ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

পরিবার হল একটি সমাজের মূল কেন্দ্রবিন্দু। একটি সমাজ কতটুকু সভ্য আর কতটুকু অসভ্য তা যাচাই করা যায় পারিবারিক ব্যবস্থা দিয়ে। কেন এই পরিবার ব্যবস্থা, এর উদ্দেশ্য কি শুধু নারী-পুরুষের মিলনের মাধ্যমে শারীরিক সুখ ভোগ করা নাকি অন্য কিছু? নারী-পুরুষের মিলনের উদ্দেশ্য যদি তাই হয় তাহলে বস্তুগত দিক থেকে সে সমাজ যতই উন্নত হোক আসলে তা অসভ্য সমাজ,জাহেলি সমাজ। বাস্তবতাকে তুলে ধরার জন্য কিছু অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আশা করি শ্রদ্ধেয় পাঠক সমাজ এটাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবেন। শারীরিক ক্ষুধা মেটানোকে যে সমাজে নারী-পুরুষের সম্পর্কের উদ্দেশ্য মনে করে সে সমাজ অবাধ শারীরিক সম্পর্ককে বৈধতা দেয়, জারজ সন্তানে সে সমাজ ভরে যায়। ফ্রি সেক্স,গর্ভপাত-গর্ভনিরোধক বিভিন্ন ধারণার উদ্ভব হয়। সে সমাজে নারীকে আবেদনময়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। লক্ষ্য করা যাক সুন্দরী প্রতিযোগিতাগুলোর দিকে। কে কত স্লিম, কে কত আবেদনময়ী, কে কত রুপবতী- বিচারক-দর্শক সবাই এ নিয়ে তর্কে-বিতর্কে লিপ্ত। সে সমাজের নারীরা সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করাকে বন্দিত্ব মনে করে। আর অফিস পরিচারিকা, বিমানবালা, হোটেল পরিচারিকা, পণ্যের মডেল হওয়াকে স্বাধীনতা মনে করে। পাশ্চাত্য সভ্যতা মানবীয় নীতি নৈতিকতার সবগুলো গুণাবলিকে বিসর্জন দিয়েছে,তাদের চারিত্রিক বিকৃতি এতো নিচে নেমে গেছে যে তারা সমকামিতাকেও বৈ্ধতা দিয়েছে। অতীত কিংবা বর্তমান সকল অসভ্য সমাজই মানুষকে অবাধ শারীরিক সম্পর্কের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যেন মানুষের মাঝে সারাক্ষণ শারীরিকসুখ জাগিয়ে রাখার জন্যই সব ধরনের সাধনা। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো “বন্ধু-আড্ডা-গান” নিয়ে তরুণদের হারিয়ে যেতে বলছে। প্রেমিকার কাছে প্রেমিককে smartly উপস্থাপন করার নানা tips দিচ্ছে। নগ্ন নারীর দেহ প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হচ্ছে “এ আকর্ষণ এড়ানো অসম্ভব”।আরো বলা হয় “মনের মিলই বড় মিল,মনের মিল থাকলে শারীরিক লেনদেন কোন ব্যাপার না”। গল্প,উপন্যাস,চলচ্চিত্র,নাটক সব কিছুর একটাই লক্ষ্য- শারীরিক সুড়সুড়ি জাগিয়ে তোলা। এই সমস্ত যৌন দার্শনিকেরা শুধু ধর্ষককেই অপরাধ বলে মনে করে,সেই একই কাজ উভয়ের সম্মতিতে করলে কোন সমস্যা নেই।এমনকি স্বামীর সাথে মনোমালিন্য হলে শরীরটা অযথা ফেলে না রেখে পরকীয়া করে শরীরটাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেয়া হয়। এই দেশীয় একজন ব্যাক্তি বলেছেন “বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও আমাদের এবং ভারতের সংস্কৃতি এক ও অভিন্ন। আমরা একই সংস্কৃতিতে আবদ্ধ আছি। আমাদের বিভাজনের কোনো লক্ষণ নেই।”এ যুগে কোন দেশ অন্য কোন দেশের উপর সামরিক আগ্রাসন চালাতে আগ্রহী হয় না, বরং অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে অন্য দেশকে গোলামির শৃংখল আবদ্ধ করার চেষ্টা করে। তাই ভারতীয় রাজনীতিক, কলামিস্ট শশী থারুর বলেন “কামান বন্দুকের বদলে টিভি চ্যানেল,সিনেমা স্টুডিও দিয়ে ভারত বিশ্ব জয়ে নেমেছে”।

