ক্যাটেগরিঃ জানা-অজানা

মঙ্গলে রোভার  ছবি (mars.nasa.gov)

গত ১৭ ডিসেম্বর প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পাতায় শিরোনাম ছিল “মঙ্গলের মাটিতে প্রাণ?” এর ব্যাখায় বলা হয়েছিল “ মঙ্গল গ্রহের মাটিতে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছে কিউরিওসিটি রোভার। মঙ্গলের মাটি থেকে রহস্যময় মিথেন নির্গত হওয়ার প্রমাণ পেয়েছে নাসার পাঠানো রোভারটি। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এলিয়েন বা ভীনগ্রহের কোনো জীবাণু থেকেই তৈরি হচ্ছে এই মিথেন। এক খবরে জানিয়েছে ইনডিপেনডেন্ট” কিন্তু ইন্ডিপেনডেন্ট ইউকে তে গিয়ে দেখা গেল ভিন্ন কথা । সেখানে শিরোনামে লিখা ছিল “There just might be life on Mars….Nasa Curiosity rover picks up mysterious methane ‘burps’ that could possibly be coming from alien organisms”। এই শিরোনাম দেখেই বোঝা যায় আসলে তার কি বলতে চেয়েছেন আর প্রথম আলো কী লিখল? কেউ হয়ত এই সব বিষয় নিয়ে মাথা খাটাতে চায় না। কিন্তু আমি চাই, আমরা বিকৃত বিজ্ঞানের আশ্রয় নেব না সঠিক তথ্য দেওয়া যেমন সংবাদ পত্রের দায়িত্ব তেমনি ভুল তথ্য দিলে এর জন্য শাস্তি পাওয়া প্রয়োজন। এদের থেকে আমাদের নতুন প্রজন্ম কী শিখবে তা ভাবার বিষয়। নাসা যদি প্রানের অস্তিত্ব পেয়ে থাকত তাহলে নাসা সরাসরি ঘোষণা দিত হ্যা অবশেষে আমরা মঙ্গল গ্রহে প্রানের অস্তিত্ব পেয়েছি। কোন রকম তথ্য প্রমান ছাড়াই প্রথমআলো লিখে ফেলল মঙ্গলে প্রানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে!!!!। এই রকম মিথ্যচার জঘন্য অপরাধ।

এর পরের প্যারায় প্রথম আলোতে লিখা হয়েছে “গবেষকেরা বলছেন, সাধারণত ভূতত্ত্ব কিংবা অন্য কোনো তত্ত্ব দিয়ে রহস্যময় এই মিথেনের ব্যাখ্যা দেওয়া যাবে না। ২০১২ সালে মঙ্গলে অবতরণের পর থেকে মঙ্গলের মাটিতে অণুজীব খোঁজার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রোবট যান কিউরিওসিটি। মঙ্গলের মাটিতে মিথেনের এই গজাল কীভাবে তৈরি হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা তার ব্যাখ্যা দিতে না পারলেও দাবি করছেন, ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়াসদৃশ জীবন্ত অণুজীবই এর কারণ” আর তারা যে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউকে থেকে লিখেছে তা ছিল এই রকম “Mysterious spikes of methane that cannot easily be explained by geology or other theories have been found by an instrument on the robot, which landed on the planet in 2012. Scientists can’t be sure what is causing the spikes, but it is possible that it could be very small, bacteria-like living organisms” পুরা খবরটি পরিবর্তন হয়েছে শুধু মাত্র could be এর অর্থ না জানার কারণে। যারা সম্ভবত আর হতে পারে এর অর্থ যদি না বোঝেন তাহলে কীভাবে সাংবাদিক হয়?

এবার আসুন দেখি The Independent UK আরও কী লিখেছিল … The scientists said other theories, such as volcanic deposits trapped in ice called clathrates, were ruled out by the short time-scale of the spikes. in four sequential measurements, Curiosity showed the methane level soaring from about 0.69 parts per billion by volume (ppbv) to 7.2 ppbv. The spikes came within 200-300 meters of each other. By the time Curiosity had travelled a further kilometre, the higher methane levels had disappeared.

Dr Chris Webster, of Nasa’s Jet Propulsion Laboratory in Pasadena, California, said: “Strictly speaking, our observations are evidence for methane production on Mars, and in themselves cannot directly provide evidence of microbial life. “However, from our positive detection of methane on Mars, we cannot rule out the possibility that both the low background level and the high methane values originate in part from microbial activity.” “At this time,” added Dr Webster, “We have no idea what we will see in the future, or if we will ever see high values again.”Another discovery by Curiosity was that of water bound in the fine-grained soil within the Gale crater, which was formed by a massive meteor strike about 3.5 billion years ago.

সুতারং প্রথম আলোর এই বিষয়ে শুরু থেকেই একটি মিথ্যা গল্প তৈরির ছক একে এই সংবাদ প্রকাশ করে।

বিজ্ঞান কোন কাল্পনিক বা মনগড়া বিষয় নয় যা, আপনি লিখেলেন সেটাই বিজ্ঞান। এটা কোন গল্প নয় যে সাহিত্যিক লিখলেন মনের মাধুরী মিশিয়ে । বিজ্ঞান এমন বিষয় যার জন্য দরকার বৈজ্ঞানিক প্রমান । আসুন মুল বিষয়ে যাই … এখানে যে মিথেন পাওয়ার কথা বলা হয়েছে তা প্রাণ বা ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়া ফল তা বলা দুরুহ। মিথে মুলত দুইটি উৎস হতে আসে প্রথমত প্রানিজ অংশ পচনের ফলে আর দ্বিতীয়টি কোন গ্রহের ভিতর থেকে যদি ঐ গ্রহের ভিতরে ম্যাগমা চলমান থাকে বা পূর্বে ছিল । মঙ্গলে পুর্বকার সময়ে আগ্নেয়গিরি ছিল তাই সেই সময় মঙ্গলে ম্যগমা সচল ছিল। পৃথিবীতে ব্যাসাল্ট রক এ পানি প্রবেশ করলে তাতে মিথেন গ্যাস তৈরি হয় যা মঙ্গলে প্রচুর দেখা যায় । পৃথিবীতে আর এক ধরনে পাথর আছে যাকে ভাঙ্গলে মিথেন গ্যাস বের হয় এর নাম serpentinites যাতে serpentine নামক খনিজ বর্তমান। আর একটি দিক হল মঙ্গলে মিথেনের পরিমান .৬৯ থেকে ৭.২ পার্ট পার বিলিয়ন আর যেটি পৃথিবীতে আছে ১৬০০ পার্টস পার বিলিয়ন। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে মঙ্গলে অনুজীব থাকার সম্ভাবনা খুব ক্ষীন, সবকিছু প্রমাণিত না হয়া পর্যন্ত বলা যাবে না মঙ্গলে প্রাণ আছে।