ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

সত্যি সেলুকাস! কি বিচিত্র এ দেশ … আমাদের দেশের এই বিচিত্রতা ঠিক কতখানি বিচিত্র তা বুঝি মহাবীর আলেকজান্ডারের এই বিখ্যাত উক্তি দিয়ে আর পরিমাপ করতে পারছি না … দেশে প্রতিমা ভাংচুর নিয়ে এক হুলস্থুল পড়েছে …

এরই মধ্যে আবার দেখি এক বিখ্যাত সংবাদপত্র অনলাইনে ভোট নিচ্ছে “হামলা চালানো দুর্বৃত্তদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন কি?” বাহা বেশ বেশ… শাষক, শাষণ, আইন কানুন সব কি ঠাট্টা তামাশা হয়ে যাচ্ছে দিন দিন? দেশের, জাতির কোন উদ্দ্যেশ্য থাকবে না? নিজস্ব স্বভাব থাকবে না? কোনদিকে কোথায় চলেছি আমরা?
সুযোগ পেলেই মাইনরিটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে মানুষ। দুই তিন বছর আগে একবার বৌদ্ধদের উপর পড়েছিল, এবার আবার হিন্দুদের উপর পড়েছে । এই ২০১৬ তে এসেও লোকে এমন করছে, কেন করছে তা কোন ক্রমেই আমার বোধগম্য নয় … অনেক কে দেখছি এমন কিছুতে তাদের কিছুই আসছে যাচ্ছে না … অনেকে বলছে ভাই এসব ঠিক নয়, অনেকে এই খবরটা-ই জানে না, তবে বেশির ভাগ লোকেরই যে এতে কোন মাথা ব্যাথা নেই তা স্পষ্ট। সবাই যে যার ধান্দায় ব্যাস্ত। আমিও আমার জীবন নিয়ে ব্যাস্ত। তবুও আমার কিছুটা হলেও আসছে যাচ্ছে। কেননা অন্য ধর্মাবলম্বী ইয়ার দোস্ত, খুব ভাল বন্ধু, হৃদ্যতার সম্পর্কের কলিগ, এক্স কলিগ, প্রতিবেশি এর সবই আমার রয়েছে। আমি খুব একটা ধর্ম প্রাণ নই, আবার কট্টরপন্থি নাস্তিকও নই। জুম্মার নামাজ পড়ি, মাঝে মধ্যে অনিয়মিত ভাবে অফিসের জামাতে শরিক হই … বিপদে পড়লে আল্লাহ্‌কে ডাকি আবার তাঁকে ভুলেও যাই … এমন ধারার মুসলমান হয়েও আমি যখন স্বধর্মের অবমাননাকর কিছু দেখি আমার খারাপ লাগে, এই ভু-মন্ডলের অন্যান্য অংশে শুধু মাত্র মুসলমান হওয়ার কারনে নির্যাতনের শিকার মানুষ দেখলে আমি ব্যাথিত হই, ক্ষত বিক্ষত মধ্যপ্রাচ্যের আরব মুসলিম দেশগুলোর প্রতি নিয়ত দাঙ্গা হাঙ্গামার খবরও একধরনের বিষন্নতার সৃষ্টি করে।

তাই যদি হয়, তাহলে আমার এইসব অনুভুতি গুলোকে আমি যদি সচেতন ভাবে বিশ্লেষন করি তখন আমি খুব স্পষ্ট ভাবেই টের পাই যে আমার ওইসব ইয়ার দোস্ত, খুব ভাল বন্ধু, হৃদ্যতার সম্পর্কের কলিগ, এক্স কলিগ, প্রতিবেশি তাদের নিজ দেশে নিজ জন্মভুমিতে এমন সব ঘটনা ঘটার জন্য কেমন বোধ করছে, বা কেমন বোধ করে। এ ভু-খন্ডের ইতিহাসে এটা নতুন কোন ঘটনা নয়। সে ইতিহাসের কাসুন্দি আর ঘাঁটতেও চাই না। কিন্তু প্রশ্ন হলো আর কত ??? আরও কত কত দিন ধরে চলবে এসব? ধর্মীয় উন্মাদনায় স্বার্থ সিদ্ধি কারা করে, কেন করে ??? কি লাভ ? তাদের উদ্দ্যেশ্য বিধেয় আসলে কি?

অদ্ভুতভাবে শাষকগোষ্ঠি নির্বিকার। কোন তড়িৎ ক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া কোনটাই তারা দেখায় না। নিকট অতীতেও না, তার আগেও না এবারেও নয়। তারা দেখে, ঘটনা ঘটতে দেয় তারপর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে শুরু করে গবেষনা, বিচার বিশ্লেষণ। গত শতকের চল্লিশের দশকে রাষ্ট্র যন্ত্রের রিএ্যাকশন যা, অদ্ভুত ভাবে এই মিলেনিয়াম জামানায়ও তা একই থেকে যায়।

জ্ঞান-বিজ্ঞানে চুড়ান্তভাবে বিকশিত ইউরোপের দেশগুলোতে সবাই প্রায় খৃষ্টান ধর্মাবলম্বী, কিন্তু তারা সবাই আলাদা আলাদা জাতি রাষ্ট্র হিসেবে বিকশিত হয়েছে। একই ধর্ম তাদের এক রাষ্ট্রে পরিনত করতে পারেনি … জাতিগত বিকাশের এই জাজ্বল্যমান উদহারণ রাষ্ট্র পরিচালনাকারী গোষ্ঠির সবারই কম বেশি জানা। তাহলে আমরা কি বুঝব? আমাদের দেশের অন্ধকারাচ্ছন্ন মানুষগুলোই কি তবে আমাদের রাষ্ট্র যন্ত্র বা জাতির নিয়ন্ত্রক? নাকি অন্য কিছু? কে দেবে এই উত্তর?

আমি বিপন্ন বোধ করি, বিব্রত হই আর প্রশ্ন রেখে যাই সময়ের কাছে … কি হবে আমার ইয়ার দোস্ত, খুব ভাল বন্ধু, হৃদ্যতার সম্পর্কের কলিগ, এক্স কলিগ আর প্রতিবেশিদের? আমরা সবাই একসাথে ভাল থাকব তো?