

যেভাবেই ফাঁস হোক আর যেই ফাঁস করুক, ইন্টারনেট আর মোবাইলের কল্যানে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র দ্রুত চলে যাচ্ছে আগ্রহীদের হাতে। প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত, ক্ষুব্দ এবং হতাশ হচ্ছে। উচ্চ পাশের হারের কারনে শিক্ষামন্ত্রী আর তার তাবেদাররা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বাহবা নিচ্ছেন। আর আমাদের সন্তানেরা অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

২০১৩ সালের জেএসসি পরীক্ষা চলাকালীন কিছু ঘটনা না বলেই পারছিনা। আমার ছেলের এক ক্লাস মেট প্রতিটি পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পেয়েছে। আমি কৌশলে তাকে আমার ছেলের মাধ্যমে জিজ্ঞেস করেছি কে তাকে প্রশ্ন সরবরাহ করেছে? তার অতি নিকট আত্মীয় তাকে প্রশ্ন সরবরাহ করেছে – এটাই ছিল তার সহজ সরল উত্তর । সে প্রশ্ন পেয়ে তার ক্লাসের বন্ধুরা যারা এক সাথে প্রাইভেট পড়েছে তাদেরকে দিয়েছে (দুঃখিত আমার ছেলে প্রাইভেট পড়েনি)। সেই বন্ধুরা আবার তাদের অন্য বন্ধু এবং আত্মীয় স্বজনকে দিয়েছে। এভাবে রাত ১০ টার মধ্যে এই হাত সেই হাত হয়ে মোটামুটি সজাগ এবং আগ্রহী সবার কাছে প্রশ্ন পৌঁছে গেছে। আমার ছেলে মেয়ে প্রশ্ন নেয়নি। আমি নিয়েছি অথবা পেয়েছি, কিন্তু তাদেরকে বলিনি। ছেলে মেয়ে দু’জনেই সার্বিকভাবে এ প্লাস পেয়েছে (সব বিষয়ে নয়) । বলাই বাহুল্য, আমার ছেলের ক্লাসমেট সব বিষয়ে এ প্লাস অর্থাৎ “গোল্ডেন এ” পেয়েছে ক্লাসে যার রোল নম্বর ছিল ১৫ এর বাইরে। বছর ব্যাপী স্কুলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ক্লাস পরীক্ষায় সেই ছেলে কখনও গড়ে ৬০-৭০ এর বেশী পায় নি?

ছেলের সেই ক্লাসমেটের নিকটাত্মীয় ঢাকা বিভাগের মাধ্যমিক ও ঊচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা। তিনি কিভাবে প্রশ্ন পেলেন?

সার্বিক বিবেচনায়, সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ভেতরের লোকজন প্রশ্নপত্র ফাসের সাথে জড়িত বলে আমার বিশ্বাস। এটা আমি দৃঢ় ভাবেই বিশ্বাস করি। সর্ষের ভেতরের এই ভুত খুঁজে বের করা খুবই কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। খুঁজে দেখা বা তাদেরকে চিহ্নিত করা আমার কাজ নয়। তদন্ত কমিটি হয়েছে। সেই তদন্ত কমিটিতে আবার বোর্ডের ভেতরের লোকজন সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। যাদের দিকে সন্দেহের তীর তারাই যদি তদন্ত কমিটিতে থাকেন তাহলে প্রতিকার আসবে কিভাবে? আর প্রতিকার না হলে আমার সন্তানেরা শিক্ষামন্ত্রীর বিনামূল্যে উপহার দেয়া “ক্যান্সার” থেকে রক্ষা পাবে কি?

এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হল প্রায়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ইংরেজী পরীক্ষা বাতিল হয়েছিল । এখন শুধু ইংরেজীর সেই পরীক্ষা আর বিজ্ঞানের ব্যাবহারিক বাকী আছে। শুধু ইংরেজী নয়, আমার জানা মতে প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী স্বীকার করুন আর নাই করুন তাতে তার কিছু যায় আসে না। আমাদের আসে যায়। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। অন্য কোন দেশে হলে মন্ত্রী পদত্যাগ করতেন। আমাদের মন্ত্রী এখানে দায় টুকুই নিচ্ছেন না, পদত্যাগ অনেক দুরের ব্যাপার। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতে না পেরে এবং মৌখিক আদেশের মাধ্যমে বেশী বেশী নম্বর দিয়ে পাশের হার বাড়িয়ে সার্টিফিকেট সর্বস্ব, প্রতারক শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার দায় একদিন তাকে নিতেই হবে। আজ না হোক কাল, কাল না হোক তার পরের অনাগত ভবিষ্যতের কাছে আর আমাদের সন্তান যারা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভাল মানুষ হতে চেয়েছিল তাদের কাছে এই শিক্ষামন্ত্রীকে জবাবদিহী করতেই হবে।

তবে আপাততঃ প্রশ্ন ফাঁস কারীদের জন্য এবং যারা তাদের প্রশ্রয় দেয় তাদের সবার জন্য একরাশ ঘৃনা ছাড়া আমার কাছে দেবার মত কিছুই নেই।