ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

১১ বছর আগে অধ্যাপক হুমায়ূন আজাদের উপর দিয়ে যে জঙ্গি হামলার সূত্রপাত হয়েছিল তার ধারাবাহিকতার সর্বশেষ বলি দীপন। দীপন পেশায় একজন প্রকাশক। কিছুদিন আগে খুন হওয়া বন্ধু অভিজিৎ এর লেখা বই প্রকাশ করেছিলেন, এই ছিল তার অপরাধ! শাহবাগের আজিজ মার্কেটে অবস্থিত জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে খুন করার আগে পরে প্রায় একই সময়ে, একই কায়দায় আরেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শুদ্ধশ্বরের স্বত্ত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলসহ আরও দুজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। টুটুলের অপরাধ? সেও অভিজিৎ এর লেখা বইয়ের প্রকাশক।

অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের উপর হামলার প্রায় নয় বছর পর ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হামলা হয় ব্লগার রাজীব হায়দারের উপর। পল্লবীতে বাসার সামনে রাজীবকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যা করা হয় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী আরিফ রায়হান দীপকে। সম্ভবতঃ এপ্রিলের ৯ অথবা ১০ তারিখে। এ বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়; আহত হন তার স্ত্রী বন্যা। এরপর ৩০ মার্চ ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান, ১২ মে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ এবং ৭ আগস্ট ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়কে খুন করে জঙ্গিরা। একজন মানুষ ধর্ম অথবা জীবন নিয়ে তার ভিন্নমত প্রকাশ করলে কিংবা ভিন্ন মতের কারো বই প্রকাশ করলেই তাকে খুন করতে হবে? এভাবে আর কতজন খুন হবেন? আর কতজনকে তোমরা খুন করবে?

আমি মুক্তমনা নই। ব্লগার বলতে যা বুঝায় তেমন বা সেই মাপেরও কেউ নই। কিন্তু মুক্তমনা কিংবা ব্লগার নামধারীদের তোমরা যারা খুন করছো, আমি তোমাদের ঘৃনা করি। ঘৃনা করি। ঘৃনা করি। ইতোমধ্যে যাদেরকে তোমারা খুন করেছো বলে আনন্দে আহ্লাদিত হয়েছো, আসলে তাদের বিশ্বাসকে খুন করতে পারোনি। যাদেরকে তোমরা কুপিয়ে আহত করেছো কিংবা পঙ্গু করেছো বলে আনন্দে উদ্ভাসিত হয়েছো, আসলেই কি তাদের মুক্ত মনকে পঙ্গু করতে পেরেছো?। তোমরা কি জানো বিপ্লবী চে’গুয়েভারার সেই বিখ্যাত উক্তি? “আমি জানি তুমি আমাকে হত্যা করতে এসেছো, গুলি করো কাপুরুষ, তুমি শুধু একজন মানুষকেই হত্যা করবে (তার বিপ্লবী চেতনাকে নয়)“ ।

তোমাদের মত ইতর প্রাণীর চেয়েও অধম এবং নিকৃষ্ট খুনিদের ঘৃনা করার জন্য একদিন কি আমাকেও খুন করবে? আমার পালা কবে? ওহে কাপুরুষ জঙ্গিরা, এসো আমাকেও খুন করো।