ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 
images

গতকাল থেকে সাম্প্রতিক কালে অত্যন্ত জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপস ভাইবার বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কারণ আজকাল বিএনপি – জামাতের সন্ত্রাসী এবং তাদের নির্দেশদাতারা এই অ্যাপস ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। সাধারণ মোবাইলের কল ট্রাক করা গেলেও ভাইবারের কল ট্রাক করা যায় না – এই অযুহাতে ভাইবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বিদেশে অবস্থানকারী লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী এবং দেশে তাদের পরিবার পরিজনের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল ভাইবার। অতি সস্তা মূল্যমানের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে অল্প খরচে দেশে -বিদেশে আত্মীয় স্বজনের সাথে কথা বলা, এসএমএস পাঠানো, ছবি কিংবা ভিডিও শেয়ার করার জনপ্রিয় অ্যাপস ভাইবার।

সারাদেশে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরাতো দিনরাত পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ মারছে, তাহলে পেট্রল কেনা বেচা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না কেন? পেট্রল তো গাছে ধরে না। সুনির্দিষ্ট দোকানে (পেট্রল পাম্পে) এটা বিক্রি হয়। সুনির্দিষ্ট কাজে (মটর সাইকেল, গাড়ী এবং জেনারেটরের জ্বালানী) এটা ব্যবহার করা হয়। খোলাবাজারে যে পেট্রল বিক্রি হয় সেটাতো আসে অবৈধ উৎস থেকে অর্থাৎ পাম্প মালিক বাড়তি লাভ বা বিক্রির আশায় খোলাবাজারে পেট্রল বিক্রি করে দিচ্ছে। এসব বৈধ-অবৈধ উৎস থেকে কিনে নেয়া পেট্রল দিয়ে জ্বালাও পোড়াও করে দেশটাকে আতংকের জনপদ বানিয়ে ফেলা হল। কিন্তু বৈধ-অবৈধ উৎস থেকে সন্ত্রাসীদের কাছে পেট্রল বিক্রি বন্ধ করা গেল না! ভাইবার বন্ধ করে দেয়া হল।

আমার ধারণা সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আনুমানিক এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশী বাংগালী বসবাস করেন। তাদের অন্তত ১০ ভাগও ভাইবার অ্যাপসটি ব্যবহার করে থাকেন, এবং প্রতিজনের পরিবারে যদি ৪ জন লোক থেকে থাকেন তাহলে সর্বমোট কত লোক ক্ষতিগ্রস্ত হল? ৫০ লক্ষ !!!!!

দেশব্যাপী গাড়ী পোড়ানো সন্ত্রাসীর সংখ্যা কত? পঞ্চাশ জন? বড়জোর পাঁচশ? সেই পাঁচশ জ্বালাও-পোড়াও সন্ত্রাসীর জন্য সাজা পেল ৫০ লক্ষ নিরপরাধ মানুষ!!!!

প্রতিটি মোবাইল সেটের একটা নির্দিষ্ট IMEI নম্বর আছে। ভাইবার অ্যাপসটি ইন্টারনেট প্রটোকল ব্যবহার করে মূলতঃ একটি IMEI নম্বরের সাথে আরেকটি IMEI নম্বরের মাঝে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। ভাইবার এক্টিভেট করার সময় চার ডিজিটের এক্টিভেশন কোড পাওয়ার জন্য যে কোন মোবাইল অপারেটরের সীম ব্যবহার আবশ্যক, কিন্তু এক্টিভেট হয়ে যাবার পর মোবাইল অপারেটরের সীম প্রয়োজন হয় না। এক্ষেত্রে 3G অথবা WiFi ইন্টারনেট সংযোগ আবশ্যক। যদি ভাইবার এক্টিভেট করার সময় আপনি বিদেশী কোন সীম ব্যবহার করে থাকেন এবং দেশে এখন যে কোন মোবাইল অপারেটরের দেয়া ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে হয়তো আপনার ভাইবার বিটিআরসি বন্ধ করতে পারে নি। সরকারীভাবে ইউটিউব বন্ধ করে দেয়ার পরও আমার মত অনেকেই বাংলাদেশে ইউটিউব ব্যবহার করে গেছেন। ভাইবারের বেলায়ও তাই হবে বলে আমার বিশ্বাস। এক্ষেত্রে একটু-আধটু ওস্তাদির প্রয়োজন হবে কিন্তু যাদের সেই ওস্তাদিটা জানা নেই তাদেরকে দূর্ভোগ পোহাতে হবে।

জ্বালাও -পোড়াও সন্ত্রাসী ঠেকানোর জন্য ভাইবার বন্ধ করার কোন দরকার ছিল না। যেভাবে হ্যাক করে স্কাইপের কথা বা ভিডিও ধারণ করা যায়, একই পদ্ধতিতে সন্ত্রাসীদের ভাইবার কল মনিটর করা সম্ভব। তা না করে খোদ অ্যাপসটিকে ব্লক করে দেয়াটা নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছুই না। এটা হল মাথা ব্যাথার কারণে মাথা কেটে ফেলার মত বোকামী।