চ্যানেলগুলো প্রতিনিয়ত নানা বিকৃত চিন্তা চেতনা তরুণদের মধ্যে ছড়াচ্ছে যথা- লিভ টুগেদার,পরকীয়া,ফ্রি মিক্সিং,ব্যাভিচার। এসব শাসক ও বুদ্ধিজীবীরা বিয়েকে কঠিন ও পাপাচারকে সহজ করেছে। মেয়েদেরকে হিজাবের পরিবর্তে মিনিস্কার্ট,টিশার্ট,টাইটজিন্স পরে রাস্তায় চলাফেরা করাকে নারীস্বাধীনতার দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করছে। ধর্মনিরপেক্ষ বাদীরা মুসলমানদেরকে নিজেদের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য প্রত্যাখ্যান করে যৌনধর্মের সংস্কৃতিকে ধারণ করে উদার-প্রগতিবাদী (liberal) হওয়ার আহবান জানাচ্ছে। একুশের বই মেলা (২০১১)উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেন, “পাশ্চাত্যে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ বলতে ধর্মহীনতাকে বুঝায় আর উপমহাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ বলতে সকল ধর্ম নিয়ে তৈরী মতবাদকে বুঝায় যার প্রবক্তা সম্রাট আকবর”। তাদের প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন- “যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না”। (সূরা নূর-১৯) পুঁজিবাদ আর ধর্মনিরপেক্ষতার মূলতন্ত্রই হল ভোগবাদ। জীবন সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হল সর্বোচ্চ ভোগ (consumption max )এবং highest sensual pleasure. জৈবিক ক্ষুধা মিটানোর পরেই চলে আসে যৌন ক্ষুধা।আর সে ক্ষুধা মিটানোর জন্য স্বাধীনভাবে রমণীদের রমন করতে হবে। নারীকে পরিপূর্ণরূপে ভোগ করার জন্য প্রয়োজন ধর্মনিরপেক্ষ-পুঁজিবাদী রাষ্ট্র যেখানে নারী স্বাধীনতার মানে হবে নারীকে ভোগ করার স্বাধীনতা।যার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ট হল-সেখানে নারীকে ভোগ করাই হবে ইবাদত, আর এ ইবাদত perfectly সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সবাইকে sexology (যৌনবিদ্যা) পাঠদান করানো হবে, সুনিপুণ হাতে বিধাতার প্রতিমা তৈরি করা হবে যেখানে শরীরের সকল লজ্জাস্থান যৌনাবেদনময়ী করে ফুটিয়ে তোলা হবে, বহুগামিতা থাকবে ও open sex environment থাকবে।

তাদের কর্মপদ্ধতি খুব নিখুঁত, LOVE গুরুদের(sexologist) দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গোটা সমাজটা আজ যৌনসমাজে পরিণত হচ্ছে। নোংরা দর্শনগুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য যে সব মাধ্যম তারা ব্যবহার করে সেগুলো হল-নোংরা শিক্ষা ব্যবস্থা ও নোংরা সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা যথা- নাচ-গান-কনসার্ট,সিনেমা-নাটক, বিজ্ঞাপন ও পর্নো ওয়েবসাইট।

