ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

 

“নন্দিত নরকে” দিয়ে যে লেখক বাংলা সাহিত্যে আবির্ভুত হয়েছিলেন তিনি কালের পরিক্রমায় লক্ষ কোটি পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন তাঁর আপন প্রতিভায়। শুভ্র, হিমু, মিসির আলীর চরিত্রের মধ্যে দিয়ে প্রতিটি পাঠক আবিস্কার করেছেন নিজেকে। আমাদের প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহম্মদ গল্প, উপন্যাস, কবিতা, গান, নাটক, চলচ্চিত্র, অংকন বলা যায় শিল্প-সাহিত্যের সব শাখাতেই তিনি নিজেকে বাংলা সাহিত্যের মহানায়ক হিসাবে আসীন করেছেন। তাঁর লেখনিতে নিজের বিভিন্ন চিন্তা চেতনার প্রকাশ ঘটিয়ে তরুনদের স্বপ্ন দেখাতে উব্ধুদ্ধ করেছেন। সুতরাং বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ বা কবি নজরুল যেমন শিল্পের বিভিন্ন শাখাতে নিজেদের অবদান রেখেছেন তেমনি হুমায়ুন আহম্মদও শিল্পের সব শাখাতে তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এবং তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন সমকালীন যে কোন কবি সাহিত্যিকের চেয়ে অন্য এক উচ্চতায়।

হুমায়ুন আহম্মদ একাধারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, একজন জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন সর্বোপরি আমাদের দেশের লক্ষ কোটি তরুণ বা পাঠকের স্বপ্নদ্রষ্টা। সুতরাং লক্ষ কোটি পাঠক বা ভক্তদের কথা চিন্তা করে লেখক হুমায়ুন আহম্মদকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে সমাহিত করাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। এই মসজিদ প্রাঙ্গণে আরো ঘুমিয়ে আছেন আমাদের দেশের প্রখ্যাত শিল্প শিল্পাচার্য জয়নাল আবেদিন এবং পটুয়া শিল্পী কামরুল হাসান।

টিভির এক সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন আহম্মেদ নিজেই স্বীকার করেছেন যদি তাঁর কবর নুহাশ পল্লীতে দেওয়া হয় তবে নুহাশ পল্লী দর্শণার্থীদের পদভারে গুলিস্তানে পরিনত হবে। আর বনানী বা বুদ্ধিজীবী কবরস্থান একজন হুমায়ুন আহম্মদের জন্য নয়। আশা করি তাঁর পরিবার বিশেষ করে স্ত্রী শাওন বিষয়টি গভীর ভাবে চিন্তা করবেন এবং হুমায়ুন আহম্মদের লক্ষ-কোটি পাঠক তথা দেশের অগনিত ভক্তদের নিরাশ করবেন না।