ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

Tahmid 1

এই ছবিটি আজকের (০৭ আগষ্ট ২০১৬) আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গুলশান হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে তাহমিদ হাসিব এবং হাসনাত রেজা করিমকে পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়। এরপর তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হলেও তারা তাদের পরিবারের কাছে ফেরত যান নি বলে এন্তার অভিযোগ। এর প্রায় এক মাস পর পুলিশ তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে। মাঝের এই সময়ে তাদের নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা হয়েছে। হাসনাত রেজা করিমের অতীত কর্মকান্ডের ব্যাপারে সকলেই ওয়াকিবহাল থাকায় তার আপাতঃ অন্তর্ধান নিয়ে তেমন প্রশ্ন না উঠলেও তাহমিদ হাসিবের ব্যাপারে অনেকেই অনেক প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে প্রথম আলো পত্রিকা বার বার একটা কথা তার পাঠক কে গিলে খাওয়ানোর চেষ্টা করেছে, সেটা হল তাহমিদ হাসিব ঘটনার দিন সকালে দেশে এসেছে। এই হামলায় তার জড়িত থাকার সম্ভাবনা কতটুকু ইত্যাদি ইত্যাদি।

পাঠক খেয়াল করুন, ছবিটি প্রথম আলো খুব অস্পষ্ট করে ছেপেছে। আপনার চোখ খুব অনুসন্ধিৎসু না হলে আপনি হয়তো খেয়ালই করেন নি যে, কমান্ডো অভিযানের কিছু সময় আগে হলি আর্টিজানের ছাদে যখন এক জংগী, তাহমিদ হাসিব (কালো শার্ট) এবং হাসনাত রেজা করিম (সাদা টি শার্ট) দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কোন একটা কর্মপরিকল্পনা ঠিক করছেন তখন তাহমিদ হাসিবের হাতে ধরা রয়েছে একটা পিস্তল। এটা জংগীদের ব্যবহৃত একটা পিস্তল। পত্রিকার ছবিতে লাল গোল চিহ্ন নেই, আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য লাল বৃত্তটি এঁকে দিয়েছি। আমি এতটুকু অবাক হব না যদি সাক্ষ্য প্রমান বা জবানবন্দীতে এটা উঠে আসে যে, তাহমিদ হাসিবও জংগীদের সাথে হত্যা লীলা’র সরাসরি অংশীদার ছিল অর্থাৎ সেও নিজ হাতে কয়েকজন অসহায় জিম্মিকে গুলি করেছে।

আফগান হামলার পর গুয়ান্তানামো বে কারাগারে মার্কিন বাহিনী তথা সিআইএ’র হাতে বন্দী অনেক তালেবান – আল কায়েদা জংগীর মুখ থেকে কথা বের করতে দুই তিন বছরও লেগেছে। এর মানে এই না যে আমি গুয়ান্তানামো বে’ কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদের যেসব পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে সেগুলো সমর্থন করি। তবে এটা বেশ জানি, দেশ কাল পাত্র ভেদে সব দেশেই জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি মোটামুটি একই। তাহমিদ – হাসিবের ক্ষেত্রে যদি মাত্র এক মাস লেগে থাকে তাহলে – আইন শৃংখলা বাহিনীকে অনেক ধন্যবাদ। এবার এদের যথোপযুক্ত আইনি সাজার ব্যবস্থা করুন।

সত্যি নীরব একটা ছবি অনেক কথা বলে।