ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় দেশের সব মোবাইল সীম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। প্রতিদিন এনিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে কিংবা জটিলতা দেখা দিচ্ছে, আর তাৎক্ষনিক তার সমাধান দেয়া হচ্ছে। সীম নিবন্ধন নিয়ে তাই আমার কিছু কথা বলার ছিল। পাঠকের কাছ থেকেও মতামত / মন্তব্য কামনা করছি।

Sim 2

বাংলাদেশে শুধুমাত্র মোবাইল ফোন কে আশ্রয় করে বা ব্যবহার করে প্রতিদিন নানা অপরাধ সংগঠিত হয়। অপরাধ কাজে ব্যবহৃত এসব সীমের শতকরা ৯৯ ভাগই অনিবন্ধিত। নিবন্ধনের সুযোগ কোথায়? অলিতে গলিতে মুদি দোকানে, চায়ের দোকানে, রাস্তায় ফেরি করে সীম বিক্রি হয়। বিক্রেতার মন চাইলে পরে কোন একটি এনআইডি ব্যবহার করে তার বিক্রিত সবগুলো সীম নিবন্ধন করিয়ে নেয়। মন না চাইলে নিবন্ধন করেনই না। এভাবে একটি এনআইডির বিপরীতে ১০ -২০ হাজার সীম বিক্রি হয়ে যায়। কে কোন আইডি দিয়ে সীম কিনলো, সেই আইডি সঠিক কিনা, মোবাইল অপারেটরদের সেটা দেখার সময় কোথায়? তাদের দরকার ব্যবসা। ব্রিটিশ বেণিয়ারা যেমন ধানের বদলে নীল চাষ করে এদেশের মানুষের সর্বনাশ করেছিল, আজকাল মোবাইল অপারেটর নামক নব্য বেনিয়ারা একেবারেই নিবন্ধনবিহীন কিংবা যথাযথ নিবন্ধন বিহীন সীম বিক্রি করে এদেশের বারোটা বাজাতে ব্যাস্ত।

বাংলাদেশের সকল মোবাইল অপারেটরের সিমই প্রি-এক্টিভেটেড থাকে। বাজার থেকে সিম কিনে মোবাইলে ঢুকিয়ে নিন, সাথে সাথে কানেকশন। ব্যবহারের পূর্বে এসব প্রি-এক্টিভেটেড সিম নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সাধারণ মানুষ সাধারণত তার নিজের সিম নিবন্ধন করিয়ে নেন যাতে হারিয়ে গেলে তিনি একই নম্বরের সিম আবার পেতে পারেন। আর জ্বীনের বাদশা, ভিওআইপি ব্যবসায়ী, জঙ্গি গোষ্ঠী, মাদক ও হুন্ডি ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী এবং বিভিন্ন ধরণের প্রতারক চক্র সহ সকল অপরাধী এসবের ধার ধারে না। ফৌজদারী অপরাধের পাশাপাশি অনিবন্ধিত একাধিক সীম দিয়ে পরকীয়া, একাধিক ব্যাক্তির সাথে প্রেম-ভালবাসার সম্পর্ক এবং এ ধরণের আরও অনেক সামাজিক অপরাধের বিস্তৃতিও ঘটেছে ব্যপকভাবে।

একজন মানুষের কয়টা সিম দরকার? আমি ২০০১ সাল থেকে গ্রামীনের একটা সিম ব্যবহার করি। মাঝে বেশ কয়েকবার হারিয়ে গেলেও সেই একই নম্বরের সিম তুলে নিয়েছি। আমৃত্যু এই সিমটিই থাকবে। এর বাইরে এক সময় টেলিটকের একটা সিম ব্যবহার করতাম শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য। সেটা নিবন্ধিত সিম কিন্তু যেহেতু দীর্ঘদিন রিচার্জ করিনি তাই হয়তো এটা আর এক্টিভেটেড নেই। আমার স্ত্রী ২০০৪ সাল থেকে একটি গ্রামীনের সিম ব্যবহার করেন। তারও একটা টেলিটক সিম আছে যেটা আমার ছেলে-মেয়ে যৌথভাবে ব্যবহার করে (শুধুমাত্র বাসায় বসে ক্লাসের বন্ধু-বান্ধব এবং কাজিনদের সাথে যোগাযোগ রাখা)। বাংলাদেশে থাকলে অফিস থেকে একটা সীম দেয়, দেশের বাইরে আসলে সেটা জমা দিয়ে আসি, ফেরত গিয়ে আবার তুলে নেই।

