ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

বিশ্বের প্রায় ১১৫টি দেশের মানুষের মন জয় করে বিশ্বখ্যাত রিয়ালিটি শো “হু ওয়ান্টস টু বি অ্যা মিলিয়নেয়ার” এর বাংলাদেশ সংস্করণ “কে হতে চায় কোটিপতি” দেশ টিভিতে প্রচার শুরু হয়েছে গত ১০ জুলাই ২০১১ইং। এটি প্রচারিত হয় সপ্তাহের প্রতি রবি, সোম ও মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে । মেধা ভিত্তিক এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও আগ্রহের কমতি নেই। অনুষ্ঠান তৈরিতে একযোগে কাজ করছে দেশ টিভি, “ডেলটা বে” ও রেড ডট এই তিনটি প্রতিষ্ঠান। আর এই “কে হতে চায় কোটিপতি” অনুষ্ঠানে অডিশন রাউন্ড পর্যন্ত যাবার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। একজন সিটিজেন জার্নালিস্ট বা ব্লগার হিসাবে আমি আমার এই অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। অনুষ্ঠানে গিয়ে যতদুর জেনিছি এই অনুষ্ঠানটি প্রযোজক প্রতিষ্ঠান প্রথমে তিন মাসের জন্য তিনটি পর্বে ভাগ করে টিভিতে প্রচারের নির্মাণ করবেন। ইতিমধ্যে গত ১০ জুলাই থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ১ম পর্বে ধারণকৃত অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়েছে। ১৪/০৮/২০১১ইং রবিবার থেকে ২য় পর্বে ধারণকৃত অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে।


ছবি: অডিশন রাউন্ডে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা ডিভিশনের প্রার্থীদের উপস্থিতি।

“কে হতে চায় কোটিপতি” অনুষ্ঠানের নির্বাচন পদ্ধতি হচ্ছে:-
প্রথমে রবি গ্রাহকের ৬/৭ লাখ এস.এম.এস থেকে রেন্ডম কম্পিউটার সিলেকশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষের ভাগ করা ৫টি ডিভিশন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট থেকে ৫০০ করে মোট ২৫০০ জনকে নির্বাচিত করা হয়। রেন্ডম কম্পিউটার সিলেকশনে যাদের নাম আসবে তাদের কাছে “রবি” থেকে একটি কনফারমেশন এস.এম.এস যাবে প্রার্থীর কাছে। তারপর ২/৩ দিনের মধ্যে রিং করে প্রার্থীর কিছু ব্যাক্তিগত তথ্য এবং রেন্ডম ভিত্তিতে প্রার্থীকে তিনটি প্রশ্ন করা হবে। ১ ও ২ নং প্রশ্নে ৪টি করে উত্তরের অপশন দেওয়া হবে, ঐ অপশন থেকে যে কোন একটি উত্তর সঠিক হিসাবে বেচে নিতে হবে। ৩য় প্রশ্নটি হবে যে কোন ২টি স্থানের দূরত্ব বিষয়ক প্রশ্ন যাহা অনুমানের উপর ভিত্তি করে উত্তর দিতে হবে, এক্ষেত্রে কোন অপশন থাকবেনা। উত্তর কাছাকাছি হলে সঠিক বলে ধরে নেওয়া হবে। আমার ক্ষেত্রে ১ম প্রশ্নটি ছিল একটি নদীর নাম দেওয়া হলো, নদীটি কোন দেশের বলতে হবে। ২য় প্রশ্ন একটি বিখ্যাত প্রাচীরের নাম দেওয়া হলো..প্রাচীরটি কত সালে নির্মিত বলতে হবে। এবং শেষে দেশের দুটি স্থানের নাম দেওয়া হলো, এ দুটো স্থানের মধ্যে সড়ক পথে দূরত্ব কত বলতে হবে। এসব প্রশ্নের সঠিক সর্বোচ্চ উত্তরের উপর ভিত্তি করে প্রতি ডিভিশন থেকে ১০০ জনকে নির্বাচিত করে অডিশন রাউন্ডে ডাকা হলো। আমার তিনটি প্রশ্নের উত্তর সঠিক হওয়াতে আগে থেকেই কিছুটা আশান্বিত ছিলাম। তারপর এস.এম.এস ও রবি থেকে কল পায় এবং ২৫শে জুলাই অডিশন রাউন্ডে গুলশানের ইমানুয়েল ব্যাংকুইট হলে অডিশনের জন্য উপস্থিত হই।


