ক্যাটেগরিঃ জানা-অজানা

ছবিঃ উল্কা পতন ,নাসা

পৃথিবী আবিরম পরিবর্তনশীল একটি গ্রহ। পৃথিবীর উৎস সম্পর্কে মানুষের কৌতূহল সেই আদিকাল থেকেই শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম মতবাদ পাওয়া যায়। প্রাচীন ও মধ্যযুগের দার্শনিক গন পৃথিবীর উৎস সম্পর্কে যে সব ব্যাখা দিয়েছিলেন তা ছিল শুধু কল্পনা নির্ভর । বর্তমানে বিজ্ঞানীগন বিভিন্ন রকম ব্যাখা দিয়েছেন তবে বেশিভাগ বিজ্ঞানীগন মনেকরেন নিহারিকা থেকে উৎপত্তি হয়েছে আমাদের এই পৃথিবির । আমরা এই পৃথিবীকে এখন যেমনটি দেখছি সেটি এর জন্মের সময় এমন ছিল না। শত কোটি বছর ধরে চলা ক্ষয়, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যূৎপাত, মহাদেশ আর মহাসগরের অবিরাম পরিবর্তন এই পৃথিবীর আদি অবস্থার প্রমান সমুহকে ধ্বংস করে ফেলেছে। ভূতত্ত্ববিদগন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কবে এবং কিভাবে এই পৃথিবী গঠিত হয়েছিল ।পৃথিবীর বয়স নির্নয়ের জন্য ভূত্বত্তবিদগন পৃথিবীর সবচেয় পুরাতন পাথরের সন্ধান করে থাকেন ।এই পাথরের ভিতর থাকা তেজ্বস্ক্রিয় পদার্থের অর্ধায়ুর মাধ্যমে নির্নয় করা হয় ওই পাথরের বয়স।

মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে পতিত উল্কা পিন্ডকে সবচেয়ে বেশি বয়সের পাথর খন্ড হিসেবে ধরা হয় কেননা এই উল্কাপিণ্ড সৃষ্টি হয়েছিল পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার সময়ে। আজ থেকে ৪৫৪ কোটি বছর আগে আমদের এই সৌরজগতে সূর্যের চারপাশে ধুলিকনা ও গ্যাসের মেঘমালা ঘূর্নায়মান ছিল। এই ধুলিকনা আস্তে আস্তে শীতল হতে থাকে এবং একে অন্যের সাথে ধাক্কা খেয়ে লেগে যেতে থাকে কিন্তু বহুদিন এই তত্ত্বের কোন সাইন্টিফিক ব্যাখা ছিল না । অবশেষে ২০০৩ সালে আর্ন্তজাতিক মহাশূন্য স্টেশনে গবেষকরা কয়েকটি পরীক্ষা চালান তারা দেখতে চেয়েছিলেন শুন্য মহাকর্ষ শক্তিতে পদার্থের কি অবস্থা হয়। তারা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে কিছুপরিমাণ লবন নিয়ে ঝাঁকিয়েছিলেন এবং ফলাফল ছিল অবিশ্বাস! সবগুলো লবন কনা স্থির বিদ্যুতের কারনে একে অন্যের কাছেগিয়ে জমা হয়েছিল । বিজ্ঞানীরা এই সিধান্তে উপনিত হন যে, যদি এই লবন কনা শুন্য মহাকর্ষ বলে একে অন্যের কাছে জমা হতে পারে তবে পৃথিবী সৃষ্টির সময় ধুলিকনা,গ্যাস ও খনিজ পদার্থের কনা সমূহ একে অন্যের সাথে জমা হয়ে ছোট ছোট পাথর খন্ড তৈরি হয়েছিল যা সূর্যের চারপাশে ঘূর্নায়মান । পরবর্তী কয়েক লক্ষ বছর ধরে এই পাথর খন্ড সমূহ একে অন্যের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে বড় হতে থাকে এবং অবশিষ্ট পাথরখন্ড গুলোর এখনোও সূর্যের চারপাশে ঘূর্নায়মান। এই ঘূর্নায়মান পাথর খন্ড সৃষ্টির পর থেকে অপরিবর্তিত অবস্থায় আছে ,যখন এগুলো আমাদের পৃথিবীতে এসে আঘাত করে তখন এগুলোকে আমরা উল্কা বলে থাকি। এই উল্কা পিন্ড অতীতের দরজা হিসেবে কাজ করে যার মাধ্যমে আমরা অতীত ইতিহাস জানতে পারি। এই সব উল্কাপিণ্ড জমা হয়ে হয়ে তৈরি করে আমাদের এই পৃথিবী যাতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন বছর সময় লেগেছিল ।