ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধায় গুলশানে একটি রেস্তোরা’র সামনে গাড়ী পারকিং কে কেন্দ্র করে পুলিশ এবং দুই যুবকের মধ্যে অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সংবাদপত্রের ভাষ্য অনুযায়ী দুই যুবকের একজন কে পুলিশ “তুইতোকারি” করলে যুবক এর প্রতিবাদ করে। আর এতেই জেগে উঠে পুলিশ এর ইগো (Ego)। বেধরক পেটাতে পেটাতে অসহায় সেই যুবক কে রক্তাক্ত করে ফেলে ক্ষমতাধর পুলিশ। অসহায় যুবক তখন নিজের বা তার বাবার পরিবর্তে তার মামা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী’র পরিচয় দেয়। এর পরের ঘটনা সবার জানা। আমার প্রশ্ন দুইটিঃ এক। যুবকটি নিজের বা নিজের পিতার পরিচয় না দিয়ে নিজের সাবেক ক্ষমতাধর (বর্তমান ও বটে) মামার পরিচয় দিল কেন? দুইঃ যুবকের মাতা সাংবাদিকদের বললেন যে “আমাদের মত যাদের উপর মহলে যোগাযোগ আছে তাদেরই যদি এ অবস্থা হয় তাহলে অন্যরা যাদের কেউ নেই তাদের কি অবস্থা হবে?” এখানে আমাদের মত বলতে তিনি কাদেরকে বুঝিয়েছেন?

আমি জানিনা পুলিশ কি শুরুতেই মারমুখি হয়েছিল নাকি ক্ষমতাধর পিতা –মাতার পুত্র, ক্ষমতাধর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মামার ভাগ্নে উদ্ধত যুবকের বেপরোয়া আচরণের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের খাতিরে বাধ্য হয়ে মারমুখী হয়েছিল। আর সেটা কোন পত্রিকাই ঊল্লেখ করেনি। তবে মারমুখী অপরাধীকে (যদি ঐ যুবক সেটা করেও থাকে ) সামলাতে গিয়ে পুলিশের এই আচরণ কোণ ক্রমেই ক্ষমার যোগ্য নয়। ঘটনার পর যুবকের মাতা’র উক্তি – “আমাদের মত যাদের উপর মহলে যোগাযোগ আছে তাদেরই যদি এ অবস্থা হয় তাহলে অন্যরা যাদের কেউ নেই তাদের কি অবস্থা হবে?” – এ থেকেই বুঝা যায় তার এবং তাদের পরিবারের মানসিকতা। তারা জানেন যে ঊপর মহলে তাদের যোগাযোগ আছে এবং তারা সম্ভবত আইনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। না আমি পুলিশকে সমর্থন করছি না। কিন্তু মিসেস সিমিন হোসেন এর ওই উক্তিটি মেনে নিতে পারছিনা ।

এখন প্রশ্ন হল সবকিছু জানার পর ও থানায় বসে পুলিশ কেন অশালীন আচরণ করল। এর উত্তরে আমি বলব রাজনীতি । ছাত্র দল, যুব দল কিংবা ছাত্র লীগ, যুবলীগ এর হার্ড কোর সদস্যরা যখন রাজনৈতিক বিবেচনায় পুলিশ এ যোগ দিবেন তখন এর চেয়ে ভাল কিছু আশা করা বোকামি। কে জানে হয়তো ঐ পুলিশ সদস্যরা ছাত্র দল, যুব দল এর ক্যাডার ছিলেন এখন সুযোগ পেয়ে সোহেল তাজ এর ভাগ্নে কে দেখিয়ে দিলেন পুলিশ কী জিনিষ । যাইহোক, এখন মাননীয় হাইকোর্ট তাদেরকে ডেকেছেন। দেখা যাক কী হয়। কিন্তু আমি সত্যিটা জানতে চাই – সেটা যতোই কঠিন এবং অপ্রিয় হোক না কেন ? সত্যি টা জানানোর সৎসাহস কি আমাদের সংবাদ পত্রের আছে? যদি এমন হয়ে থাকে যে যুবক নিজের আচরণ দিয়ে পুলিশ কে Provoke করেছে, সেক্ষেত্রে খমতাবান মামা’র ভাগ্নে কে কেউ কিছু বলতে সাহস পাবে কি? কিংবা অন্তত এটুকু কি কেউ বলবে যে “ হে যুবক তোমার আরও সংযত হওয়া দরকার ছিল।“ না এটা কেউ বলতে পারবে না কারন, যুবকের মাতার ঐ উক্তি যেখানে তিনি বলছেন ““আমাদের মত যাদের উপর মহলে যোগাযোগ আছে তাদেরই যদি এ অবস্থা হয় তাহলে অন্যরা যাদের কেউ নেই তাদের কি অবস্থা হবে?” এর পর আর কেউ ঐ যুবকের দিকে আঙ্গুল তোলার সাহস পাবে না, এমন কি পুলিশ বিভাগ ও হয়ত তার নিজ সদস্যের পাশে এসে দাঁড়াবে না। আমি শেষ দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।