ক্যাটেগরিঃ কৃষি

 
Coffee Plantation

প্রায় মাস খানেক আগে উগান্ডা আর ডি আর কঙ্গোর সীমান্তবর্তী শহর মাহাগীর কাছে একটি সীমান্ত হাট পরিদর্শনে যাবার সময় দেখেছিলাম এই কফি বাগান। সেখানে শত শত গাছে থোকায় থোকায় পাকা কফি। এগুলো বিক্রি হবে উগান্ডা কিংবা কেনিয়ার ব্যবসায়ীদের কাছে। তারপর প্রক্রিয়াজাত হয়ে উগান্ডা কিংবা কেনিয়ায় উৎপাদিত কফি হিসেবে বাজারে চলে যাবে।

বীজ থেকে কফি গাছ হয়। ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ফল আসে। তবে গাছটি পরিপূর্ন হতে ৬-৭ বছর লাগে। একেকটি গাছ ফল দেয় প্রায় ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত। ছোট থাকতে আমাদের দেশের চা গাছের মত বছরে একবার গাছের উপরিভাগ ছেঁটে দিতে হয়। বড় হলে প্রায় ১০ -১২ফুট লম্বা হয়। আমি যে বাগানে গিয়েছিলাম সেখানে ২-৩ হাজার কফি গাছ। সারি সারি লাগানো। একেকটি সারি থেকে আরেকটি সারি ৮-১০ ফুট , সারির মধ্যে এক গাছ থেকে আরেক গাছের দুরত্ব ৫-৬ ফুট।

কঙ্গোর এ অঞ্চলের আবহাওয়া যাকে বলে একেবারে এয়ারকন্ডিশন টাইপ। একদম গরম নেই, আবার একেবারে শীত ও নেই। সারা বছর প্রায় একই রকম আবহাওয়া। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ৫৮০০ ফুট। এখানে প্রচুর কফি, আখ, কাসাভা, আম সহ অন্যান্য ফল-ফলাদি আর সব্জি চাষ হয়। আমি বেশ কয়েকটা কাঠাল গাছ দেখেছি। দেখেছি তেতুল গাছ। সেইসব গাছের কাঠাল আর তেতুল খেয়েছি।

যাইহোক কফি’র কথা বলছিলাম। ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসে কফি গাছে ছোট ছোট সবুজ রং এর মুকুল আসে। এই ফল পরিপক্ক হতে প্রায় ৮-৯ মাস লাগে । মুকুল থেকে পরিপক্ক ফল – সময়ের পরিক্রমায় ২-৩ বার রং পাল্টায় এই কফি। সবশেষে টকটকে লাল হলে বোঝা যায় ফল পেকেছে। ফল পেড়ে সেটা রৌদ্রে শুকাতে হয়। এসময় লাল রং এর খোসা কাল রং এ পরিনত হয়। এরপর আরো শুকাতে থাকলে খোসা একা একা খসে পড়ে। যেগুলো সহজে বেরিয়ে আসে না সেগুলো একটা কাঠের ঢেকিতে নিয়ে আরেকটা কাঠ দিয়ে হালকা পেটালেই খোসা ঝরে পড়ে।
খোসা ঝরে পরা কফি বীজের এবারের রং হয় বাদামী এবং ধূসর সাদা।

Coffee drying 1

এবার এই কফি বীজ রোষ্ট করে নিলেই তৈরী হয়ে যায় আমাদের কফি। কফি দুই ভাবে রোষ্ট করা যায়। উন্নত মেশিনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট আদ্রতা এবং তাপমাত্রায় ভাঁজা হয়। আরেকটা প্রথাগত ভাবে বড় মাটি বা লোহার ডেকচিতে তেল ছাড়া ভাঁজা হয়। স্থানীয়ভাবে তৈরী এই কফিও খেয়ে দেখেছি। অসম্ভব তেতো।

কঙ্গোর এই অঞ্চলটি অত্যন্ত পশ্চাদপদ। এখানে এমনকি বিদ্যুৎ পর্যন্ত নেই, নেই কোন কল কারখানা। তাই এখানে উৎপাদিত কফি কেনিয়া অথবা উগান্ডা’র ব্রান্ড কোন নামে বিশ্ববাজারে যায় । আজকাল ইউরোপ থেকেও কিছু ক্রেতা আসছে। কিছু ভারতীয় দেখলাম। শুধু পারলাম না আমরাই। আফসোস থেকে গেল। থেকে যাবে আজীবন।