ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জনাব মাহামুদুর রহমানকে একটা কথা সব সময় বলতে শুনেছি- “যে দেশের তরুনরা জুলুমের প্রতিবাদ করতে ভূলে যায়, নির্লিপ্ত থাকে অথবা ভয় পায়, সে দেশের ধ্বংস অনিবার্য হয়ে পড়ে”। একজন তরুন হিসাবে জনাব মাহামুদুর রহমানের এই ধারনাকে কবুল না করার কোন কারন খুজে পেলাম না। প্রতিটি দেশেই কিছু বিরোধী গোষ্ঠি থাকে যারা হয়তো এই নব-জাগরনকে স্তব্ধ করে দিতে চাইবেন কিন্তু ইতিহাসের কছম- তারা তা করলে বড়ই ক্ষতির মর্ধ্যে পড়বেন। কারন ইতিহাস সাক্ষী যে- কোন নৈতিক আন্দলনকে পেশি শক্তি বলে কেউ কখনো দমিয়ে রাখতে পারেননি, পারবেও না ।

এবার প্রকৃত কথায় আসি- কিছু দিন আগের কথা, এফএম রেডিও-তে শুনলাম এনটিভি-তে একটি টেলিছবি প্রচার করা হবে; নাম “অরুনোদয়ের তরুন দল”। বেশ ফলাও করে তা দেখার কথা বলে প্রচার করা হলো তরুন সমাজে। ঘুমন্ত তরুন সমাজের একজন লক্কর ঝক্কর টাইপ প্রতিনিধি হওয়া হওয়া সত্তেও টেলিছবিটি দেখা আবশ্যকতা অনুভব করলাম। দেখলামও। তাতে দেখানো হলো শহরে কিছু তরুন শেখড়ের টানে গ্রামে বেড়াতে এসেছে। গ্রামে এসে তারা দেখলো যদি একটি সেতু নদীর উপর দেয়া যায় তবে গ্রামের বাজারটিতে দ্রব্যমূল্য কম যাবে। তরুনদের বুঝানো হলো যে- বাজারে যোগান বাড়লে দ্রব্যের দাম কমে আসবে। তরুনরা এখন টেলিছবিটি দেখে ভাবছে- ভালইতো যত যোগান তত আমাদের লাভ।

কিন্তু এই টেলিছবির প্রকৃত গলদটি হলো- সুকৌশলে তরুনদের ভূলেও জানতে দেয়া হলো না যে বাজারে যখন প্রযোজনের থেকে অধিক যোগান করা হয় তখন অধিক যোগানে দ্রব্যাদি পঁচে যায় গলে যায়_ তা কেনার জন্য আর ক্রেতা খুজে পাওয়া যায় না।

একটি উদাহরন দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করতে চাই- দেশের বাজারে এখন নতুন পেয়াজ আসতে শুরু করেছে তাই ভারত থেকে আসা পেয়াজের উপর এখন অতিরিক্ত কর আরোপ করলে এদেশিও কৃষকরা দাম পেত। ফলে চরম ভাবে ক্ষতির হাত থেকে বেচে যেত দেশের বাজার, বেচে যেত এ দেশের কৃষক; তথা গোটা দেশ; একটি জাতি মুক্তি পেত তিনযুগের এক নিদারুন শোষন থেকে। ঐ দ্রব্যটির বাজার চলে যেতনা অপর একটি দেশে হাতে, সেখান থেকে ঐ দ্রব্যটি তখন আমদানিও করতে হতনা। কিন্তু হায় তা দেখার যেন কেউ নেই; বাজার ব্যবস্থাপনার নেই পদক্ষেপ, প্রতিবাদ করার মানষিকতাও নেই কার। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অসংখ্য তরুন কৃষকের রক্তঝরা টাকায় পড়াশুনা করছে অথচ এই কৃষককে বাচাতে তাদের কোন অনুভূতি নেই। সেলুকাস এই দেশ, সেলুকাস এই তরুন দল।

শুনেছি, খবরের কাগজে দেখছি যে- দেশের ব্যাংকগুলোতে নাকি টাকা নেই, শেয়ার বাজারের উন্নতি নেই_ তরুন প্রযন্মের প্রতিক্রিয়াও নেই। এত সব নেই এর মাঝে আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাএ সংঙ্গঠনগুলোর সন্ত্রাস, আছে গুম, হত্যা। এতকিছুর পরও ছাএ সমাজ কি তাদের ক্যাম্পাজ গুলোতে সমেবেত হবে না? এই দায়ভার কি তারা এড়িয়ে যেতে পারেন? তরুন প্রযন্ম কি ব্যানার হাতে রাজপথ থেকে দূরের কোন এক গঞ্জের মেঠো পথে একতাবদ্ধ হয়ে বলতে পারবে না- চল চল চল…..। অরুনোদয়ের তরুন দল..। চলরে চলরে চল..