অনেকের কাছে চার-পাঁচটা সিম দেখেছি। একেক অপারেটর একেক সময় একেক ধরনের প্যাকেজ উপহার (নাকি লোভের ফাঁদ) দেয়। সেসব বিশেষ সময়ের বিশেষ প্যাকেজের আওতায় কথা বলার জন্য হয়তো অনেকেই একের অধিক সীম কিনেছেন। কিন্তু একজন মানুষের কেন ১০ – ২০ টা সীম লাগবে সেটা আমার বোধগম্য নয়। যদি পাঠকদের মধ্যে কেউ আমাকে যুক্তি সংগতভাবে বোঝাতে পারেন তাহলে ঢাকা শহরের রাস্তায় খালি গায়ে আমি সারাদিন রাস্তা ঝাড়ু দিতে রাজি আছি (মজা করছি)। মন্ত্রী যখন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন এবং একটি এনআইডি’র বিপরীতে সীমের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করে দেবার উদ্যোগ নিলেন, মনে মনে খুবই খুশি হলাম। কিন্তু এখন যখন দেখলাম এক এনআইডি’র বিপরীতে ২০ টি সিম দিতে যাচ্ছেন, তখন আর মনে তত ফূর্তি নেই। যেই লাউ সেই কদু। ধরুন কেউ চার – পাঁচ জন পার্টনার মিলে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা করতে চায় । প্রতিটি পার্টনার ২০ টা করে সীম কিনে নিলে ৮০ -১০০ টা সীম হবে এবং সেটা দিয়ে নির্বিঘ্নে ভিওআইপি চালানো যাবে। এক জঙ্গি দলের শতশত সদস্য। প্রত্যেকের ২০ টা করে সিম থাকলে কে কার সাথে কখন কি কথা বলে সেটার হিসেব রাখা কিন্তু চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। সরকার যেই জংগীপনাকে নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য সীম নিবন্ধনের ব্যবস্থা করলো, ২০ টি সিম অনুমোদন দিয়ে সেটাকেই কি উৎসাহিত করা হলো না? ১০-২০ টা সিম যা ই লাগুক না কেন সেটা সবার জন্য গড়ে উম্মুক্ত না রেখে যুক্তিসংগতভাবে যার বা যাদের প্রয়োজন শুধুমাত্র তাদের জন্য উম্মুক্ত রাখতে দোষের কিছু দেখছি না।

এবার আসি বিদেশিদের প্রসংগে। এদেশে দুই/তিন ধরনের বিদেশি আছেন। একঃ পর্যটক, যারা সর্বোচ্চ তিন বা ছয় মাসের জন্য আসেন (সত্যিকারের কোন পর্যটক তিন মাসের বেশী বাংলাদেশে এসে থেকেছেন এরকম আমি কখনো দেখিনি)। দুইঃ বিদেশী দুতাবাস, সংস্থা এবং কর্পোরেট হাউস সহ বিভিন্ন চাকুরী/ব্যবসা বানিজ্যে নিয়োজিত বিদেশী যারা বৈধভাবে তিন-চার বছর এমনকি অনেকে দশ বছর যাবত এদেশে আছেন। তিনঃ শিক্ষার্থী যারা বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছেন। এর বাইরে এক বিশাল অংশ আছে যাদের এদেশে কোন ওয়ার্ক বা বিজনেস পারমিট নেই। ভ্রমন কিংবা শিক্ষা ভিসায় এসে চাকুরী, স্বাধীন ব্যবসা কিংবা বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজে জড়িয়ে ভালো মত টু পাইস কামিয়ে নিচ্ছেন। এরা সবাই হুন্ডি কিংবা অন্যান্য উপায়ে এদেশ থেকে বিদেশী মূদ্রা পাচারে সরাসরি জড়িত। আমার প্রশ্ন এসব অবৈধ বিদেশীদের সীম নিবন্ধন কিভাবে হবে?

সরকারী চিঠিতে বলা হয়েছে “বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে তাদের পাসপোর্ট এবং বৈধভাবে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট-এর ওয়ার্ক পারমিট এর মাধ্যমে ভেরিফিকেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে” । কত বড় শুভংকরের ফাঁকি !! যে কোন বিদেশী এদেশে ঢোকার সময় একবার সীম কিনলেই চলবে। যারা ভ্রমন কিংবা শিক্ষা ভিসায় এসে এদেশে থেকে যাচ্ছেন, অবৈধভাবে ব্যবসা কিংবা চাকুরী করছেন তাদেরকে কিভাবে জবাব দিহিতার আওতায় আনা যায় সেটা একবারও ভেবে দেখা হয় নি। বলা হয়নি যারা আইনি বা বেআইনি ভাবে বসবাস করছেন তাদের সীম পূনঃনিবন্ধন না করা পর্যন্ত আর কতদিন এক্টিভেটেড থাকবে। বলা হয়নি, বেআইনি ভাবে এদেশে বসবাসকারী প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক বিদেশী যখন সীম নিবন্ধন কিংবা পূনঃনিবন্ধন করতে মোবাইল অপারেটরদের কাষ্টমার কেয়ারে আসবে, তখন মোবাইল অপারেটরের করণীয় কি? কাগজ সঠিক পেলে সীম নিবন্ধন। আর না পেলে ফেরত ? ব্যাস এটুকুই? অথচ এই সুযোগে সব অবৈধ বিদেশীকে চিহ্নিত করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো যেত। সরকারের মধ্যে সেই পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রনালয় সমন্বয় হয়েছে বলে মনে হয় না। এমন কোন আলোচনাও শুনিনি।

