ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

বিডি ব্লগে আমার প্রায় চার বছর হতে চলল। ২০১১’র অক্টোবর থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৫। কিভাবে এই ব্লগের খোঁজ পেয়েছিলাম সেটা এখন আর মনে নেই। প্রথম দিকে এমনি এমনি সময় কাটাতে ব্লগে ঢু মারা। এখন নেশার মত। প্রতিদিন যা ই করি , যেখানেই থাকি, একবার ঢু মারতেই হয়। না হলে মনে হয় দিনের কিছু একটা কাজ বাকী রয়ে গেল। সেই প্রথম থেকেই দেখছি আর কেউ থাকুক না থাকুক, একজন ব্লগ পোষক সব সময়ই আছে লগ ইন অবস্থায়। অবশ্য লগ ইন অবস্থায় এক্টিভ আছেন কিনা সেটা বোঝার কোন উপায় নেই।
২০০৪ থেকে ২০০১১ পর্যন্ত আমি একটা বাংলা চ্যাট রুমের প্রথমে সদস্য, তারপর মডারেটর হয়ে শেষের ২/৩ বছর এডমিন ছিলাম। পরে ব্যস্ততার কারণে সময় দিতে পারি নি তাই আর পদ ধরে রাখিনি। মডারেটর, এডমিন এসব পদ আর্থিক দিক থেকে লাভজন কোন পদ ছিল না। বিনা বেতনের চাকুরী। ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মত ব্যাপার। পারলে কর, না হলে ছাড়। তবে অনেক ক্ষেত্রে কিছুটা ক্ষমতা দেখানো যেত যেমন, আইন ভংগ করলে যে কাউকে যখন তখন কিক দিয়ে চ্যাট রুম থেকে বের করে দেয়া, ১০ অথবা পনের মিনিটের জন্য সাসপেন্ড করা এবং অনেক ক্ষেত্রে সদস্য বা অতিথিরা খারাপ কোন আচরণ করলে (যেমন গালাগালি, অপদস্থ করা ইত্যাদি) করলে ব্যান (Banned) করে দেয়া ইত্যাদি। প্রায় ছয়-সাত শত রেজিষ্টার্ড সদস্য এবং অনেক অতিথি আসতো সেই চ্যাট রুমে। সেটা ছিল বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য সম্ভবতঃ ২য় চ্যাট রুম। এরপর অনেক বাংলা চ্যাট রুম হয়েছে, বেশ কিছু এখনও টিকে আছে। ছয়-সাত শত সদস্যের জন্য মডারেটর ছিল প্রায় ২০ জন আর এডমিন প্রথম দিকে হাতে গোনা ৫-৬ জন থাকলেও পরে এই সংখ্যা ১২ তে উন্নীত করা হয়েছিল। এই মডারেটর আর এডমিনদের অনেকেই পদ ধরে রাখার জন্য কিছু চালাকী করত। রুমে লগ ইন করে তারপর ঘন্টার পর ঘন্টা হাওয়া। অবশ্য যে কেউ দেখলে মনে করবে সে তো রুমে আছেই। অথচ এরই ফাঁকে অনেক কান্ড কারখানা ঘটে যেত যেমন গালাগালি, অন্য চ্যাট রুমের এডভার্টাইজিং (আমাদের চ্যাট রুমের আইনে এটা নিষিদ্ধ্ব ছিল), বিশেষ করে মহিলা সদস্যদেরকে হয়রানি করা, ফ্লাডিং বা আজেবাজে কথা লিখে স্ক্রীন পূর্ন করে রাখা ইত্যাদি। আবার অনেক সময় অনেক নতুন অতিথি বা সদস্য কোন সাহায্য চেয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতো। এভাবে ফাঁকিবাজ মডারেটর আর পদলোভী এডমিনদের চালাকী/নিস্পৃহতা/অনুপস্থিতি’র কারনে একসময় চ্যাট রুমটির জনপ্রিয়তা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে যায়। এমনও আমি দেখেছি যখন সারাদিনে কোন সদস্য, মডারেটর বা এডমিন রুমে একবারও ঢুঁ মেরে দেখেনি। এই ফাঁকে অনেকে রুমে এসে গালাগালি, এমনকি পর্নো সাইটের এড দিয়ে চলে গেছে। দেখার কেউ ছিল না। পরে যখন সব কিছু লাটে উঠার উপক্রম হল তখন মালিক পক্ষের টনক নড়ল। এরপর মডারেটর আর এডমিনদের যার যার সুবিধা অনুযায়ী সময় ভাগ করে দেয়া হল আর কিছু মড/এডমিন বাদ দেয়া হল। তবে সর্বনাশ যা হবার তা হয়েই গিয়েছিল। চ্যাট রুমটি আর টিকে থাকতে পারেনি।
