ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

১.
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে, এমনটিই প্রত্যাশা করেন মা- বাবা। সেকারনেই মধ্যবৃত্ত বা নিম্নমধ্যবৃত্ত যেমন পরিবারই হোকনা কেন সকলে চান তাদের সীমিত সম্পদকে ব্যবহার করে সন্তাদের মান সম্পন্য শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে। কিন্তু মান সম্পন্য শিক্ষা সুনিশ্চিতকারী দাবিদার রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে শিক্ষার চরম বানিজ্যিকীকরন। বাংলাদেশের মত দরিদ্রদেশে শিক্ষার চরম বানিজ্যিকীকরন রাষ্ট্রিয় বৈষম্যের এক নিষ্ঠুর উদাহরণ।

২.
নেই সিলেবাসের ভিন্নতা, নেই আধুনিক শিক্ষার সুযোগ সুবিধার তারতম্যতা, শুধু আছে ভর্তি ফ্রী’র ভিন্নতা। রাজধানীর বড় বড় মানসম্পন্য শিক্ষা সুনিশ্চিতকারী দাবিদার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি ফি’তে নেই মোটেও অভিন্নতা, কিন্তু আছে সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ভর্তি ফ্রী’র আকাশ পাতাল ভিন্নতা। সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেখানে সম্পূর্ণ ফ্রী অথবা নামমাএ ফি’তে শিক্ষাদান করা হয় সেখানে রাজধানীর ক্যান্টমেন্টে অবস্থিত শহিদ আনোয়ার স্কুলে ২০১২ সালের প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি ফি ধরা হয়েছে ৪৭০০০ টাকা। এছাড়া ভিকারূন্নেছা স্কুল ও কলেজে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি ফ্রী ধরা হয়েছে ১২৪০০ টাকা। মতিঝিল আইডিয়াল, সাহিন, প্রিপারেটরী ও মনিপুর স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি ফি ধরা হয়েছে যযথাক্রমে ১৩৪০০, ৩৬০০০, ৩৩০০০ ও ২৬০০০ টাকা।

৩.
প্রতিটি স্কুল যে-যার-মতকরে ফি-আহরন করে চলেছেন অনবরত। যেন দেখার কেউ নেই। অবশ্য শিক্ষা অধিদপ্তর স্কুলগুলোতে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির ফি নির্ধারণ করে দিয়েছেন সর্বাধিক ৫০০০ টাকা, কিন্তু তা মানার মানষিকতা নেই স্কুল কতৃপক্ষগুলোর। যেখানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হতে যে পরিমান টাকা লাগে সেখানে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হতে ঐ পরিমান টাকা লাগাটা অবিভাবকমহলে তীব্র হতাশা ও দুর্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। প্রথমশ্রেণী ভর্তিতে মূল উপজীব্য বিষয় হয়ে উঠেছে ভর্তি ফি ও টিউশন ফি’র উচ্চ হার, যা শিক্ষা বানিজ্যিকীকরনের এক নিষ্ঠুর উদাহরন। নিম্নমধ্যবৃত্ত ও মধ্যবৃত্ত পরিবারগুলো কি এই উচ্চহার বেতন ভাতার জন্য এই সব ভাল স্কুলে ভর্তি হতে পারবেনা। এই প্রশ্ন আজ অবিভাবকমহলের।

৪.
যার টাকা তার শিক্ষা এই নীতিতে চলছে প্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষা অধিদপ্তর তথা বাংলাদেশ সরকার পাচঁ হাজার টাকার একটি পরিসীমা এঁকে দিলেও প্রথম শ্রেনী ভর্তিতে তা রয়েগেছে কাগজে কলমে; তা বাস্তবায়ন করেনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকার রাষ্ট্রিয় এই সব নিয়মনীতি পালন করা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করে সবার জন্য সুষম শিক্ষা এই স্লগানটিকে সমুন্নত করবে বলে অবিভাবকমহলের প্রত্যাশা।