বিদেশিদেরকে নিয়ে আরেকটি কথা। দেশের একজন নাগরিকের ২০ টা সীম লাগলে একজন বিদেশিরও কি ২০ টা সীম লাগবে? একজন বাংলাদেশী নাগরিক কোন কারণে দেশের বাইরে গেলে তার সীম প্রায় ১৫ মাস এক্টিভেটেড থাকবে। বিদেশীর বেলায় কি এটা প্রযোজ্য? তাহলে তো পোয়াবারো। ধরুন একজন বিদেশি যিনি কোন অপরাধ সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত (কিন্তু চিহ্নিত নন) তিনি দেশে এসে শুধুমাত্র তার পাসপোর্ট দিয়ে ২০ টা সীম এবং ২০ টা মোবাইল সেট রেজিষ্ট্রেশন করলেন। এরপর তিনি তার এদেশীয় সহযোগীদের কাছে সেই সীম এবং সেট হস্তান্তর করে চলে গেলেন। কারও কিছু বলার আছে? বিদেশী নাগরিকদের বেলায় শুধু পাসপোর্ট কেন? তিনি যখন এদেশে ঢুকেছেন তখন তো বিমান বন্দরে হাতের পাঁচ আংগুলের ছাপ (স্ক্যানিং) দিয়েই ঢুকেছেন। তাহলে সীম রেজিষ্ট্রেশনের সময় তার আংগুলের ছাপ এবং বিমানবন্দরে দেয়া আংগুলের ছাপ মিলিয়ে দেখতে অসুবিধা কি? পর্যটক বা স্বল্প সময়ের জন্য অন্য কোন ভিসা নিয়ে এদেশে আসার পর ভ্রমণ কিংবা কাজ শেষ করে তিনি যখন বিমান বা সড়ক পথে দেশের বাইরে যাবেন, তখন ইমিগ্রেশনের বহির্গমন কাউন্টারে আবারও তাকে ফিংগার প্রিন্ট দিতে হয়। যদি এমন কোন ব্যবস্থা রাখা হয় যে, তিনি দেশের বাইরে যাবার সময় ফিঙ্গার প্রিন্ট দেয়ার সাথে সাথে তার ব্যবহৃত সীম পরবর্তী ২৪ ঘন্টা পর ডি-এক্টিভেটেড হয়ে যাবে, তাহলে কি খুব অসুবিধা হবে?

সবশেষে আসে তদারকি’র কথা। এর আগের আইন অনুযায়ী সব সীমই কিন্তু নিবন্ধিত থাকার কথা। কিন্তু মনিটরিং এবং জবাব দিহিতা না থাকায় এখন এক এনআইডি’র বিপরীতে দশ-বিশ হাজার সীম পাওয়া যাচ্ছে। সুতরাং, এবারকার উদ্যোগও যে ভবিষ্যতে আবারও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে না তার জন্য কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? প্রতিটি সীম সঠিকভাবে নিবন্ধনের মূল দায়িত্ব অপারেটরদের। সরকারের নয়। সুতরাং তারা তাদের কাজে গাফিলতি করলে পেনাল্টি’র কি ব্যবস্থা? শুধু তিরস্কার করে একখানা চিঠি দিলেই কি অপারেটররা লজ্জায় লাল হয়ে যাবে?

জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রম বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর মত সুশৃংখল এবং বিশাল একটা ওয়ার্কিং ফোর্স ছিল যারা প্রায় এক বছরের বেশী সময় নিয়ে কাজ শেষ করেছিল। আমার যতদুর মনে পড়ে, তখন মোট ৬ বা ৭ কোটি মানুষকে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছিল। প্রতিটি উপজেলা এমনকি ইউনিয়িন পর্যায়ে ক্যাম্প করে সেনাবাহিনী সেই কার্যক্রম চালিয়েছিল। এখন দেশে প্রায় ১০ কোটির অধিক সীম নিবন্ধন বা পূনঃনিবন্ধন করতে হবে। আর জনপ্রতি ২০ টা সীমের প্রভিশন থাকলে নিবন্ধিত সীমের সংখ্যা ১৫ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এত বিপুল সংখ্যক সীম নিবন্ধনের জন্য কি পরিমান সময় লাগবে সেটা কেউ ভেবে দেখেছেন কি? মোবাইল অপারেটরদের সেই পরিমান কাষ্টমার কেয়ার সেন্টারই তো নাই। এমনিতে সামান্য কোন কাজে কাষ্টমার কেয়ারে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। এখন সীম পূনঃনিবন্ধনের কাজ যোগ হবার পর কাষ্টমার কেয়ারে আগের রাত থেকে ইট বিছিয়ে লাইন দিতে হতে পারে।

