ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে সুন্দরবনকে এক নম্বরে রাখতে আমাদের অনেকের দেশপ্রেমের যেন জুড়ি নেই। সকলের ভোট দেবার ঝোঁক দেখলে অবাক হতে হয় বইকি। কিন্তু কেউ কি জানেন প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে সুন্দরবনকে এক নম্বরে রাখার এই প্রতিযোগিতাটি একটি ধান্দাবাজি খেলা?

সেভেন ওয়ান্ডার্স ফাউন্ডেশন বার্নার্ড ওয়েবার নামের সুইজারল্যান্ডের এক শর্ট ফিল্মমেকারের আনুগত কিছু ধান্দাবাজ মানুষের সংগঠন। বিশ্বে নিজেদের পরিচিত করাতে বেশ কয়েক বছর আগে এরা প্রথমে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য (যা আপনি ছোটবেলায় সাধারণ জ্ঞানের বইতে শিখেছিলেন–তাজমহল, পিরামিড ইত্যাদি) -কে পুন:নির্বাচন করলো। আর সেই থেকে শুরু হলো বিশ্বজুড়ে এই অভিনব ধান্ধাবাজির খেলা ।

মনে হতে পারে একটি সংগঠনের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচিত করার উদ্যোগে ধান্দাবাজি কোথায়? প্রথমত বলতে হয়, তাদের এই নির্বাচনের কোন আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নেই। কারণ এটি কোন আন্তর্জাতিক সংগঠন নয়। এটা হলো ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি ভূঁইফোড় সংগঠন। যদি আমাদের প্রিয় সুন্দরবন ৭টি স্থানের একটিও হয় তাতেও কোন কিছু যাবে আসবে না। কারণ এই সেভেন ওয়ান্ডার্স ফাউন্ডেশন নামের সংগঠনটির কোন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। যে সংগঠনের কোন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিই নেই তারা কী করে পৃথিবীর সাতটি স্থানকে প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য হিসেবে স্বীকৃতি দেবে?

আর ধান্দাটা হলো এরা মানুষকে ধোঁকা দিয়ে এবং দেশপ্রেমের সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করছে মাত্র। এসএমএস এর মাধ্যমে ভোট দেয়ার সুবিধা তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিটিসিএল এর কাছে চুক্তিতে বিক্রি করেছে গত ২১ জুন ২০১১। আবার এই এসএমএস-এর মাধ্যমে ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে যত খুশি ততবার। এটি সহজে অনুমেয় যে, কোন এসএমএস প্রতিযোগিতায় একজন মানুষকে যখন যত খুশি ততবার ভোট দেয়ার সুযোগ করে দেয় হয় তখন সেটি আসলে কোন সুষ্ঠু নির্বাচনই নয় বরং সেটি কেবলমাত্র পয়সা কামানোর একটি নতুন ধান্দাবাজি। এ ধরণের যে কোন প্রতিযোগিতায় প্রতিটি এসএমএস-এ কমিশন পায় আয়োজকরা।

এক কথা বলা বাহুল্য যে, আমাদের সুন্দরবনের জন্য কারো সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই। কারণ সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আর জাতিসংঘ সুন্দরবনকে বহু বছর আগেই ওয়ান্ড হেরিটেজ হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। তাই আমাদের সুন্দরবন সেভেন ওয়ান্ডার্স ফাউন্ডেশনের মতো একটি ভুঁইফোড় এবং অস্বীকৃত সংগঠনের ব্যবসার উপাদানে পরিণত হোক তা কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনা কোন দেশপ্রেমিক নাগরিক।