বিডি ব্লগে ব্লগপোষকরা কি আসলে মডারেটর নাকি এডমিন পর্যায়ের সেটা আমার জানা নেই। এটাও জানি না তারা কি বেতনভোগী নাকি এটা তাদের বাড়তি দায়িত্ব। যেহেতু এই ব্লগ, বিডি নিউজ ২৪ ডট কম নামের অন লাইন পত্রিকার সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট, তাই ধরে নিচ্ছি হয়তো কোন কোন বেতনভোগী কর্মকর্তা – কর্মচারীকে বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে ব্লগপোষকের তকমা ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। বেতনভোগী হোন বা না হোন, তিনি বা তারা তাদের দায়িত্ব কর্তব্যটুকু ঠিক সময়ে পুরোপুরি পালন করছেন কিনা সেটাই হল আসল কথা। আজ আমি এ বিষয়েই কিছু লিখবো।
প্রশ্নঃ বিডি ব্লগের মডারেটরদের কাজ কি?
উত্তরঃ ব্লগ মডারেট করা।

উত্তরটা যত সহজ, কাজটা হয়তো মোটেও তত সহজ নয়। ব্লগে কি কি বা কোন ধরনের লেখা ছাপা হবে, কি লেখা যাবে আর কি লেখা যাবে না, কোন ভাষা অনুমোদিত আর কোন ভাষা অনুমোদিত নয় এরকম নিশ্চয় অনেক নীতিমালা আছে। পর্যালোচনার জন্য জমা দেয়া ব্লগারদের লেখা উল্লেখিত সব নীতিমালা মেনে লেখা হয়েছে কিনা সেটা দেখে ছাড়পত্র দেয়াই মডারেটরদের কাজ। এটা নিশ্চয়ই অনেক কঠিন একটা বিষয়! একেবারে রকেট সাইন্স যাকে বলে। বিডি ব্লগে প্রতিদিন কয়টি লেখা প্রকাশিত হয়? ২০ ? ৩০? আমার অভিজ্ঞতায় বলে, পিক আওয়ারে (অবশ্য ব্লগে পিক আওয়ার বলে কিছু নেই, তবে জাতীয় বা জনগুরুত্ব পূর্ন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দেশ যখন সরগরম থাকে সেটা পিক আওয়ার বলা যেতে পারে) সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ টি লেখা প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত লেখার সংখ্যা আর পর্যালোচনার জন্য জমা পড়া লেখার সংখ্যা বোধ করি এক নয়। কারন, পর্যালোচনার জন্য জমা পড়া অনেক লেখাই মডারেটরদের আনুকূল্য না পেয়ে সার্ভারেই পড়ে থাকে।
ব্লগে যারা আসেন, তারা সবাই লিখেন না। অনেকে বছরের পর বছর ধরে বিডি ব্লগের সদস্য কিন্তু হয়তো একটিবারও কলম (কি বোর্ড) হাতে নেন নি। এমনকি অন্যের লেখায় মন্তব্যও করেন নি কোন কালে। আমি নিশ্চিত এখানে পেশাদার কোন লেখক নেই। অর্থাৎ বিডি ব্লগে লিখে কেউ কোন টাকা পয়সা পান না। যারা লিখেন তারা নিজ মনের তাগিদেই লিখেন। কেউ আমার মত এমনি এমনি লিখেন, কেউ সমাজ এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে লিখেন, কেউ নিজ বিশ্বাস বা মতাদর্শ তুলে ধরতে ব্লগে লিখে থাকেন। কারও লেখা হয় প্রতিবাদের ভাষা, আবার কেউ সমাজ সচেতনতা বাড়াতে লিখেন। ব্লগারদের অবস্থান কিংবা বিষয় যা ই হোক না কেন একটা বিষয় সব ব্লগারই আশা করেন যে, তার লেখাটি মডারেটর নামক অদৃশ্য মানবটির সার্জারির টেবিল পেরিয়ে যত দ্রূত সম্ভব প্রকাশিত হবে।
