ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

রহিমা (ছন্দ নাম) তার কাজ হছে কাজের লোক সাপ্লাই দেয়া । অভিজাত এলাকায় তার বেশ নামডাক কাজের লোক দেয়ার ব্যাপারে । কাজের লোক জোগাড় করে দেবার বদলে রহিমা কমিশন পায় বাড়ির ম্যাডামের কাছ থেকে । হটাৎ একটা বিপত্তি হয়ে যায় । তার জোগাড় করে দেয়া একজন কাজের ছেলে ওই কর্তার বাসা থেকে চুরি করে পালিয়ে যায় । ফলাফল বাড়ির মালিক পুলিসে খবর দেয় ও পুলিশ প্রাথমিক সন্দেহে রহিমাকে জেলে পুরে দেয় ।

সেখান থেকেই শুরু হয় রহিমার নতুন অভিজ্ঞতার যাত্রা । জেলে গিয়ে রহিমা মোটামুটি হতবাক । তার সাধারন জীবনে যা যা নেই ওখানে সব আছে। গুলশান বনানীর বিভিন্ন সাজাপ্রাপ্ত ম্যডামেরা ওখানে অনেক রাজ্য বিস্তার করে বসে আছে, কেউ হাসব্যন্ডকে হত্যা করে জেল খাটছে অথবা কেউ দুর্নীতির দায়ে লম্বা সময় জেলে আছেন। ভিতরে আছে বিউটি পারলার, টাকা থাকলে খাওয়া যায় রকমারি মুখরোচক খাদ্য । সব ধরনের বিলাসিতা হাতের নাগালে পয়সার জোরে।

মধ্য দিয়ে সামান্য চুরির দায়ে নিম্নবিত্তের রহিমা ওখানেও তাদের পরিচিকা । কখনও বিউটি পারলারের সহকারি কখনও তাদের সকালের নাস্তা বানানোর গুরু দায়িত্বে । আর বুক ভরা আফসোস ইস, জেলে জেলের বাইরে ম্যডামরা ম্যডামই আর রহিমা ওই গৃহপরিচারিকা অথবা জেল পরিচিকা । তাও যদি খুনটুন অথবা দুর্নীতি করে জেলে ঢুকত অন্তত জেলখানায় স্ট্যাটাসটা সমান সমান হতে পারতো ।

রহিমা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গিয়েছে কিন্তু বুকে চাপা কষ্ট জমাট বাধা । প্রথমত, জেলে বাইরের চেয়ে ভাল ছিল। দ্বিতীয়ত, যদি বড় কোন ক্রাইম করতে পারতো তাহলে জেলে ও বাইরে দুই জায়গাতেই ভাল থাকতো । বৈষম্য তাকে তাড়া করে বেড়ায় সবখানে এখন আখেরাতই শেষ ভরসা ।

অন্তত ঈশ্বর এই বৈষম্যের চক্রটা ভাংবে!