ক্যাটেগরিঃ ফটো

সংসদ ভবনের উত্তর পাশে ক্রিসেন্ট লেকের ব্রীজটা পার হলেই চন্দ্রিমা উদ্যানের পথের দুধারে সাজানো ছোট ছোট খেজুর গাছ আকৃতির বেশ কিছু সাইকাস উদ্ভিদ দেখা যায়। এটি সাধারণত আমাদের দেশে সৌখিন বাগানবিলাসী লোকেরা তাদের বাগানে বা গেইটের পাশে বাগানের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য লাগিয়ে থাকেন। কিন্তু হঠাৎ যখন ঐ গাছের মধ্যেখানে ফুলের মতো কিছু একটা দেখা যায় তখন অনেকে এই মোচা আকৃতির বস্তুটা দেখে ফুল ভেবে ভুল করে । নীচে সাইকাস সম্পর্কে কিছুটা ধারনা দেওয়া হলো। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস:- জগৎ/রাজ্য: Plantae, বিভাগ: Cycadophyta, শ্রেণী: Cycadopsida ,বর্গ: Cycadales , পরিবার: Cycadaceae , গোত্র: Cycas , প্রজাতি: C. revoluta । সাইকাস একটি অপুষ্পক উদ্ভিদ। দেখলে মনে হবে খেজুর, তাল, নারকেল গাছের সমগোত্রীয় কোন উদ্ভিদ। কিন্তু আসলে তা নয়। এটি আমাদের দেশের কোন উদ্ভিদ নয়। এর আদিবাস হচ্ছে জাপানের দক্ষিণাঞ্চল। জাপানে এই গাছটিকে স্থানীয় ভাষায় সাগু পাম বা কিং সাগু পাম নামে অবহিত করা হয়। সাইকাস সাধারণত ৪ থেকে ১৫ ফুটের মতো উচুঁ হয়। সাইকাস প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার ডগার মধ্যবর্তী স্থানে প্রায় গোলাকার বা গম্বুজাকৃতির একটা বেশ বড় মোচা বের হয়। মোচাটি দেখতে অনেকটা ফুলের মতো মনে হয়, কিন্তু আসলে ফুল নয়। এই ফুল আকৃতির মোচার ভিতর ফুল বা ফল কিছুই হয় না। কাজেই আমাদের কাছে বীজ বলতে যা বুঝায় তাও সেখানে তৈরী হয় না। এটি একটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ। এই ফুল আকৃতির মোচার ভিতরে থাকে অসংখ্য স্পোর, এই স্পোরকে সহজ ভাষায় বলা যায় নগ্নবীজ। এমন অনেকগুলো স্পোর যাহা বেশ নমনীয় কোমল কিন্তু তা একত্রিত ও স্ফীত হয়ে ফলের মতো স্তুপ আকারে সজ্জিত থাকে। তাই প্রথম দেখাতে যে কেউ এটিকে ফুল ভাবতে পারে। কিন্তু কিছুদিন পর দেখা যায় ঐ মোচার মধ্যখান থেকে নতুন ভাবে গজিয়ে উঠছে বেশ কিছু নতুন কোমল পাতা। এভাবে ধীরে ধীরে সাইকাস পরিবেশের মধ্যে বাড়তে থাকে।

ছবিটির স্থান: ক্রিসেন্ট লেক, জাতীয় সংসদ ভবন ক্যাম্পাস। তারিখ: ৩০/০৪/২০১২ইং, সময়: সকাল ০৭:০৪ মিনিট।