কোন ব্লগার পর্যালোচনার জন্য একটি লেখা জমা দেয়ার পর হয়তো অন্য লেখা নিয়ে বসে পড়েন বা নিজ পেশাগত কাজে ডুবে যান। কিন্তু তার মানে এই না যে, লেখাটি জমা দিয়েই তিনি সব দায়দায়িত্ব বা যে চিন্তা থেকে লেখাটি লিখেছেন সেই চিন্তা মন থকে ঝেড়ে ফেলেছেন। আসলে প্রকাশিত হবার পরও ব্লগ লেখকদের চিন্তার রাজ্যে কাজ-কারবার চালু থাকে। তাই অনেক সময় প্রকাশিত লেখার মাঝেও ছোটখাট সংশোধন করা হয়। অন্ততঃ আমি এটা করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আরও অনেক ব্লগারও তাই করেন। এছাড়া ব্লগে কেউ মন্তব্য করলে সেটার উত্তর দেয়াটাও অনেকটা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
কিন্তু একটা লেখা যখন দিনের পর দিন মডারেটর নামক অদৃশ্য মানবের সার্জারী টেবিলে বিনা চিকিৎসায়/অবহেলায় পড়ে থাকে তখন ব্লগারের যে টেনশন বা যাতনা হয় সেটা ভূক্তভোগী ব্লগার ছাড়া আর কে বুঝবে? সুনির্দিষ্ট কোন বিষয় নিয়ে লেখা হলে, বিলম্বের কারণে লেখাটিও উপযোগিতা হারিয়ে ফেলে। এক্ষেত্রে নবীন ব্লগার হলে তিনি লেখার প্রতি আগ্রহই হারিয়ে ফেলেন।
এতো গেল বিলম্বে প্রকাশের কথা। ব্লগার যখন লিখেন তখন অসতর্কতা বা অসাবধানতা বশতঃ অনেক ক্ষেত্রে বানান ভুল হয়ে যায়। ব্লগার আশা করেন, মডারেশনের সময় সৌজন্যতার খাতিরে এবং পাঠকদের সার্থে মডারেটর এসব ছোটখাট বানানগুলো সংশোধন করে দিবেন। কিন্তু না। শুধুমাত্র আপত্তিকর কোন অংগ প্রত্যংগ কেটে দেয়া বা লাল চোখ রাংগানো ছাড়া অন্য কোন সার্জারী বা রিপেয়ার তারা করেন না। ফলে হাজার হাজার পাঠক, লেখক কর্তৃক ভুল বানান সংশোধনের আগ পর্যন্ত (তাও যদি লেখক ধরতে পারেন এবং করতে পারেন) ভুল বানানে পড়তে থাকেন আর মনে মনে বিরক্ত হন।
ইন্টারনেটের গতি কিংবা সিষ্টেমের অন্য কোন কারিগরী সমস্যার কারনে অনেক ক্ষেত্রে অন্য লেখকের লেখায় মন্তব্য করার সময় কিংবা নিজের লেখায় অন্যের মন্তব্যের প্রতি উত্তরের সময় একই লেখা (উত্তর বা প্রতি উত্তর) দুইবার ছাপা হয়ে যায়। অথচ একটি বাড়তি মন্তব্য ছেঁটে দেয়ার মত সামান্য একটু কাজেও আমাদের বিডি ব্লগের মডারেটরদের অসীম অনাগ্রহ। পাছে রকেট বানাতে ভুল হয়ে যায় কিংবা আকাশের তারা খসে পড়ে।
