ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

ইমন রহমান, জাবি
‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগে ভর্তির পর থেকেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন ছিল রোটনের। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ক্লাসেই ওর স্বপ্নের কথা আমাদের জানিয়েছিল। এ জন্য প্রথম থেকেই পড়ালেখায় খুব মনোযোগী ছিল। রোটন আর নেই, তা ভাবতেই পারছি না।’ অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে প্রিয় সহপাঠী রফিকুল ইসলাম রোটন সম্পর্কে এভাবেই বললেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাবেয়া বশরী রিমি, সুবর্ণা নাসরিন ও মো. মঈনুল ইসলাম দ্বীপ। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই নিভে গেল রোটনের জীবন প্রদীপ। রোটন আর কোনো দিনও ফিরে আসবেন না বন্ধুদের মাঝে। হাস্যোজ্জ্বল রোটনকে আর দেখা যাবে না সরকার ও রাজনীতি বিভাগের করিডোরে। বন্ধু হারানোর চাপা কষ্ট বুকে নিয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের আহমদুল হাসান আশিক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত, যেন আর কোনো রোটনের জীবন অকালে ঝরে না পড়ে।

রোটনের মৃত্যুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রোটনের মৃত্যুতে রবিবার ক্যাম্পাসে কালো ব্যাজ পরে শোকযাত্রা বের করেন। শোকযাত্রা দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে পুরনো পরিবহন চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। শোকযাত্রা শেষে সমাবেশে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সভাপতি ড. কে এম মহিউদ্দিন সোমবার সকাল ১১টায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট-সংলগ্ন (ডেইরি গেট) ঢাকা-আড়িচা মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেন। এ ছাড়া সোমবার বিভাগে মিলাদ মাহফিল, শোকসভা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে গণস্বাক্ষর গ্রহণ করা হবে। এর আগে সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও শোক প্রকাশ করেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। এক শোকবাণীতে তিনি রোটনের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে উপাচার্য রোটনের অকালমৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং তাদের কাছ থেকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।