ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

bojhena_se-bojhe-na

ভারতে বাংলাদেশের কোন চ্যানেল দেখানো হয়না।আমাদের দেশে ভারতীয় চ্যানেলের প্রচার বন্ধে এইটুকু কারণইতো যথেষ্ট। তার জন্যে কোন আইনি নোটিশ বা কোন আনুষ্ঠানিকতার দরকার নেই। ঢং দেখিয়ে তারা আমাদের দেশ থেকে কাড়ি কাড়ি পয়সা নিয়ে যাবে আর আমরা কি বসে বসে আঙুল চুষবো? সবচেয়ে বড় কথা আমাদের দেশীয় সাংস্কৃতিক ভীত বাচিয়েঁ রাখতে ফাউল মার্কা চ্যানেলের অনুপ্রবেশ অবশ্যই শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে হবে। ভারতীয় টিভি চ্যানেলের আগ্রাসী আধিপত্য বিস্তারের কারণে আমাদের সাংস্কৃতি আজ চরমভাবে হুমকির মুখে। বাংলাদেশের নারী-পুরুষ তাদের অনুষ্ঠান দেখে ভারতীয় সাংস্কৃতি হুবুহু অনুকরণের জোর চেষ্টা করছে। যার প্রমাণ বর্তমানের বিতর্কিত “পাখি ড্রেস”। তাছাড়া আমার মনে হয় বাংলাদেশে যে সমস্ত বড় বড় চুরির ঘটনা ঘটেছে সেগুলো ভারতীয় হিন্দি ছবির বিভিন্ন চুরির দৃশ্যের আদলে। বর্তমানে বাঙালি পরিবার গুলোতে ১০০% অশান্তি বিরাজ করছে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সিরিয়ালের কারণে। ভারতীয় সিরিয়াল আমাদের দেশে এইডস এর মতো ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। সিরিয়াল নামক ভাইরাস এদেশের প্রত্যেক নারীকে গ্রাস করেছে। সবচেয়ে ভয়ের কথা আমাদের দেশের ছোট্ট ছোট্ট শিশুরাও আক্রান্ত হয়ে পড়েছে এই সিরিয়াল নামক ব্যাধি দ্বারা। যেটি আমাদের জন্য চরম অশুভ সংকেত। এক্ষুনি যদি ভারতীয় টিভি চ্যানেল বন্ধ করা না যায় তবে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে। ছো্ট্ট ছো্ট্ট বাচ্চারা ভারতীয় সিরিয়ালকে সম্পূর্ণভাবে তাদের বিনোদনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে তাহলে এ দেশের সাংস্কৃতি চরমভাবে বিপদগ্রস্থ হবে।

আমাদের দেশের মহিলারা তাদের ফ্যাশানসহ ব্যক্তিগত জীবনে ভারতীয় সিরিয়ালের অনুকরণ করছে। ঘড়িতে রাত ৮.০০ বাজলে আমাদের দেশের মহিলাদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। স্বামী, সন্তান, সংসার ফেলে বসে পড়ে সিরিয়াল দেখতে। কোন কারণ বসতঃ একদিন সিরিয়াল দেখতে না পারলে পাশের বাড়ির আপার কাছে জিজ্ঞাস করতে ভোলেনা।কি ভয়াবহ অবস্থা একটু নিরূপন করার চেষ্টা করেন। এই সিরিয়ালের দানবরূপী প্রভাবের কারণে আমাদের দেশে আত্নহত্যা, বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এখনো যদি এই সিরিয়াল এইভাবে চলতে থাকে তাহলে জানিনা সামনে আমাদের জন্য কি অপেক্ষা করছে।

তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা এক সময় নিজেরাই নিজেদেরকে গুটিয়ে নেবো এই টিভি সিরিয়াল থেকে তবে সেটি হবে অনেক বিসর্জনের পরে।কারণ এক গাছে অন্য গাছের ছাল কখনোই জোড়া লাগেনা। তেমনি শেকড় ভুলে বিদেশী কোন ভাষা, সাংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে বেশি দূর আগানো যায়না। মহাকবি মাইকেল মধূসূদনও কিন্তু পারেনি।

যাহোক শ্রদ্ধেয় তথ্য মন্ত্রীর নিকট আবেদন করবো কোন আনুষ্ঠানিকতা নয়, যত দ্রুত পারা যায় ভারতীয় চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করুন। আমাদের যা আছে সেটি নিয়েই আমরা বাঁচতে চাই। বিদেশী কোন অবলম্বন যেন আমাদের বিনোদনের খোরাক না হয়। আমাদের দেশীয় সাংস্কৃতির অবক্ষয় রোধে ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করা অত্যান্ত জরুরী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় হোক বাংলা, বাঙালির আদর্শ।