ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য


ছবি: প্রভাতে চন্দ্রিমার প্রথম সূর্যোদয়।

কথায় বলে “Health Is Wealth” -স্বাস্থ্যই সুখের মূল। পাঠক, আমাদের মানব জীবনে স্বাস্থ্যই হচ্ছে সকল সুখের মূল। কোন চির-রুগ্ন শরীরের অধিকারী ব্যক্তির অঢেল সম্পদ থাকলে, উন্নত গাড়িতে চড়ে বা বাড়ীতে বসবাস করলেও নিজের জীবনকে অর্থহীন বা অসুখী মনে হবে শুধুমাত্র অসুস্থ্য শরীরের কারণে। সুতরাং বলা যায়- “সুস্থ জীবন সুস্থ মন, অসুস্থ্য জীবন অসুস্থ্য মন”। আধুনিক নাগরিক জীবনে কায়িক পরিশ্রমের অভাবে আমাদের শরীরে নানা রোগ এসে বাসা বাঁধে, বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচতে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে আমাদের প্রত্যেকের নিয়মিত শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করা প্রয়োজন। একটু খেয়াল করলে দেখবেন দিন মজুর আর গ্রামের কৃষকরা শহুরে শিক্ষিত লোকদের তুলনায় অনেক ভাল স্বাস্থের অধিকারী হয়ে থাকেন। তাদের কায়িক পরিশ্রমের সাথে সুষম খাদ্য যোগ হলো মানব কূলে তারাই হতেন সবচেয়ে ভাল স্বাস্থের অধিকারী। ফলে নিয়মিত শরীরচর্চা করলে, বিভিন্ন রকম দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধি থেকে যেমন মুক্ত থাকা যায়, তেমনি বেঢপ শরীরের ওজন কমানো যায়, ব্যায়ামে ভালো ঘুম হয়, চেহারায় বাড়ে লাবণ্য, এছাড়া সব চেয়ে বেশি মানসিক প্রশান্তি আসে আমাদের ব্যক্তি জীবনে। সুতরাং নগরজীবনে বসবাস করা কায়িক পরিশ্রম করেন না এমন সব শ্রেনী বা পেশার লোকদের উচিৎ নিয়মিত শরীর চর্চা বা ব্যায়াম করা।

শরীর চর্চা বা ব্যায়ামের মধ্যে সবচেয়ে সহজ, বিনা খরচা, আরামদায়ক ও নিরাপদ ব্যায়াম হচ্ছে “হাঁটা”। এই হাঁটা যেন দৈনিক নূন্যতম ৪৫ মিনিট হয় এবং প্রতি মিনিটে হাঁটার গতি ৯০ থেকে ১১০ কদম। এক স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে- নিয়মিত হাঁটা ফলে-মানুষের রক্তের সুগার কমে, রক্তচাপ কমায়, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং অতিরিক্ত মেদ কমায়। নিয়মিত হাঁটলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় আর কারো ডায়াবেটিস হয়ে থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। হাঁটার ফলে পেশীর শক্তি বাড়ে, শরীরের ওজন ঠিক থাকে আর শরীর থাকে একদম ফিট। হাঁটা হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। বিষণ্ণতা প্রতিরোধ করে এবং ভাল ঘুম হয়। শুধু তাই নয় বিভিন্ন জটিল রোগের জন্য সর্ম্পূণ ভিন্ন ভিন্ন ব্যায়ামও আছে। ব্যায়ামের মাধ্যমে চোখের দৃষ্টি শক্তি যেমন বৃদ্ধি করা যায়, তেমনি আবার বিশেষ ধরনের ব্যায়ামের মাধ্যমে হাঁপানির মতো জটিল রোগ থেকেও আরোগ্য লাভ করা যায়।

:: শরীর চর্চা বা ব্যায়াম নিয়ে চন্দ্রিমার এক সকালের গল্প ::

