ক্যাটেগরিঃ কৃষি

গত এক বৎসর আগে লাল রং এর একটি প্যাশন ফুল দেখে আমি মুগ্ধ হই এবং সুন্দর কয়েকটি ছবিও তুলি। কিন্তু তখনও জানতাম না এই ফুল থেকে যে ফলটি হয় সে ফলের ভিতরে আছে অতি পরিচিত ট্যাং শরবতের উপকরন। ইদানিং বাংলাদেশের উচুঁ ভূমি বা পাহাড়ী এলাকায় এই ফলটির চাষ বেড়েছে। প্যাশন ফল একটি বহুবর্ষজীবী লতা জাতীয় উদ্ভিদ যার আদি নিবাস হচ্ছে ব্রাজিলের আমাজান অঞ্চলের রেইনফরেস্ট এলাকা ও আইভরিকোষ্ট, প্যারাগুয়ে এবং উত্তর আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশের সর্বত্র প্যাশনফলের চাষ হয় না তবে পাহাড়ী এলাকায় প্যাশন ফল চাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পাহাড়ী অঞ্চলে ইহা একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্যাশনফল একটি ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল।

উদ্ভিদ পরিচিতি:

প্যাশনফল Passifloraceae পরিবার এবং Passiflora জেনাসের অন্তর্গত। প্যাশনফল সাধারণত তিন ধরনের হয় যেমন বেগুনী (পার্পল) প্যাশন ফল passiflora edulis var edulis , হলুদ প্যাশনফল P. edulis var . flavicarpaএবং হাইব্রিড Tainon No1। পার্পল প্যাশনফল হতে প্রাকৃতিক মিউটেশনের মাধ্যমে হলুদ প্যাশনফল উৎপত্তি হয়েছে যা আকারে ও গুণাগুণে মাতৃপার্পল প্যাশনফল হতে উন্নত। ফুল উভয়লিঙ্গ ধরনের এতে পাঁচটি বৃত্যংশ, পাঁচটি সাদাটে পাপড়ি থাকে, বেগুনী রঙের দুই সারি সুতোর মত পুংকেশর থাকে এবং tripartite ধরনের স্ত্রীকেশর থাকে। ফল গোলাকার, ৪-৬ সেমি লম্বা, পাকলে সবুজাভ হলুদ বা বেগুনী এবং মসৃণ হয়। বীজ কাল বা বাদামী ধরনের হয়, প্রতিটি বীজ হলুদ বা কমলা রঙের সুগন্ধি রসালো পাল্প দ্বারা বেষ্ঠিত থাকে। প্যাশনফল বীজ এবং কাটিং উভয় পদ্ধতির মাধ্যমে চাষ করা যায়।

প্যাশন ফল থেকে উৎপাদিত খাদ্যসমূহ:

প্যাশন ফলের বীজকে আবৃত করে থাকা হলুদ, জিলাটিনাস, সুগন্ধিযুক্ত পাল্পকে পানিতে দ্রবীভূত করে খুবই উপাদেয় শরবৎ প্রস্তত করা যায়। এটিকে অন্যান্য জুসের সাথেও মিশ্রিত করে খাওয়া যায়। পাল্পকে প্রক্রিয়াজাতকরণ করে আইসক্রীম, জুস, স্কোয়াশ, জ্যাম ও জেলি প্রস্তত করা যায়। বীজ ও খোসা হতে পেকটিন ও উচ্চ মাত্রার লিনোলিক এসিড সমৃদ্ধ তেল আহরণ করা সম্ভব।

প্যাশনফলের পুষ্টিগুন:

প্যাশনফল ভিটামিন ‘‘সি” সমৃদ্ধ ফল। প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য বা পাল্প অংশে বিদ্যমান বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ হলোঃ
খাদ্যেপাদান পরিমাণ
পানি (গ্রাম) ৮৪.৯
আমিষ (গ্রাম) ০.৭
চর্বি (গ্রাম) ০.২
শর্করা (গ্রাম) ১৩.১
আঁশ (গ্রাম) ০.৫
ক্যালসিয়াম (মিলিগ্রাম) ৩.৮
ফসফরাস (মিলিগ্রাম) ২৪.৬
লৌহ (মিলিগ্রাম) ০.৪
ভিটামিন এ (আ: একক) ২৪১০
রাইবোফ্লোবিন (মিলিগ্রাম) ০.১
নিয়াসিন (মিলিগ্রাম) ২.২
ভিটামিন সি (মিলিগ্রাম) ২০.০
খাদ্যশক্তি (কিলোজুল) ৩৮৫.০

তথ্যসূত্র:-উইকিপিডিয়া,কৃষি মন্ত্রাণালয় ওয়েবসাইট। ফলটি সর্ম্পকে আরো বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন=>

ছবির স্থান: বৃক্ষমেলা-২০১২, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।
তারিখ: ১৫/০৬/২০১২ইং, সময়: সকাল ১১:৩৫ মিনিট