ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে এমন কথা গুজব মনে হচ্ছিল। কিন্তু পত্রিকায় এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেখে গুজব ধ্বংস হয়ে বিশ্বাসে পরিণত হলো। অর্থাৎ প্রশ্নপত্র ফাঁস সিনেমাটি সত্যিই একটি বাস্তবভিত্তিক সিনেমা। যেখানে ফিল্মি কায়দায় পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র পেয়ে যাচ্ছে ছাত্র/ছাত্রীরা। কি দারুণ কাহিনী!

প্রত্যেকটি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা প্রত্যেকটি শিশুর ভবিষ্যতের প্রথম পর্যায়ের সিড়িঁ অথচ যেখানে চলছে প্রশ্ন ফাঁসের মহাৎসব। একটি শিশু জীবনের প্রাথমিক পর্যায়েই যদি চুরির ঘটনার স্বাক্ষী হয় তাহলে ভবিষ্যত জীবনে দেশ তথা গোটা জাতি তার নিকট থেকে কি প্রত্যাশা করতে পারে? আমাদের দেশের অভিভাবকরাই তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে বিভিন্ন উৎস থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপ্রত্র সংগ্রহ করে দিচ্ছে। অভিভাবক এই কাজটি করছে কারণ বাচ্চাকে ভালো ফলাফলের অংশীদার করার জন্য। একজন অভিভাবক এই কাজটি করে নিজের বাচ্চার জন্য নিজেই ক্ষতি ডেকে আনছে। অভিভাবকেরই বা দোষ দেবো কেন? যখন বড় বড় রাঘব-বোয়ালদের বাচ্চারা চুরি করা প্রশ্নপত্রে দেশ সেরা হবে তখন অন্যরাওবা পিছিয়ে থাকবে কেন?

বর্তমানে শিক্ষিত হওয়ার পদ্ধতিটা এতটাই উন্নত যে, রাত জেগে কষ্ট না করলেও চলে। আমাদের দেশে গড় শিক্ষার হার বাড়ছে কিন্তু শিক্ষিতের হার কমতে শুরু করেছে। একদিন হয়তো আমাদের সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে হবে এলাকার শ্রেষ্ঠ বেগুন চাষী স্কুলে পাঠদান করছে। প্রকৃত শিক্ষিতের হার কতটুকু সেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় স্পষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানের পড়াশুনা শুধু একটি চকচকে সনদপত্রের জন্য। সেটি না হলে একজন শিক্ষক কিভাবে তার ছাত্রকে চুরি করা প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে? একজন শিক্ষক কিভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে উত্তরপত্র সরবরাহ করে? আর করবেনা কেন? কারণ যে শিক্ষক বা ব্যক্তি এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত সেও একইভাবে প্রত্যেকটি ধাপ অতিক্রম করেছে। যার ফলশ্রুতিতে তার চুরির পন্থা সম্পর্কে বিস্তর জ্ঞান রয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস অথবা চুরির সাথে যারা জড়িত তারা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করছেনা, ক্ষতি করছে গোটা জাতির গোটা দেশের। তাই দেশে এই “প্রশ্নপত্র ফাঁস” সিনেমাটি যদি যুগের পর যুগ চলতে থাকে তাহলে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জায়গাটি ক্রমস সংকুচিত হয়ে যাবে। যার প্রভাব পড়বে গোটা জাতির উপরে। তাই এই অপরাধটি দমনে সরকারের পাশাপাশি সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে আমাদের বাচ্চারা।