কাফিরদের সমস্ত প্রচেস্টা সত্ত্বেও যখন ইসলামের দাওয়াত মক্কায় সম্প্রসারিত হয়েই চলছিল তখন নদ্বর বিন হারিসা কুরাইশ নেতাদের বললেন তোমরা যেভাবে মোহাম্মদ (সঃ) এর মোকাবিলা করছো তাতে কোন কাজ হবেনা।তখন সে একটি ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করলো,কোন ব্যক্তির সম্পর্কে নবী(স) এর কথায় প্রভাবিত হতে চলেছে বলে তার কাছে খবর এলেই সে তার পিছনে নিজের একজন বাঁদী নিযুক্ত করতো এবং তাকে বলে দিতো খুব ভালো করে তাকে পানাহার করাতে,গান শোনাতে এবং আরো বলে দিতো সবসময় তাকে তোমার সাথে জড়িয়ে রাখ এবং তার মন মোহাম্মদ (সঃ) ও কোরআন থেকে ফিরিয়ে আনো। বর্তমানেও তাদের উত্তরসূরিরা সেই একই কাজ করছে। তারা জনগণকে নাচগান ও খেল তামাশায় মশগুল করে রাখে। টিভি চ্যানেলগুলো ও পুঁজিবাদী-জংগী তথা যৌনবাদী বহুজাতিক কোম্পানিগুলো জাতিকে গানে মাতাল করার জন্যে নানা আয়োজনে ব্যস্ত যথা-ক্লোজ ডাউন ওয়ান, খাও বাংলাদেশ খাও,খুদে শয়তানের রাজ,ওমক খান লাইভ,শয়তানি(ডেস্টিনি) পলি ন্যাশন সেক্স শো ইত্যাদি। বর্তমান সময়ে আমরা দেখি দেশের আনাচে কানাচে ঘনঘন বিভিন্ন শো,কনসার্ট,ও প্রতিযোগিতা হতে, যেগুলো খুবই হাঁকডাক দিয়ে ও ব্যাপক আকারে হয়। এ সকল শো ও কনসার্টে যে ধরনের performance করা হয় তা আগে পাঁচতারকা হোটেলের বলরুমে নীরবে করা হতো। এখন তা হোটেল থেকে মাঠ তারপর মাঠ পেরিয়ে লাইভ প্রোগ্রামের মাধ্যমে নারী-পুরুষ,আবাল-বনিতা-বৃদ্ধ সকলের কাছে অবমুক্ত করা হচ্ছে। সুবিশাল নগ্ন সৈ্ন্যবাহিনী নিয়ে বাংলায় সফলতার সাথে সাংস্কৃতিক অভিযান সমাপ্ত করলেন বলিউড সেনাপতি শাহরুখ খান। ক্যাটরিনার রুপের ঝলক,সালমান- অক্ষয়ের চোখ ধাঁধানো পারফর্মের আর নতুন ক্রেজ আনুশকার সৌন্দর্যের মুগ্ধতা নিয়ে বাড়ি ফিরলেন হাজার হাজার দর্শক” (ইত্তেফাক ২৫-০২-২০১১)। তার দ্রুত ধাবমান ঝড়ো গতির এ যৌনাভিযানের সামনে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় বাংলার তথাকথিত বাঙালীদের হাজার বছরের লালিত বাঙালী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।বাংলার মুসলিমদের শিখিয়ে গেলেন কীভাবে অন্যের স্ত্রীকে চুম্বন করতে হয়।দর্শক সারি থেকে দম্পতি ডেকে এনে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে দফায় দফায় চুম্বন করলেন,শিখিয়ে গেলেন যৌনাচারের এক নতুন ফরমূলা-নারীর পায়ে সেজদায় লুটিয়ে প্রেম ভিক্ষার কৌশল। টেলিভিশনের মাধ্যমে বহু আগেই এদেশের ঘরে-ঘরে ইন্সটল করা হয়।