ছবি: হলে ঢোকার আগে স্ক্যানিং সাথে অন্য কোন ক্যামেরা বা মোবাইল নেওয়া যায় না।

অডিশন সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে। এর মধ্যে প্রার্থীদের জন্য সকালে নাস্তা, বেলা ১১টায় কফি-বিস্কুট, দুপুরে উন্নত মানের লাঞ্চ এবং বিকালে নাস্তার ব্যবস্থা ছিল। অডিশনে যা করতে হয়, প্রথমে ৮ পৃষ্ঠার একটি প্রশ্নপত্র থাকে যাতে ব্যাক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে, নিজের চিন্তা-ভাবনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সমাজ-দেশ, রাজনীতি বা অর্থনীতি নিয়ে আপনার ভাবনা, সিনেমা,গান নিয়ে আপনার আগ্রহ। জীবনের স্মৃতিমধুর ঘটনা অথবা দুঃখজনক স্মৃতিসহ আরো অনেক ফিল্ড থাকে যা নিজের চিন্তা ভাবনা থেকে লেখার সুযোগ আছে। দুপুরের পর হলো ১৫ মার্কের একটি এম.সি.কিউ পরীক্ষা। তারপর সবশেষে ৫ মিনিটের ভিডিও সেশন। ওখানে যাওয়ার পর বুঝতে পারলাম শুধু মেধার ভিত্তিতে প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হবে না, প্রতি ডিভিশন থেকে মাত্র ১০ জন প্রার্থী ফাইনাল অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচিত হবেন। তাও বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে।


ছবি: অডিশনের রেজিষ্ট্রেশন কার্ড।

এখানে মেধা, এক্স ফ্যাক্টর, জেলা কোটা, গৃহিনী বা বিভিন্ন পেশাজীবি বা অন্য কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। এই অধিকার প্রযোজক কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার ভুক্ত। অডিশনের কোন রেজাল্ট প্রকাশ করা হবে না। কর্তৃপক্ষ যাকে ফাইনেলের উপযুক্ত মনে করবেন থাকেই সিলেকশন করতে পারবেন। অর্থাৎ এক পর্বে ফাইনাল রেকডিং এর জন্য প্রতি ডিভিশন থেকে ১০ জন করে মোট ৫০ জনকে ডাকা হবে। প্রযোজক প্রতিষ্ঠান “ডেল্টা বে”র কর্ণধারের এক বক্তব্যে বুঝা গেল শুধু মাত্র মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচিত হলে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য সর্বসাধারণ আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন..তাই সবাইকে সুযোগ দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা আছে তাদের। আমি যতটুকু কাছ থেকে দেখেছি আমার কাছে পুরো অনুষ্ঠানের আয়োজনে স্বচ্ছতা চোখে পড়েছে। তবে অনুষ্ঠানটি শুধু মাত্র মেধা ভিত্তিক হলে হয়ত আরো ভালো হতো…অবশ্য এই ক্ষেত্রে এস.এম.এস কমে যেতো এবং আয়োজকদের ব্যাণিজ্যিক বিষয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হতো। আমার কাছে মনে হয় “হট সিটে” বসা প্রার্থীদের প্রাথমিক ৬/৭ প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারাটা অনেক দুঃখ জনক, যেখানে অডিশন রাউন্ডে অনেক মেধাবী প্রার্থী থাকে..শুধু কোটা, ক্রাইটেরিয়ার জন্য বাদ পড়ে যায়। অবশ্য সবাই প্রথম ১০টি প্রশ্নের জবাব দিতে পারলে আয়োজক কর্তৃপক্ষের ৩,৪০,০০০/- টাকা করে গচ্চা যাবে..এটাও একটি ভাববার বিষয়!


ছবি: অডিশনে পাওয়া সূভেনিয়র হিসাবে গেঞ্জির ছবি।

প্রার্থী নির্বাচনের সিস্টেম যাই হউক তারপরও একটি রিয়েলিটি শো এর অডিশন পর্ব পর্যন্ত গিয়ে দারুন উপভোগ করেছি…অনেক অজানা মানুষের সাথে পরিচিত হতে পেরেছি। যদিও অডিশন পর্বে যাওয়া কোন প্রার্থীর ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায় না….ফাইনালে ডাক পাওয়া কোন প্রার্থীর ব্যক্তিগত কোন সমস্যা দেখা দিলে বা রেকডিং-এ উপস্থিত হতে না পারলে অডিশনে যাওয়া যে কোন প্রার্থীই ডাক পেতে পারেন। সুতরাং আপনিও ট্রাই করতে পারেন…!