ক্যাটেগরিঃ ফটো

শেরেবাংলা নগরস্থ বৃক্ষমেলা-২০১২ এ বৎসর নতুন যে ফলটির চারা পাওয়া যাচ্ছে তা হচ্ছে ড্রাগন ফল। ছবিটি ড্রাগন ফুলের একটি কলি এবং গাছ ও ফলের ভিতরের অংশের। ড্রাগন ক্যাকটাস গোত্রের একটি উদ্ভিদ। এর ফল গোলাকার থেকে ডিম্বাকার উজ্জ্বল গোলাপি থেকে লাল রং। আনারসের মতো সারা গায়ে কাঁটাযুক্ত। লম্বা অমসৃণ কাণ্ডের অগ্রভাগে যেন জ্বলজ্বল করছে একটি আগুন রঙা চোখ। ড্রাগনের অবয়বের সঙ্গে মিল বলেই ফলটির নাম হয়েছে ড্রাগন ফ্রুইট বা ড্রাগন ফল। ড্রাগন ফলের গাছ লতানো ইউফোরবিয়া গোত্রের ক্যাকটাসের মতো; কিন্তু এর কোনো পাতা নেই। গাছ দেখে সবাই একে চিরসবুজ ক্যাকটাস বলেই মনে করেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. এম. এ. রহিম ড্রাগন ফলের কয়েকটি চারা ২০০৭ সালে থাইল্যান্ড থেকে প্রথম বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। এর পর তিনি ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকেও কিছু ড্রাগন ফলের ভিন্ন জাতের চারা সংগ্রহ করেন । ড্রাগন ফলের (Hylocereus undatus) উৎপত্তিস্থল সেন্ট্রাল আমেরিকা। ড্রাগন ভিয়েতনামের জাতীয় ফল। ভিয়েতনামে এ ফলটি সর্বাধিক বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। ড্রাগন গাছে ফুল ফোটে সাধারণত রাতে। দেখতে অনেকটা নাইট কুইন ফুলের মতো, লম্বাটে, সাদা ও হলুদ। ড্রাগন ফুলকে ‘রাতের রাণী’ নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। ফুল স্বপরাগায়িত; তবে মাছি, মৌমাছি ও পোকামাকড়ের পরাগায়ণ ত্বরান্বিত করে এবং কৃত্রিম পরাগায়ণও করা যেতে পারে। এ ছাড়া কাটিং এর মাধ্যমেও এই ফল গাছটির বংশ বৃদ্ধি ও চাষ করা যায়। ড্রাগন ফল একটি উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। এ ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, মিনারেল এবং আঁশ রয়েছে।এই ফলের পুষ্টিগুণ সমূহ- ফাইবার ০.৯ ভাগ প্রায়, ফ্যাট ০.৩ গ্রাম, অ্যাশ ০.৬৪ গ্রাম, ক্যারোটিন ০.০২ গ্রাম, পানি ৮৩.০ গ্রাম, ফসফরাস ৩৬.১ মি. গ্রাম, এসকোরবিক এসিড ৯.০ গ্রাম, প্রোটিন ০.২২ গ্রাম, রিবোফ্লোবিন ০.০৪৫ মি. গ্রাম, ক্যালসিয়াম ০.৮৮ গ্রাম, নায়াসিন ০.৪৩০ মি. গ্রাম, আয়রন ০.৬৫ মি. গ্রাম থাকে। যকৃত ও ফুসফুসের সুরক্ষায় এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। এ ফলটি জুস তৈরিতে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। ফলটিতে চিনি বা সুগারের পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিক রোগীরাও নিশ্চিন্তে খেতে পারবেন। তথ্য সূত্র: উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট। ছবির স্থান: বৃক্ষমেলা-২০১২, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা। তারিখ: ১৫/০৬/২০১২ইং, সময়: সকাল ১১:৫৫ মিনিট