এবার বলিউডসফট এর নতুন অফার হল শুধু আকাশ পথে নয় এদেশে স্থল অভিযানও চালাতে হবে। সরাসরি এদেশে এসে live programme এর মাধ্যমে আবালবৃদ্ধবনিতা সকলকে evil cultural injection পুশ করাতে হবে। নাচ-গানের সফলতা এখানেই যে এটা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ ও পরকালের ভাবনা থেকে দূরে রাখে। যারা নাচ-গানসহ অন্যান্য অশ্লীল সংস্কৃতির সাথে জড়িত তাদের কাছে প্রশ্ন – আপনি যখন মৃত্যুযন্রণায় কাতরাবেন তখন কি আপনি গান শুনতে পছন্দ করবেন নাকি কোরআন তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করবেন? গান শোনার শাস্তি প্রসঙ্গে রাসূল (সঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি গায়িকা বাদীর অনুষ্ঠানে বসে তার গান শুনবে,কিয়ামতের দিন তার কানে গরম সীসা ঢেলে দেয়া হবে”। (আহকামুল কোরআন, কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবী)। আপনি কী মুমূর্ষু অবস্থায় কামার্ত ভঙ্গি প্রদর্শনকারী মেয়েদের নৃত্য উপভোগ করবেন?যদি করেন জেনে রাখেন রাসূল সঃ বলেছেন,যে ব্যক্তি অপর মহিলার প্রতি কামভাবসহ তাকায়,কিয়ামতের দিন তার চোখে উত্তপ্ত গলিত সিসা ঢেলে দেয়া হবে। যারা এ সমস্ত নোংরা অশালীন গান-নৃত্য উপভোগ করতে অভ্যস্ত যথা-“ছেলেতো নয় একখান আগুনেরই গোলা “যারা যারা টাচ মি টাচ মি, কিস মি কিস মি” তাদের জন্য আযাবের ফেরেস্তা আগুনের গোলা নিয়ে টাচ(স্পর্শ) করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। অপেক্ষা করুন মাটির ভিতরে গেলেই বোঝতে পারবেন। বাংলাদেশ নিজেকে সফল সংগঠক হিসেবে প্রমাণ করেছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে। ব্যাপারটি সত্য কারণ বাইতুল মোকাররমের আযানে যাতে নাচ-গানে বিঘ্ন না ঘটে তার জন্যে ৩টি ওয়াক্তের নামাজের আজ়ান মাইকে প্রচার বন্ধ রাখা হয়। সফল সংগঠক হওয়ার আরেকটি নমুনা হল- একবারও বাইতুল মোকাররম মসজিদের দিকে ক্যামরা ফোকাস করেনি। বহির্বিশ্বের দর্শকদের কাছে মনেই হবেনা এদেশ মুসলমানদের দেশ। সাবাশ বাংলাদেশ!

বিজ্ঞাপনের ভাষা একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তা কীভাবে মানুষের মধ্যে বিকৃত চিন্তা-চেতনা সৃষ্টি করছে।নিচে কয়েকটি পণ্যের বিজ্ঞাপন নিয়ে আলোচনা করা যাক। একটি সাবানের বিজ্ঞাপনের স্লোগান ছিল এরকম -The skin you love to touch সাবানে রয়েছে পুষ্টি,সুরক্ষা ও সতেজতা। সতেজতা কাছে আনে( get fresh get close)। ত্বক হবে কোমল শিশুর মতো। হাতের মুঠোয় রুপ,বশে গোটা দুনিয়া। সকল স্থানে উজ্জ্বলতা।নারীকে কেবল সুন্দরী হওয়ারই প্রেরণা দেয়া হয়। যেন সুন্দরী হওয়াই নারীর একমাত্র ধ্যান। রং ফর্সাকারী ক্রীম গুলোতে বলা হয় এটি ব্যবহার করলে আপনি পাবেন double fairness.বুদ্ধি-বিবেকহীন পশ্চিমা ভোগবাদী যৌন পিপাসুদের আবিস্কার-এ ধরনের আধুনিক নব্য বর্ণবাদের ভার্সন। এতে করে একদিকে তাদের ব্যবসা হবে অপরদিকে শারীরিক ক্ষুধাও মিটবে। সুন্দরীপ্রতিযোগিতা ও রংফর্সাকারী ক্রীম গুলো যে message দেয় তা হল-কালোবর্ণ সমাজে আজও পরিত্যক্ত আর সাদাবর্ণ গ্রহণীয়। আগে জানতাম জ্ঞানই শক্তি এখন শুনতে পাচ্ছি সৌন্দর্যই শক্তি। নারীর বাহ্যিক সৌন্দর্যই চূড়ান্ত সৌন্দর্য, চারিত্রিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সৌন্দর্যের কোন evaluation নেই।