ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

১৩ এপ্রিল ১৯৭৩ সনে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মারাত্মক অপরাধের জন্য ১৯৫ জনের বিচারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাংলাদেশের সরকারের এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৫ জনের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে তারা সকলেই পাকিস্তান উর্দ্ধতন সেনা কমকর্তা । এই তালিকাতে কোন বেসরকারি ব্যক্তি বা কোন বাংলাদেশীর নাম ছিলনা । এদের বিচারের জন্য ১৯ জুলাই ১৯৭৩ সনে একটি আইন পাস হয়। এই আইনটির নাম হচ্ছে International Crimes ( Tribunal ) Act 1973.

২.
এই আইন করার আগে ১৫ জুলাই ১৯৭৩ সালে সংবিধান সংশোধন করা হয়। কারণ এই আইনের অনেক বিধান সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক ছিল। পরবর্তী এক বছর বিভিন্ন সময় পকিস্তান ও ভারত, বাংলাদেশ ও ভারত এবং বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে অব্যাহত আলোচনার ফল হিসাবে উপমহাদেশের শান্তি ও সমঝোতার সার্থে Forgive and Forget এর আবেদন করা হয়। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার না করে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

৩.
১৯৭৪ সালের ৯ই এপ্রিল নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশ- ভারত – পাকিস্তানের মধ্যে চুড়ান্ত আলোচনা শেষে একটি চুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধ অপরাধীদের ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত হয়। এতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. কামাল হোসেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শরণ সিং এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আজিজ আহমেদ। এই চুক্তির ১৩, ১৪, ১৫ নাম্বার অনুচ্ছেদের বর্ণিত শর্তানুযায়ী এই সকল যুদ্ধ অপরাধীদের ক্ষমা করে দিয়ে বিচারের এই ইস্যুটির ইতি টানা হয়।

শেখ মুজিব কতৃক রাজাকারদের জন্য সাধারন ক্ষমা

৪.
অবাক হওয়ার মত বিষয় এই যে, জামায়াত ১৯৯১ সালে বিএনপিকে সরকার গঠনের জন্য সমর্থন দেবার পর থেকে হঠাৎ এই মীমাংসিত ইস্যুটি আবার ফিরে আসতে শুরু করে। যদিও ১৯৯৪- ১৯৯৬ সালে বিএনপি’র শাষন আমলে বিএনপি’র বিরুদ্ধে জামায়েত -আ’লীগ তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের সময় মিলেমিশে এক হয়ে আন্দোলন করেন এবং এই যুদ্ধ অপরাধীদের মিমাংসীত ইস্যুটি নিয়ে কেউ, কোন দল একটি কথা পর্যন্ত বলেননি। অথচ ১৯৯৬ সালে তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হবার পর আবার জামায়েত বিএনপিকে নিয়ে ৪ দল গঠন করলে মীমাংসিত এই ইস্যুটি জোড়ালো ভাবে আবারও প্রচারিত হয় এবং আজ পর্যন্ত হয়ে চলেছে, যা আসলে ভাবার বিষয়।

০৫.
আসল যুদ্ধাপরাধী হচ্ছে সেই ১৯৫জন পাকি সেনা। তাদেরকে বিচারের জন্য যে আইন করা হচ্ছিল সেটা দিয়ে এখন বিচার করা হচ্ছে বেসামরিক কিছু লোকের। অর্থ্যাৎ আসল যুদ্ধাপরাধীদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র তাদের সহযোগীদের বিচার কতটা গ্রহণযোগ্য সেটা ভাববার বিষয়। আর শুধুমাত্র জামাতীদের ধরে এনে বিচার করার উদ্দেশ্য কি হতে পারে সেটা পরিস্কার। সরকার অন্যন্য দলের মধ্যে বিশেষ করে আ:লীগের মধ্যে যেসব চিহিত রাজাকার আছে_ তাদেরকে যতদিন না ধরতে পারবে, ততদিন এই ট্রাইবুনাল জামাতনিধন ট্রাইবুনাল হিসেবেই মনে হবে। মানবতাবিরোধী নয়। দলমত নির্বিশেষে রাজাকার ধরে বিচার চান বাংলাদেশের মানুষ।

সম্পূরক লেখা: জল ডুব ডুব জল খেলা