ক্যাটেগরিঃ ফটো

:: ফুলের নাম নাগলিঙ্গম::

“নাগলিঙ্গম” ফুলের নাম শুনেছি অনেক আগেই কিন্তু ফুলটি আমি প্রথম দেখি রমনা পার্কে ২০০৮ সালে। বেশ মিষ্টি একটা গন্ধ এবং দেখতেও বেশ সুন্দর। ফুলের লাল পাপড়ীর মধ্যেখানে নাগ বা সাপের মতো ফণা তুলে আছে হালকা গোলাপী হলুদে মিশ্র রং এর পুং কেশরের একগুচ্ছ ক্ষুদে পাপড়ী। ফুলটির প্রতি আমি দারুন ভাবে আকৃষ্ট হই। “নাগলিঙ্গম” আকারে যেমন বড়, রূপে তেমনি নয়নাভিরাম, সৌরভে মনোহরা। এটি গ্রীষ্মের ফুল। ফুটতে শুরু করে বসন্তের শেষ থেকে। অনেক দিন ধরে ফোটে, প্রায় শরৎ পর্যন্ত। এর ফল দেখতে কামানের গোলার মতো। সে কারণেই ইংরেজিতে এর নাম ক্যাননবল। তবে ফল নয়, নাগলিঙ্গম দৃষ্টি কাড়ে তার ফুলের সৌন্দর্যের কারণে। বাংলা নামঃ নাগলিঙ্গম ফুল।, ইংরেজি নামঃ Canon ball, বৈজ্ঞানিক নামঃ Couroupita guianensis, পরিবারঃ Lacythidacea। নাগলিঙ্গমের সৌন্দর্যে অভিভূত উদ্ভিদবিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা তাঁর শ্যামলী নিসর্গ বইয়ে লিখেছেন, ‘আপনি বর্ণে, গন্ধে, বিন্যাসে অবশ্যই মুগ্ধ হবেন। এমন আশ্চর্য ভোরের একটি মনোহর অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই অনেক দিন আপনার মনে থাকবে।’ নাগলিঙ্গমের আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলে। নাগলিঙ্গম ত্রিনিদাদ ও ক্রান্তীয় আমেরিকার প্রজাতি। নাগলিঙ্গম আমাদের দেশে বেশ দুর্লভ। এটি ভারত থেকে আমাদের দেশে ১৯৫২ সালে রমনা পার্ক ২য় দফায় চালু করার পর আনা হয় বলে জানা যায়। নাগলিঙ্গম গাছ ২০-২৫ মিটার উঁচু হয়। কয়েকবার পাতা ঝরায় এবং কয়েকদিনের মধ্যেই আবার পাতা গজায়। ১৫ সেমি লম্বা বড় বড় পাতা। গাছের কাণ্ড ও ডাল থেকে ঝুলন্ত লম্বা লম্বা ডাঁটায় কয়েকটি ফুল ফোটে বছরে কয়েকবার। ফুল ৭-৮ সেমি চওড়া, সুগন্ধি, হলুদ-গোলাপি বা লাল, মাঝখানে সাপের ফনার মতো চ্যাপ্টা ও বাঁকা সাদাটে রঙের যুক্ত পরাগ গুচ্ছ। ফল গোলাকার, ১৫ সেমি চওড়া, বাদামি, শাসালো, তাতে অনেক বীজ। শাঁস দুর্গন্ধী। বীজ থেকে চারা হয়। গোলাকার বড় বড় ফল গুলো কামানের গোলার মতো। তাই তার ইংরেজি নাম ক্যানন বল। বাংলাদেশে রমনা পার্ক, বলধা গার্ডেন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন, টংগী, বরিশালের বিএম কলেজ, ময়মনসিংহের মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, গফরগাঁও সরকারি কলেজসহ সারাদেশে সর্বোচ্চ ৩০-৪০টির মতো গাছ রয়েছে।

ছবিটির স্থান: শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তারিখ: ২৯/১১/২০১১ইং, সময়: সকাল ০৮:০৫ মিনিট।