ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

রাকিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বন্ধু হিমেলকে নিয়ে গুলশানে একটি খাবারের দোকানের সামনে আমি গাড়ি পার্ক করছিলাম” ।রাকিব হলেন সেই যুবক যিনি বিশেষ একটি সময়ে নিজেকে সোহেল তাজ এর ভাগ্নে বলে পরিচয় দিয়েছেন। রাকিবের বয়স ১৯। তিনি এ লেভেলে পড়ছেন। তার বাবা-মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ নেই।
রাকিবের বিষয়টি নিয়ে আমি খুব ভাবছি। অনেক প্রশ্ন মনে জেগে উঠছে। “সোহেল তাজের ভাগ্নে, নষ্ট পুলিশ এবং নষ্ট রাজনীতি” শিরোনামে ইতোমধ্যে ব্লগ লিখেছি, তারপরও পত্রিকার খবরগুলো বারবার পরছি আর ভাবছি – কি হয়েছিলো সেখানে? আসলেই কি পুলিশ কোন Provocation ছাড়াই এরকম বিবেকবোধ হীন কাজ করেছে ? (না, কোন প্রভোকেসন থাকলেও পুলিশের আচরণ গ্রহন যোগ্য নয়)।
১৯ বছর বয়সী এ লেভেল পড়ুয়া ছাত্রের গাড়ী চালনার লাইসেন্স ছিল কি? নাকি ছিলনা? আমি জানি সকল প্রকার কাগজপত্র জমা দিয়ে – পরীক্ষা দিয়ে, বৈধ লাইসেন্স পেতে ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লেগে যায়। ১৯ বছর বয়সী ছেলের হাতে বৈধ লাইসেন্স ছিল – এটা আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না। আর তাই বেপরোয়া গাড়ী চালনা , অতঃপর অবৈধ পারকিং এর কারনে প্রথমেই পুলিশ যে কাজটি করে থাকে অর্থাৎ লাইসেন্স পরীক্ষা করতে গিয়েই কি এত বিপত্তি? আমি হাইকোর্ট এর মাননীয় বিচারপতি কে বিনীত অনুরোধ করব যেন ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে তিনি একটিবার রাকিবের গাড়ী চালনার লাইসেন্সটি পরীক্ষা করেন। যদি বৈধ লাইসেন্স না পাওয়া যায়, তাহলে উদ্ধত আচরণের জন্য পুলিশ এর যে সাজাই হোক না কেন – ঐ যুবকের বিরুদ্ধেও যেন একটা যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়। আর এ ক্ষেত্রে সোহেল তাজ এর ভাগ্নে অথবা তাজউদ্দীন সাহেবের নাতি এই পরিচিতি যেন সুষ্ঠু বিচারের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। আমি অনেক আশা করে আমাদের দেশের জনগণের শেষ ভরসা বিচার বিভাগের কাছে এই আর্জি টুকু রাখলাম।

রকিবের মা বলছেন যে তার ছেলের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই । খুব ই ভাল কথা । কিন্তু যদি দেখা যায় তার ছেলের গাড়ি চালনার লাইসেন্স নেই, তখনও কী তিনি বলবেন যে তার ছেলের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই? নাকি গাড়ি চালানোর জন্য সোহেল তাজ এর ভাগ্নেদের কোন লাইসেন্স লাগে না ?

এবার আসি পুলিশ প্রসঙ্গে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া পুলিশ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক হীন উদ্দেশে ব্যবহৃত পুলিশ আর দুধকলা দিয়ে পোষা সাপের মধ্যে আমি কোন পার্থক্য খুজে পাই না। এরা পোষ মানার জিনিষ না। এরা খোলস পালটাবে, আবার নতুন খোলস নিয়ে ছোবল মেরে দিবে । হ্যাঁ, যত অন্যায়ই করে থাকুক না কেন – ১৯ বছর বয়সী একটা সদ্য যুবক ছেলেকে প্রবল আক্রোশে যে বা যারা বেধরক পেটাতে পারে তাদের পারিবারিক ইতিহাস, মুল্যবোধ এবং মানসিক সুস্থতা নিয়ে আমার অনেক সন্দেহ আছে। এরা কোন মায়ের – কোন বাবার সন্তান ? নিজের ছোট ভাই এর বয়সী একটা ছেলেকে যারা এভাবে মারতে পারে তারা আর যাই হোক, কোন ভাল মায়ের সন্তান হতে পারে না। এরা হয় রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে অথবা ঘুষ দিয়ে পুলিশ বিভাগে চাকরি নিয়ে অসহায় জনগনের উপর যখন – তখন বিষাক্ত ছোবল মেরে দিচ্ছে। এর পরিবর্তন দরকার। মাননীয় হাইকোর্ট কি এর উপর দয়া করে কোন দিক নির্দেশনা দিবেন?