ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, স্বপ্নভঙ্গ হচ্ছে হাজারো মানুষের। বিগত দিনগুলির তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন মানুষ বাড়ি থেকে কর্মস্থলে বের হয়ে সুস্থ্য অবস্থায় বাড়ি ফিরতে পারবে কিনা এটা এখন চরম অনিশ্চিত। বর্তমান সময়ে প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কিছু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে আর কিছু মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছে বাকিটা জীবনের জন্য। পরিবারের একজন মাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি যদি অকালে প্রাণ হারায় অথবা সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে তাহলে ঐ পরিবারের আশা-আকাঙ্খা, স্বপ্ন ডুকরে ডুকরে কাদেঁ নীরবে। সাম্প্রতি ঘটে যাওয়া নাটোরের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কথাই চিন্তা করুন। কি অবস্থা ঐ সমস্ত পরিবারের? তাদের স্বপ্ন?

সড়ক দুর্ঘটনা আজকের আবিস্কৃত বিষয় নয়। এটা চার চাকার যান উদ্ভাবিত হওয়ার সময় থেকেই আবিস্কৃত। বিগত দিনগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ কম থাকলেও আজকের দিনে সেটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একসময় মাঝে মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার কথা শোনা যেত কিন্তু বর্তমানে প্রতিদিনই শোনা যায়।

সড়ক দুর্ঘটনার জন্য আসলে দায়ী কে? সাধারণ পথচারী বা যাত্রীরাই কি দায়ী? যদি তাই হয় তাহলেতো উচিত হবে রাস্তায় চলাচল না করা। ঠিক কিনা? আমরা সব সময় সচেতনার কথা কথা বলি। ড্রাইভারদের সচেতন করতে হবে। যাত্রীদের সচেতন করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আমরা কি সচেতন না? রাস্তায় পুকুর সমান গর্ত, ফিটনেস বিহীন গাড়ি, রেলক্রসিং-এ গেট না থাকা, অদক্ষ-অশিক্ষিত ব্যক্তিদের লাইসেন্স প্রদান করা, ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের শাস্তি প্রদান না করা ইত্যাদিসহ হাজারো সমস্যা দেখভাল করার দায়িত্ব কি আমাদের মতো সাধারণ জণগণের? হাজারো সমস্যায় জর্জরিত বিষয়টি সম্পর্কে হাজারো সচেতনতামূলক বাক্য জনগণকে শুনিয়ে কি কোন লাভ হবে?

নিজের ভালো পাগলেও বোঝে। আর সেখানেতো আমরা সকলেই সুস্থ্য মস্তিকের মানুষ। সুতরাং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ির চাকার নিচে ঝাঁপ দেয়না। সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের দেশের অনেক গুণীজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা সচেতন হয়েও কি তাদের ভাগ্যে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা রোধ করতে পেরেছে? উন্নত দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশে প্রতিবছরই সড়ক দুর্ঘটনায় মুত্যুবরণকারী মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। সড়ক দুর্ঘটনা কোন প্রাকৃতিক দুযোর্গ নয়, যাকে থামানো যাবে না। এটি মনুষ্য সৃষ্ট একটি সমস্যা। পদক্ষেপ নিলে এর লাগাম টানা সহজ। আমাদের দেশে রাস্তায় সিগন্যাল লাইট আছে কিন্তু সেটা জ্বলেনা। ট্রাফিক পুলিশ আছে অথচ ট্রাফিক আইন অমান্যকারীর শাস্তি হয়না। আমাদের দেশের প্রধান সড়কের ধারে যেভাবে গাড়ি পার্কিং করা থাকে তাতে মনে হয় রাস্তাটাই পার্কিং এর স্থান। এগুলো তদারকির দায়িত্ব যাদের উপর অর্পিত আছে তারা শুধু দেখেই যাচ্ছে কিন্তু নিরসনের কোন পদক্ষেপ কিষ্ণিৎ পরিমাণ নেই।

সড়ক দুর্ঘটনা আসলে কোন দুর্ঘটনাই নয়। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। একটি মানুষকে জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের করা হচ্ছে এবং জোরপূর্বক যানবহনের নীচে ফেলে হত্যা করা হচ্ছে। ভয়ানক হাজারো অদৃশ্য রোগব্যাধী, ভাইরাস যদি উন্নত চিকিৎসার বদৌলতে নির্মূল করা সম্ভব হয়, তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা কেন রো্ধ করা যাবেনা? এই গুরুতর সমস্যা রোধে কি কিছুই করার নেই? যদি থাকে তাহলে সেটি কেন সম্ভব হচ্ছেনা? আমাদের চাওয়া সুস্থ্য, সুন্দর, নিরাপদ একটি পৃথিবী। আর সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের ভাগ্য নির্ধারকদের উপর। তাদের সুদৃষ্টি ধ্বংস করতে পারে মানুষের প্রাণঘাতী বা বাঁধা সৃষ্টিকারী হাজারো ওসুরকে। তাদের কাছে আমার, আমাদের সকলের চাওয়া দুর্ঘটনা মুক্ত একটি সড়ক আমাদেরকে উপহার দিন।

[ভালো লাগলে শেয়ার করুন, আরো পাঁচজনকে পড়ার সুযোগ দিন, ভালো-মন্দ মন্তব্য করে উৎসাহিত করুন]