ক্যাটেগরিঃ ফটো

আব্দুল মালেকের মতে ভিক্ষা করে নয় পরিশ্রম করে বেঁচে থাকার মধ্যে একটা আত্নসম্মানবোধ আছে। আব্দুল মালেক পোলিও রোগে পঙ্গু হওয়া একজন শাররীক প্রতিবন্ধি। বয়স পঞ্চাশের কোটায়। ৩০ বৎসর আগে শেরপুর জেলা থেকে জীবন ও জীবিকার তাগিদে ঢাকা শহরে ভাসমান জীবন বেঁচে নেন। শাররীকভাবে যখন যে পরিশ্রম করতে পারেন তা তিনি করেছেন জীবিকার তাগিদে। বুট পলিশ থেকে শুরু করে কাঁচা বাজারে সবজি বিক্রিসহ সব ধরনের কাজ। কিন্তু কখনো পোলিও আক্রান্ত দুটো পা নিয়ে তিনি ভিক্ষে করেননি। ভিক্ষা করা তাঁর কাছে অমর্যদাকর। এখন বয়স হওয়াতে ফুটপাতে বসে স্ত্রী পেয়ারী বেগমকে নিয়ে রুটি বিক্রি করেন। সৎ পথে উপার্জন করে দুই ছেলেকে কিছুটা লেখাপড়া শিখিয়ে গার্মেন্টেসে চাকুরী করতে দিয়েছেন। কিন্তু পঙ্গু আব্দুল মালেক ও পেয়ারী বেগম ছেলেদের উপর বোঝা হয়ে থাকতে চান না। তাই তারা রুটি বিক্রি করে দুজনের খাবারের ব্যবস্থা করেন। আগারগাঁও তালতলা বাসষ্ট্যান্ডের কাছেই রিক্সাচালক, সিএনজি চালক বা অন্যান্য পেশার শ্রমিকদের জন্য তার এই পথহোটেল। এই পথহোটেলে রুটি ও সবজি ভাজি পাওয়া যায়। প্রতি রুটি ৫টাকা এবং ভাজি ৫ টাকা। একজন শ্রমিক ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে দুপুরের খাবার সারতে পারেন। প্রতিদিন মালেক ৪ কেজি আটার রুটি ও ভাজি বিক্রি করে মূলধন বাদ দিয়ে প্রায় ৩০০ টাকার মতো আয় করতে পারেন। এতে মালেক ও তাঁর স্ত্রীর দৈনিক খাবার খরচ উঠে যায়। ফলে ছেলেদের উপর তাদের আর নির্ভর করতে হয় না। মালেকের এমন প্রাণশক্তি যে কারো জন্যই অনুপ্রেরণা হতে পারে। কিন্তু অপর দিকে এই তালতলাতেই দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তারুয়া গ্রামের কুখ্যাত প্রতারক হলমার্ক তানভীর, যে বাংলাদেশের জঘণন্যতম ব্যাংক কেলাংকারির হোতা হিসাবে দেশে এবং বিশ্বে ইতিমধ্যে পরিচিতি পেয়েছেন। সৎ এবং অসৎ দুইজন ব্যাক্তিকে ঢাকার একই এলাকায় দেখলাম!

ছবির স্থান: তালতলা বাসস্ট্যান্ড,আগারগাঁও,ঢাকা। তারিখ: ১৭/১০/২০১২ইং, সময়: দুপুর ০১:২৯ মিনিট।