ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আজ বৃহস্পতিবার ভোর রাতে গাজীপুরের টঙ্গীতে এক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চার জন জঙ্গি এবং বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে র‍্যাব। বিস্তারিত এই লিংকে

জঙ্গি গ্রেফতারের পর চারজন র‍্যাব সদস্য চারজন হাত করা পরানো জঙ্গি এক সারিতে হাঁটিয়ে নিয়ে যাবার ছবি অন লাইনে প্রকাশিত হয়েছে।

BJMB Miitants

এই বুলেট প্রূফ জ্যাকেটগুলির প্রত্যেকটির উপর ইংরেজীতে RAB লেখা আছে। পাশাপাশি হাঁটার সময় যদি হাতকরা না থাকে কিংবা হাতকরা ঠিক মত বুঝা না যায় তাহলে কে যে র‍্যাব আর কে যে জঙ্গি এটা বোঝা মুশকিল।

গ্রেফতারকৃত সকল জঙ্গির পরনে নিজ নিজ ট্রাউজার, উপরে শার্ট/পাঞ্জাবি এবং তার উপরে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরানো হয়েছে। প্রত্যেকের মাথায় হেলমেট। এগুলো মোটর সাইকেল আরোহীদের হেলমেট, বড় ইটের টুকরাও সহ্য করতে পারবে না, বুলেট তো অনেক শক্তিশালী। বুলেটপ্রূফ জ্যাকেটগুলি কি সত্যি বুলেটপ্রুফ? আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

যদি সত্যি বুলেট প্রুফ হয়ে থাকে তাহলে গ্রেফতারের পর বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানোর উদ্দেশ্য হল যেন এরা র‍্যাবের হেফাজতে আইনের দরজা পর্যন্ত পৌছানোর আগে তাদেরই দলের কোন জঙ্গি সদস্য বা জনতার হাতে গুলিবিদ্ধ না হয়। র‍্যাবের হেফাজতে আটক সন্ত্রাসীকে গুলি করার সাহস কিংবা সেই ধরণের ইচ্ছা বা ক্ষমতা সাধারণ মানুষের আছে কিনা সেটা একটা বিরাট প্রশ্ন।

আর সন্ত্রাসীদের দোসরদের কথা যদিও গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায় না। কিন্তু এ যাবত কালের ক্রস ফায়ারের ইতিহাস বলে যে, সন্ত্রাসীরা শুধুমাত্র রাতের বেলায় যখন র‍্যাব বা পুলিশ এদেরকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য যায় তখনই শুধু গুলি করে থাকে। আজ পর্যন্ত দিনের বেলায় একটিও ক্রস ফায়ারের ঘটনা ঘটে নাই। কিন্তু এভাবে পাশাপাশি প্যারেড করে হাঁটিয়ে নিয়ে গেলে সন্ত্রাসী বা জঙ্গির দোসররা অবশ্যই উৎসাহিত হবে। কারণ এক ঢিলে সে চার এমনকি আট পাখি মারার সুযোগ পেয়ে যাবে।

প্রশ্ন হলো জঙ্গিদেরকে কি সেরকম সুযোগ দেয়া উচিত? আমার অনুরোধ, এভাবে প্যারেড করিয়ে শো-অফ বন্ধ করুন প্লিজ। তা না হলে জঙ্গি সুযোগ নিতে পারে।