এ যুগের মেয়েদের আপাদমস্তক সুন্দর হতে হবে। আর মস্তক সুন্দর করার কাজে ললনাদের পাশে রয়েছে কর্পোরেট শ্যাম্পু। অবলাদের ওষ্ঠে নাকি magical sexual attraction আছে। সে জন্য লিপস্টিকের বিজ্ঞাপনে রমণীদের কমলার কোয়ার মতো তৃষ্ণা সৃষ্টিকারী ঠোট এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন magical sex thirst পূর্ণ মাত্রায় উত্তাল, উত্তেজিত, উত্তাপিত (heated, instigated),ও উত্তোলিত (raised)হয়। আর সেই পিপাসার অনুভূতি প্রকাশ করা হয় এই বলে it’s a magical feelings. ডিজিটাল পর্দায় চলছে রমরমা ডিজিটাল দেহব্যবসা।পতিতালয়ে দেহদান করে যেমন money earn হয় তেমনি বিজ্ঞাপনে মডেল কণ্যা আর আইটেম কণ্যারা কামান্ধতার (excessive sexual appetite) পোজ দিয়ে money earn করছে। কামসূত্রের সাথে মিল রেখে স্লাইস মাংগো জুস এর নাম রাখা হয়েছে আমসূত্র। আর বিজ্ঞাপনে অংশগ্রহণকারী কামচারিনীর আঙ্গভঙ্গিতে আমপিপাসা নয় বরং কামপিপাসা ফূঁটে উঠেছে। বডি স্প্রের বিজ্ঞাপনে যৌনতাকে এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন ওগুলো বডি স্প্রে নয় বরং নারী আসক্তিকরণ ট্যাবলেট। বডি স্প্রের বিজ্ঞাপনে দেখা যায় এটি ব্যবহার করে একজন পুরুষ হেঁটে যাচ্ছে আর দলে দলে কামার্ত নারী কামোন্মত্ত হয়ে পাগল হয়ে পুরুষটির গায়ে ঝাপিয়ে পড়ছে, দলে দলে বেশ্যাসক্ত বেশ্যারা তার দিকে ছুটে যাচ্ছে , বেহুশ হয়ে কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে, কেউ বস্ত্র খুলে ফেলার ভঙ্গি করছে। কামাতুর পুরুষরাতো দাড়ির বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধঘোষোণা করেছে। যে করেই হোক ললনাদেরকে বশীভূত করতে হবে, নারী বশীকরণের আরেক ক্যাপসুল হল রেজার।রেজারের বিজ্ঞাপনে দেখানো হয় shave করার পর এক বেশ্যা সেই তরুণকে kiss করছে, তাই kiss পাওয়ার আশায় পথভ্রষ্ট কামুখের দল দাড়ির বিরুদ্ধে shaver war (ক্ষুরযুদ্ধ) শুরু করে দিয়েছে। মোবাইল কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করলে মনে হবে- প্রেমিক­‑প্রেমিকাদের জন্যই তাদের সকল আয়োজন। দিন বদলের স্লোগান,ভালোবাসার টানে পাশে আনে,দূরত্ব যতই হোক কাছে থাকুন, জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে। রাত বরোটার পর সবচেয়ে কম কলরেটে কথা বলা, আরো বিভিন্ন রকম অফার এর মাধ্যমে যথেষ্ট দিন বদল হয়েছে।বিরতিহীনভাবে চলছে প্রেমালাপ –যৌনালাপ। প্রগতি তথা যৌনগতির দিকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এটাইতো দিন বদল।

