ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

কিছু বিষয় দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। সেটা অন্যায় হলেও, আমাদের কাছে অন্যায় মনে হয় না। গত ০৩ তারিখে ঢাকা বিমানবন্দর রেল স্টেশন থেকে দেড় লিটারের এক বোতল মাম মিনারেল ওয়াটার কিনে ৫০ টাকার একটি নোট দিতেই আমাকে ২০ টাকা ফেরত দেওয়া হলো। দোকানির কাছে আরো ০৫ টাকা চাওয়াতে উনি খুব সুন্দরভাবে বললেন পানি ৩০ টাকা। আমি প্রশ্ন করতেই উনি সাফ জানিয়ে দিলেন এখানে পানির দাম ৩০ টাকা। কিন্তু কেন ? এঘটনা যে নতুন তা কিন্তু নয়। রেলষ্টেশন, পার্ক কিংবা ফেরিতে এইরকম ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি কিন্তু, ঐ যে কখনো ভেবে দেখেনি। এভাবে যদি হাজার হাজার বোতল থেকে ০৫ টাকা চাঁদা নেয়া হয়, তাহলে ব্যাপারটা কত টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়?

আবার ট্রেনের ভিতরে ১০ টাকার চিপস ১৫ টাকা বিক্রি করা হয়। কোমল পানীয়তেও একই ব্যাপার। এটা যেন মগের মুল্লুক। দোকানী ইচ্ছামতো ক্রেতাকে ঠকাবে, কিছু বলতে গেলেই উল্টো আক্রমনের ভয়তো থাকছেই। হয়তো আমরা যাত্রাপথে এসব অসহ্য যন্ত্রনা সহ্য করি। হয়তো ভিতরে-ভিতরে রাগ হয় কিন্তু রেলস্টেশন, পার্ক, ফেরীর উপর অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের কাছে আমাদের জিম্মি হয়ে থাকতে হয়। লেখাটি পড়ে অনেকে ভাবতে পারেন ০৫ টাকার জন্য এতো ক্যাচাল কেন। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে যারা নিয়মিত রেল ভ্রমন করেন তারা যদি এভাবে প্রতি ভ্রমনে ৩ বোতল পানির দাম ৫ টাকা করে বেশি দিয়ে দেন তাহলে হয় ১৫ টাকা।

এভাবে বছরে কয়েকবার ভ্রমণ করলে পরিমাণটা বাড়তেই থাকে। আর রেলস্টেশন, পার্ক, ফেরিতে প্রতিদিন তো কয়েক’শ লোকের সমাগম থাকেই। তাহলে বছরে কত লক্ষ টাকার ব্যাপার হচ্ছে? এই টাকাটা কেন একদল লোক অবৈধভাবে আমাদের নিকট থেকে চুষে নেবে? আমরা আম জনতা এই বিষয়টার সুরহা কোন দিনও করতে পারবোনা হয়তো। আর করতে পারলেও বহুদিন সময় লাগবে। কারণ ১+১=২, ২+২=৪ এভাবে সবাইকে একই প্লাটফর্মে আসতে অনেক সময় লেগে যাবে। কারণ আমরা সবাই চিন্তা করি, ধূস! এটাতো ০৫ টাকার ব্যাপার সমস্যা কোথায়।

তাই প্রশাসনের নিকট আমার আকুল আবেদন থাকবে যে, যদি এই লেখাটি কোনভাবে আপনারা পড়েন তাহলে লেখাতে যে সমস্যাটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সেটি অবশ্যই বিবেচনা করবেন। কারণ আমার হয়তো মনে হয়েছে মূল দামের থেকে বেশি আদায় করাটা অন্যায়।