ক্যাটেগরিঃ ফটো

পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি দেখতে অনেক সুন্দর। বিচিত্র এবং রঙ বে-রঙের পাখা সমৃদ্ধ বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি আমরা প্রকৃতির মধ্যে হর হামেশা বিচরন করতে দেখি। কিন্তু আমরা যখন কোন প্রজাপতির বাচ্চা দেখি তখন আর প্রজাপতির সৌর্ন্দয্যটা আমাদের চোখে পড়ে না। তখন প্রজাপতির বাচ্চাটা আমাদের কাছে হয়ে উঠে ভয়ঙ্কর এক ‘শুয়ো পোকা’। গত দুই বৎসর আগে শখের বাগানের জন্য রাজশাহী থেকে কিছু হিমসাগর, ল্যাঙড়া ও অন্যান্য ভালো প্রজাতির আমের চারা এনে লাগিয়ে ছিলাম। এই বৎসর বেশ কিছু গাছে আমও ধরেছিল। কয়েকদিন আগে হঠাৎ দেখলাম আমের চারা গুলোর কচি পাতার ডালে ‘শুয়ো পোকায়’ ভরে গেছে। আমের কচি পাতা ও রস খেয়ে এক একটা শুয়ো পোকা বিশাল বিশাল দেহবল্লীর অধিকারী। প্রথম দেখায় গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে। শুয়ো পোকা গুলো দেখতে ভয়ন্কর, তবে ভবিষৎ প্রজাপতি হবে এই ভেবে মারতে ইচ্ছে করছিল না। কিন্তু আমার শখের আম গাছের বারোটা বাজাচ্ছে দেখে শেষ পর্যন্ত শুয়ো পোকা গুলোকে লাঠি দিয়ে ছুড়ে ছুড়ে ফেলে দিতে হলো। এই শুয়ো পোকাটিকে আজেলিয়া ক্যাটারপিলার (Azalea Caterpillar) বলে। আজেলিয়া হলো রডোডেনড্রন জাতীয় একটি ফুল। এই আজেলিয়া গাছের মারাত্মক ক্ষতিকারক পোকা হলো আজেলিয়া ক্যাটারপিলার। তবে এগুলোর যখন শুঁয়ো বের হয় তখন ততোটা আর ক্ষতিকারক থাকে না। হলুদ শরীরের নিচে লাল রঙের কারণে এদেরকে দেখায় অনিন্দ্য সুন্দর, তবে অনেকের কাছে ভয়ন্করও বটে। এই শুয়ো পোকাটিকে রেড হেডেড আজেলিয়া ক্যাটারপিলারও বলা হয়। এটির পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি দেখতে গাঢ় ছাই রং এর সাদা স্পট যুক্ত।

ছবির স্থান: সিঙ্গাইর, মানিকগঞ্জ। তারিখ: ১৫/০৮/২০১২ইং, সময়: বিকাল ০৪:০২ মিনিট