সমাজের ইবলিশ মিডিয়া যা কিছু বদলাত চায়, যা কিছু বদলাতে সক্ষম হয়েছে; সেগুলো হলঃ ১। অবাধ যৌনতাকে বৈধতা দেয়া হয়। ২। যেন অবৈধ সন্তানে ভরে যায়। আমেরিকার মোট জনসংখ্যার ৪৩ শতাংশ তাদের পিতৃ পরিচয় জানেনা। ৩। নারী-পুরুষের জন্ম গত শারীরিক মানসিক তারতম্য বিবেচনা না করে দায়িত্ব বন্টন করা। ৪। যৌন আবেদনময়ী হিসেবে তুলে ধরা নারী জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা। ৫। সন্তান লালন পালন করাকে বোঝা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এটাকে পরাধীনতা মনে করা। ৬। যেন সভ্যতা, শালীনতা ও বিয়ে-শাদীর গুরুত্ব থাকে না।পারিবারিক ব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে যায়। ৭। সমকামিতা, বহুগামিতা ও পর্নোগ্রাফির বৈধতা দেয়া। আমেরিকা প্রতি বছর পর্ণ ইন্ডাস্ট্রি থেকে প্রায় ১৩.৩ বিলিয়ন ডলার আয় করে। ৮। যেন ধর্ষণ বৃদ্ধি পায়। এফবিআই প্রদত্ত উপাত্ত অনুযায়ী ২০০৯ সালে আমেরিকাতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে প্রতি ৬ মিনিটে ১ টি করে ধর্ষণ। ৯। যৌন আলোড়ন (sexual agitation)ও যৌন উদ্দীপক(sex stimulating element) বিষয়গুলোর যেন ছড়াছড়ি থাকে।সাহিত্য, সাংবাদিকত্‌ উপন্যাস, নাটক ও সিনেমা সবকিছুর মাধ্যমে মানুষের মাঝে এটা জাগিয়ে তোলার ক্রমাগত প্রচেষ্টা যেন চলতে থাকে। ১০। পুজিঁবাদি সভ্যতার দর্শন দুনিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ পরকাল পর্যন্ত বিস্তৃত নয়।কিছুক্ষন পরেই যখন তারা দুনিয়ার উপরিভাগ থেকে দুনিয়ার ভিতরে চলে যাবে তখন বোঝতে পারবে তাদের অশ্লীলতার করুণ পরিণতি। এবং একটি পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থার সত্যিকারের উদ্দেশ্য হল- সন্তানদেরকে সুষ্ঠুভাবে প্রতিপালন। তাদের চরিত্র গঠন। তাদের মাঝে মানবীয় বৈশিষ্ট্ বিকাশের মাধ্যমে আলোকিত ব্যক্তি (lighted person)গড়ে তোলা। যুগ থেকে যুগান্তরে পবিত্র মানব বংশধারা টিকিয়ে রাখা। অবৈধ জন্ম প্রতিহত করা।

বর্তমান ধর্মহীনপুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থা আপনাকে আমাকে ও আমাদের বংশধরদেরকে অসভ্যতা, নোংরামী ও নির্লজ্জতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই আজকে আমাদেরকে বোঝতে হবে- গোটা মানবজাতিকে সত্যের পথে, সুন্দরের পথে পরিচালিত করার জন্য প্রয়োজন (immensely need) ইসলামী সমাজব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। মুসলমানদেরকে তাদের হারানো গৌরব- গৌরবময় ইসলামী খিলাফতব্যবস্থা (THE GLORIOUS ISLAMI KHILAFAH ) পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

রাসূল সঃ একদিন আসর নামাযের পর হঠাত পূর্ব দিকে চেয়ে খুশী হয়ে হাসলেন। সাহাবারা (রাঃ) জিজ্ঞস করলেন তিনি কেন হাসলেন জবাবে তিনি বললেন- হিন্দের (ভারত)পূর্বে একটি সবুজ দেশ থেকে ইসলাম পুনর্জীবন লাভ করবে। উৎসঃ (Silsilatul ahaadith Assaheehatu Waddhayifah)। ইসলামকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জোরালো আন্দোলন হচ্ছে, আল্লাহ যেন বাংলাদেশ থেকেই দ্বিতীয় খিলাফতের সূচনা করেন, আমিন।

***
লেখকঃ প্রকৌশলী, খাদ্য প্রযুক্তি।