দেশব্যাপী সাধারন ছুটি যেমন দুই ঈদ, পূজা –পার্বন, বৈশাখ বা বড়দিনের ছুটির সময়ে মডারেটররা ব্লগে উপস্থিত থাকেন কিনা সন্দেহ। লগ ইন থাকা মানেই ব্লগে উপস্থিতি নয়। অন লাইন পত্রিকা যেহেতু ২৪/৭ দিন চালু থাকে এবং কিছু না কিছু সাংবাদিক কর্মরত থাকেন, তাহলে ব্লগের মডারেটররা অনুপস্থিত থাকবেন কেন? যদি ব্লগে কোন মডারেটর উপস্থিত বা এক্টিভ না থাকেন তাহলে শুধু শুধু লগ ইন করে থাকা কেন? এটা কি প্রতারণা নয়? যদি এটা বিনা বেতনের কাজ হয়ে থাকে বা কারো জন্য বাড়তি দায়িত্ব হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই এর বিকল্প কোন ব্যাবস্থা করা প্রয়োজন। যারা বিডি ব্লগ ভালবাসেন তাদের অনেকেই বিনা বেতনে অত্যন্ত খুশী মনে ২৪/৭ দিন মডারেশনের কাজটি করে দেবেন বলেই আমার বিশ্বাস। যদি একাধিক মডারেটর থেকে থাকে, তাহলে তাদের মাঝে সময় ভাগ করে দেয়া যেতে পারে। গভীর রাতে কোন লেখা জমা পড়লে পরদিন সকাল ৯ টা ১০ টার আগে সেটা প্রকাশিত হয় না অথচ সারা রাতই এক জন “ব্লগপোষক” কে লগ ইন অবস্থায় দেখা যায়। এটা কি তাচ্ছিল্য, অবহেলা, নাকি অলসতা সংশ্লিষ্টরাই ভালো বলতে পারবেন।
ধরুন একসাথে তিন চারটি লেখা জমা দেয়া হল। জমা দেয়ার পর আর খবর নাই। নাই, নাই, নাই। সময়ের হিসেবে দেখতে পাই, আমার অনেক পরে জমা দেয়া লেখা প্রকাশিত হয়ে গেছে। আমারটা হারিয়ে গেল। তারপর হঠাত করেই একদিন সব শেষে জমা দেয়া লেখাটা প্রকাশিত হল। সবার আগে যেটা দেয়া হয়েছিল সেটা মহাকালের আবর্তে হারিয়ে গেল। তারপর আবার হঠাত করে ধুমকেতুর মত একদিন আস্তে করে সব গুলো বাদ যাওয়া লেখা প্রকাশিত হয়ে গেল। কিছু হয়তো ব্লাক হোলের মধ্যে পড়ে চিরকালের জন্য হারিয়ে যায়। যে লেখাটা মডারেটরের অপারেশন টেবিলে গিয়ে অখাদ্য রুপে বিবেচিত হল কিংবা নিহত হলো, সৌজন্যতাবশতঃ লেখককে সেই অখাদ্যটির মানদন্ড কিংবা মৃত্যু সংবাদটি দেয়া হয় না। অথচ সদস্য হবার সময় ই-মেইল আইডি দেয়া বাধ্যতা মূলক। এই ই-মেইল আইডি কোন কাজেই না লাগে তাহলে সেটা নেয়ার কি দরকার?

প্রায়ই দেখতে পাই, নিরাপত্তাজনিত কারনে আমার আইডি ফ্রিজ করে দেয়া হয়েছে। তখন আবার পাসওয়ার্ড রিকভারী অপশনে গিয়ে অনেকটা নতুন করেই শুরু করতে হয়। যারা সার্ভারে কাজ করেন বা সার্ভারের দিকে খেয়াল রাখেন, তারা কি জানেন না কোন কোন আইডি কেন বার বার ফ্রিজ করে দেয়া হচ্ছে? একটি ছোট্ট ই-মেইলের মাধ্যমে ব্লগারকে সেই অসুবিধাটা বা সমস্যার কথা জানানো এবং সে অনুযায়ী ব্লগারের করনীয় বিষয় জানানো কি খুব বেশী জটিল কোন বিষয়? তাহলে আর বিডি ব্লগ সেরা কেন? না আপনারা যে সেরা সেটা আপনারা বলেন নি। আমরা ব্লগার তথা পাঠককূল বলছি আপনারা সেরা। কিন্তু সেরার মান কি এটা?
এখন বাংলাদেশের স্থানীয় সময় ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪ টা ২৫ মিনিটে আমি এই লেখাটি পর্যালোচনার জন্য জমা দিচ্ছি। দেখতে চাই মডারেটরের অলস টেবিলে এর সার্জারী হতে কত সময় লাগে? বলে রাখা ভাল, প্রায় ৩৬ ঘন্টা আগে আরো চারটি জমা দিয়েছিলাম যার দুটি প্রকাশ হয়েছে (যথাক্রমে ৮ এবং ২৪ ঘন্টা পর) আর বাকী দুটি লেখা মডারেটরের অযত্নে কিংবা হয়তো অবহেলায় অপেক্ষমান পড়ে আছে।