প্রতিদিন প্রত্যুষে জাতীয় সংসদের উত্তর প্রান্তে লেক আর সবুজ গাছ গাছালিতে আচ্ছাদিত “চন্দ্রিমা উদ্যান” কিছু সুস্থ্য লোকের পদভারে নিয়মিত মুখরিত হয়ে থাকে প্রতিদিনের প্রভাত বেলা। ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত এখানে চলে বিভিন্ন দলে, বিভিন্ন নামে ভাগ হয়ে গ্রুপ ভিত্তিক শরীরচর্চা। বলা যায় বিনা পয়সায় অন্য দশজনের সাথে নিজের শরীরটাকে ফিট করে নেওয়ার নিয়মিত মহড়া। চন্দ্রিমায় তেমনি এক সকালের গল্প নিয়ে আজকের এই ছবি পোষ্ট। এখানে যে সব শরীরচর্চার গ্রুপগুলো আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্রুপ হচ্ছে প্রায় ১০০০ সদস্যের “চন্দ্রিমা ফিটনেস ক্লাব”, যা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ফিটনেস ক্লাব হিসাবে পরিচিত। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে শরীরচর্চাবিদ ওস্তাদ আমির হোসেনের আন্তরিক নিদের্শনার মধ্যে দিয়ে সর্ম্পূণ ফ্রিতে এক সাথে ৪০০ থেকে ৫০০ জন লোক নিয়মিত সকালে ব্যায়াম করেন এই ক্লাবে। যেখানে দেশের সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মচারী থেকে শুরু করে চালের আড়তদার পর্যন্ত সবাই এক কাতারে, একই সাথে। এই ক্লাবের একটি আলোচিত স্লোগান হলো “সকাল বেলার হাওয়া, কোটি টাকার দাওয়াহ্”

এছাড়া ইন্সেট্ক্টর সেলিমের নির্দেশনায় “শুভ্র সকাল” প্রায় ১০০ সদস্যকে শরীরর্চচা করায়। এছাড়া ছোট ছোট দল গুলোর মধ্যে “ভোরের শিশির” , “বন্ধন ফিটনেস ক্লাব”, “প্রভাতে চন্দ্রিমা”, “ভোরের শিশির ফিটনেস ক্লাব”, “চন্দ্রিমা আলাপন ফিটনেস ক্লাব” উল্লেখযোগ্য। প্রতি শুক্রবার টাকার বিনিময়ে শরীরর্চচা ও কারাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে “ডায়মন্ড মার্শাল আর্ট ট্রেনিং সেন্টার”। এছাড়াও আছে বাচ্চাদের স্কেটিং শেখার সুব্যবস্থা।

:: ফটো এ্যালবাম ::


ছবি: প্রভাতে দৌড়ের উপর থাকে যারা।

:: ” ছবিতে চন্দ্রিমা ফিটনেস ক্লাবের চিত্র” ::


ছবি: সকালে রবির প্রথম কিরণ।


ছবি: বিকল্প শরীরচর্চাবিদ আলতাফ ভাইয়ের নির্দেশনা।


ছবি: শারিরীক কসরত-১


ছবি:শারিরীক কসরত-২


ছবি:শারিরীক কসরত-৩


ছবি:শারিরীক কসরত-৪


ছবি:শারিরীক কসরত-৫


ছবি:শারিরীক কসরত-৬


ছবি:শারিরীক কসরত-৭


ছবি:শারিরীক কসরত-৮


ছবি:শারিরীক কসরত-৯

:: অন্যান্য গ্রুপগুলোর ছবি ::


ছবি: “বন্ধন ফিটনেস ক্লাব”


ছবি: ” প্রভাতে চন্দ্রিমা”


ছবি: “ডায়মন্ড মার্শাল আর্ট ট্রেনিং সেন্টার”


ছবি: “শুভ্র সকাল”


ছবি: আড্ডারত প্রভাতী “যুবক মনের অধিকারীরা”


ছবি: সবুজ গাছের ফাঁকে জাতীয় সংসদ।


ছবি: ক্রিসেন্ট লেক ব্রীজ।


ছবি: দীঘল কালো জলে ক্রিসেন্ট লেকের সৌন্দর্য।


ছবি: আছে বকুলের মৌ মৌ গন্ধ।


ছবি: নাগেশ্বরের সফেদ আহবান।


ছবি: কৃষ্ণচূড়ার রক্ত রাঙানো হাসি।


ছবি: শাপলায় জাতীয়তাবোধের পরিচয়।


ছবি: ক্লান্ত বা অসুস্থ হলে প্রাথমিক চিকিৎসা ও চেক-আপ।


ছবি: তৃষ্ণায় কচি ডাবের পানিতে গলা ভেজানো সুব্যবস্থা।


ছবি: না খালি হাতে ফিরবেন কেন…সকালের পত্রিকাটি হাতে নিয়ে এবার দুনিয়ার খবরগুলো জেনে নিন এবং সুন্দর ভাবে ফুরফুরে মন নিয়ে শুরু করুন আরো একটি কর্মব্যস্ত দিন।