ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 
lun-a-night

রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি গ্যাজপ্রোম দেশের বিভিন্ন গ্যাস ক্ষেত্রে কূপ খনন করে প্রত্যাশিত পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্যাজপ্রম প্রতিদিন ১০ টি কুপ হতে ৩০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট গ্যাস উত্তোলন করার শর্তে ২০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছিল যার মেয়াদ কাল ছিল ২০ মাস। উল্লেখ্য সবকটি কুপ ছিল গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য নতুন কোন গ্যাস ক্ষেত্র উৎপাদন আবিষ্কারের জন্য না।

উপরন্তু, তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের দুই কুপ গ্যাজপ্রোম এর ত্রুটিপূর্ণ উত্তোলন পদ্ধতির কারনে ২০০ প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের। গত বছরের শেষে ১০ টি কুপ খনন শেষ করার কথা ছিল, কিন্তু কাজ সম্পন্ন করার জন্য অতিরিক্ত ১১ মাস বৃদ্ধি করা হয় যা গাজপ্রম তার চুক্তি অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, বিজিএফসিএল এর অধীনে তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের চারটি, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড অধীন রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড এ একটি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স). অধীনে শাহবাজপুরে দুটি ও সেমুতাং, বেগমগঞ্জ এবং স্রীকাইল একটি করে মোট দশটি।

বাপেক্সের প্রত্যেকটি কুপের জন্য গ্যাজপ্রোমকে দিতে হবে ১৮.৬ মিলিয়ন ডলার অন্যদিকে সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড এবং বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড কে দিতে হবে ২০.৬ মিলিয়ন ডলার। প্রত্যেকটি কূপ খননের জন্য গ্যাজপ্রোম কে দিতে হচ্ছে ১৫০ কোটি টাকা যা বাপেক্স মাত্র ৮০-৯০ কোটি টাকায় খনন করতে পারত। এখনপর্যন্ত গাজপ্রোম প্রতিদিন সরবরাহ করছে মাত্র ১০৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যা তাদের চুক্তি অনুযায়ী দেওয়ার কথা ছিল ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সুতরাং গাজপ্রোম তার চুক্তি ভঙ্গ করেছে এবং দুইটি কূপ নষ্ট করেছে। খনন কাজে এত ব্যর্থ হওয়ার পরেও সেই গাজপ্রোমকে পেট্রোবাংলা আরো ৫ কূপ খনন কাজে নিয়জিত করেছে। এতকিছুর পরেও গ্যাজপ্রোমকে কেন জামাই আদর? কেন বাপেক্সকে শক্তিশালী না করে এই উদ্যোগ?