ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

সরকারি কারিকুলাম ও টেক্সট বোর্ড প্রণীত ইন্টারের “English for Today” নামক ইংরেজি পাঠ্য বইয়ের ১৭৮ পৃষ্ঠায় লিখিত অনুচ্ছেদে আছে – “The Prophet Mohammad (Sm) equated one literate non-believer with ten illiterate believers”- কোনো কোনো নোট বইয়ে এ বাক্যটির সাথে আরও সংযুক্ত করা হয়েছে “Although He himself was not literate.” Believer শব্দটির অর্থ বিশ্বাসী, সহজ কথায় মুমিন বা ঈমানদার। পুরো বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায়- “মহানবী (সাঃ) একজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন শিক্ষিত কাফিরকে দশজন নিরক্ষর মুমিনের সমান বিবেচনা করেন। যদিও তিনি নিজে নিরক্ষর ছিলেন।”- এটি একটি জাল হাদীস। শিক্ষার গুরুত্ব বয়ান করতে গিয়ে উপরোক্ত কথায় মানব জীবনের প্রধান লক্ষ্য ও মিশন ঈমানের মহান দৌলতকে অতি স্পষ্ট ও জঘন্যভাবে খাটো করা হয়েছে। আর এ জালিয়াতি করা হয়েছে মহানবী (সাঃ) এর নামে! কেননা, এমন কথা না হাদীসে আছে, আর না এমন অবাস্তব কথা তার বাণী হতে পারে।

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত ইলম হল যা মানুষকে তার খালিক ও মালিক আল্লাহর সঙ্গে জুড়ে দেয় এবং যা ইনসানকে ইনসানিয়াত শেখায়। এই ইলম যার আছে সে নিরক্ষর হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে জাহিল বা মূর্খ নয়। অন্যদিকে কারও যদি অক্ষরজ্ঞান থেকে আরম্ভ করে জগতের সকল শাস্ত্রের জ্ঞান থাকে কিন্তু আল্লাহর পরচয় ও ইনসানিয়াতের জ্ঞান না থাকে, তবে সে জগদ্বাসীর কাছে পন্ডিত বিবেচিত হলেও আল্লাহর কাছে খালিছ জাহিল বা মূর্খ হিসেবে পরিগণিত।

বইয়ের একই ইউনিটে লেসন টু অর্থাৎ ১৮০ পৃষ্ঠায় আরেকটি জাল ও ভিত্তিহীন কথাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ‘হাদীস’ হিসেবে লিখা হয়েছে- “The ink of the scholar is holier than blood of the martyr” অর্থাৎ ‘জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও বেশী পবিত্র।’ হাদীস বিশারদরা প্রায় সকলেই একমত যে, একথাটি হাদীস নয়, এটি একটি জাল বর্ণনা। – তারীখে বাগদাদ ২/১৯৪, মীযানুল ই’তিদাল ৩/৪৯৮; তাজকিরাতুল মাওজুয়াত ২/৩৬৯; আলআসারুল মারফুআ ২০৭; কাশফুল খাফা ২/২০০; আলমাকাসিদুল হাসানা ৫৯৫।

পাঠক শুনে বিস্মিত হবেন যে, এমন দুইটি স্পষ্ট জাল বর্ণনায় সমৃদ্ধ বইটি মাদরাসা বোর্ডের আলিম শ্রেণীরও পাঠ্য বই। [মাসিক আল কাউসার, মে -২০০৭, পৃষ্ঠা-৩১] এবং [মাসিক আল কাউসার, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর -২০০৭, পৃষ্ঠা-৩২]