অতি সম্প্রতি জানলাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের ভেরিফিকেশনে কিছু জটিলতা হয়েছিল। প্রতিমন্ত্রী জানালেন অপারেটররা নাকি পরিচয়পত্রের নম্বর ভুল টাইপ করছিলেন তাই সঠিকভাবে ভেরিফিকেশন করা যাচ্ছিল না। প্রতিমন্ত্রী কি জানেন, প্রতিটি জাতীয় পরিচয় পত্রের পেছনে একটা বার কোড দেয়া আছে? সঠিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে যে কোন বারকোড স্ক্যানার দিয়ে করলে স্ক্যান করলে এনআইডি কার্ডের নম্বর টাইপ করারই কথা না। আর এক্ষেত্রে সময়ও লাগবে খুবই কম। ধরুন আমি একটা সিম নিবন্ধন করতে চাই। অপারেটর প্রথমে সেটাকে সিম কার্ড রিডারে ঢুকাবেন, কম্পিউটার সাথে সাথে তার নম্বর নিয়ে নিবে। এরপর অপারেটর ব্যাক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের পেছনে বারকোড স্ক্যান করবেন এবং সব তথ্য নিয়ে নিবেন। সব শেষে ব্যাক্তি তার আংগুলের ছাপ দিবেন (স্ক্যানিং)। কম্পিউটার তখন স্বংক্রিয় পদ্ধতিতে এই তিনের সমন্বয়, ভেরিফিকেশন, রেজিষ্ট্রেশন করবে। কোথাও ভুল বা অসংগতি পাওয়া গেলে এরর মেসেজ আসবে। এখানে টাইপ করার সুযোগ কোথায়? কাকে কি বোঝানো হচ্ছে? এভাবে জাতীয় পরিচয়পত্রের পেছনের বার কোড ব্যবহার করা হলে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে সর্বোচ্চ ২০ সেকেন্ডে। আর সব তথ্য হাতে লিখতে গেলে কয়েক মিনিট লাগবে, ভুলও হবে। সারাদিন গিয়ে কাষ্টমার কেয়ারে বসে থাকার মত এত সময় কি আমাদের আছে?

National ID Card_0003

আমার কেন জানি মনে হয়, সিম নিবন্ধন/পূনঃনিবন্ধন নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিস্তারিত হোম ওয়ার্ক করেননি। একা প্রতিমন্ত্রী যা বলছেন, যেভাবে বলছেন, সেভাবেই আজ্ঞা পালন করতে আর জি ম্যাডাম, জি ম্যাডাম বলে তোয়াজ করতে ব্যস্ত তার অধীনস্ত আমলা বাহিনী। প্রতিমন্ত্রীও যে স্বাধীনভাবে সব কিছু বলতে পারছেন, কিংবা করতে পারছেন তাও নয়। তিনিও তাকিয়ে আছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অথবা প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টার দিকে। আর সরাসরি না তাকিয়ে থাকলেও বিভিন্ন প্রেশার গ্রুপের ন্যায়-অন্যায় আবদারের কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে তাকে। তিনি নিজে আইনের লোক। টেলিযোগাযোগ বিষয়ে অভিজ্ঞ কাউকে তার পাশে পরামর্শদাতা হিসেবে দেখিনি এখনও। এত সীমাবদ্ধতা, অসম্পূর্ণ কর্মপরিকল্পনা, অসহযোগী অপারেটর, বিশাল অসচেতন জনগনকে এবং সর্বোপরি জনগণের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা সুযোগসন্ধানী আর জংগীদের সামলিয়ে নিয়ে কিভাবে এত বড় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন সেটা সত্যি দেখার বিষয়। ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না কিংবা সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড় এসব কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হতে যাচ্ছি। তাই আমাদের সব কাজও উন্নত এবং সুশৃংখল হওয়া চাই।

মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। আশা করছি তিনি সফল হবেন, কিন্তু অহেতুক ভোগান্তি উপহার নিতে চাই না। দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি দেশে অবস্থানরত বিদেশীদের দিকেও একটু নজর দিন, তারা সবাই ধোয়া তুলসী পাতা নয়।