ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

nokol
আমাদের দেশের কিছুই আর আসল নাই সবই নকল, আমাদের জন্ম ছাড়া বাকি সবকিছু নকলের মধ্যমে অর্জন। জন্মের পর শিশুরা মায়ের দুধের পরই খাওয়া শুরু করে নকল দুধ। এই নকল দুধ খেয়েই যে মস্তিষ্ক গঠিত হয় তা সবসময় নকলের প্রতি ঝোঁক বেশি থাকে। এর পর একটু বড় হয়ে যায় স্কুলে ,সেই স্কুল আবার তিন চার ধরনের ইংলিশ মিডিয়াম, বাংলা মিডিয়াম, মাদ্রাসা, কওমি মাদ্রাসা, কিন্টার গার্ডেন ইত্যাদি। এই সকল শিক্ষা পদ্ধুতি আবার অন্যদেশ বা জাতির দেখা দেখি সরাসরি কপি করা সিস্টেম নিজের কোন সিস্টেম নাই। আবার সেই শিক্ষা পদ্ধুতিতে আছে পরীক্ষা নামক যন্ত্রণাদায়ক জিনিস যা পাশ করার জন্য শিক্ষার্থীরা নকল নামক পদ্ধতির আশ্রয় নেয়। এইটা রুখার জন্য আসল সৃজনশীল প্রশ্ন নেই সৃজনশীল আর সৃজনশীল নাই ,এই পরীক্ষা পাশ করার জন্য সবাই আশ্রয় নেই সৃজনশীল গাইড বইয়ের যদি এই গাইড বই পড়েই পাশ করে তাহলে সৃজনশীল প্রশ্ন করার দরকার কি?

এর পরেও আছে প্রশ্নফাস যা এখন গলার ফাঁস। এই প্রশ্নফাসের মাধ্যেমে এসএস সি ও এইচ এস সি পরীক্ষা পাশ করা শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয় এর ভর্তিপরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যান তখনও তারা ডিজিটাল নকলের আশ্রয় নেয় এই ভাবেই ভর্তি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরেই আসে এসাইনমেণ্ট এর কাজ,এই কাজেও নকলের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। একজন অপরেরটা নকল করে বা বড়ভাই আপুর পূর্বের এসাইনমেন্ট নকল করে নিজের নামে চালিয়ে দেয়। এম এস থিসিস থেকে পি এইচ ডি গবেষণা পত্র সবাই হয় নকল করে বা অপরেরটা সরাসরি নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার নজির আমাদের দেশে আছে। এভাবেই পার করে স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। এর পরে আসে চাকরী জীবনের পরীক্ষায় ডিজিটাল এস এম এস পার্টির দৌরাত্ব যা এখন ডাল-ভাত।

চাকরি পাওয়ার পর এবার একটু বিনেদনের দরকার –এই বিনোদনের প্রথমেই গানের কথায় আসি এই গান আর মৌলিক গান নাই সকল গানই আজ নকল গান সুর, কথা, এমনকি ভিডিও সবকিছুই নকল হিন্দি তামিল ইংলিশ চায়নিজ সব ভাষার গানই নকল হয় এই বাংলাদেশে। এবার আসি সিনেমায় ,সিনেমার গান, নাচ, কষ্টিয়ম এমন কি কোরিওগ্রাফি সবাই নকল করা হয়, তামিল, হিন্দি কিংবা পশ্চিম বাংলার সিনেমা গূলোথেকে। আবার কেউ কেউ এখন হলিঊডের মুভি নকল করার চিন্তা করে সিনেমা করার চেষ্টা করেন যার ফলে আম-ছালা কিছুই হয় না। এই সব গান আর সিনেমা দেখে বিরক্ত হয়ে দেখতে বসে টিভি নাটক সে নাটকেও নকল তা আবার পার্শবর্তীদেশের বস্তাপচা কাহিনীর নাটক এর অনুলিপি ,আবারও বিরক্ত। বিরক্ত হয়ে যায় নিউজপেপার পড়তে কিন্তু সেইখানেও নকল এক সংবাদপত্র অন্য সংবাদপত্রের খবর নকল করে নিজেদের বলে চালিয়ে দেয় কোন কোন ইংলিশ নিউজপেপার সরাসরি বিদেশি সংবাদপত্রের লেখা নিজের সংবাদপত্রে ছাপায় কোন রুপ পরিবর্তন না করেই। কি আর করা বাধ্যহয়ে যেতেই হয় বিদেশী গান, সিনেমা এবং নাটকের কাছে। দিন দিন এই সব বিদেশি সিনেমা নাটক আর গানের অভিনেতা আর অভিনেত্রীর চরিত্র দেখতে দেখতে নিজেরাই মনের অজান্তেই ওইসব চরিত্র নকল করেতে শুরু করে।

শিক্ষা চাকরি বিনোদন সবিই হল এবার বিয়ে করতে হবে? কিন্তু পাত্র পাত্রী পছন্দ হয় না কারন, পাত্র সবসময় নিজেকে নায়ক ভাবে আর পাত্রী নিজেকে নায়িকা ভাবে। তাই পাত্র সবসময় নায়িকার মত বউ আর পাত্রী নায়কের মত স্বামী খুজে। পাত্র তার পাত্রী খুজতে গেলেই মনে পরে এঞ্জোলিনা জোলি , দিপিকা কিংবা ঐশ্বরিয়া রাই এর ছবি তাই পাত্রী আর পছন্দ হয় না। আর পাত্রী তার পাত্র দেখতে গেলেই চোখে ভেসে উঠে টমক্রুজ, শাহরুখ, সালমান বা হৃত্বিক এর ছবি, সেকারণে পাত্র পছন্দে অনিচ্ছা। আমারা সব সময় অন্যের চরিত্র, পোষাক , স্টাইল এমন কি বাচনভঙ্গি সবই নকল করি যাকে বলে ১০০% কপি। যাইহোক বিয়ের পর অশান্তি শুরু এর থেকে অসুখ হয়, সেটাকে সরানোর জন্য যে ঔষধ সেবন করে তার বেশিভাগই নকল। এই নকল এখানেই শেষ না এই ঔষধ তৈরির ফর্মুলাটাও নকল। আবার কেউ কেউ হতাশ হয়ে মাদক গ্রহন করে সেই মাদকও নকল। হাতাশা মেটাতে উপন্যাস পড়বেন বা সাইন্সফিকশ্ন বই পড়বেন সেটাও নকল। আমাদের অনেক লেখক আছে যারা বিদেশি সাহিত্য কে বঙ্গানুবাদ করে নিজের উপন্যাস আর সাইন্সফিকশ্ন বলে চালিয়ে দেয়। আমাদের সবকিছু তে এখন নকলের ছড়াছড়ি আমাদের নিজেস্ব বলে কিছু নেই? আমাদের মেধা নেই? সাহস নেই? তাহলে কেন আমরা অন্যের সবকিছু নকল করি? দুঃখের বিষয় আমাদের জাতীয় পোশাক নেই? অথচ আমরা বিলিয়ন ডলারের পোশাক বিদেশে রাপ্তানি করি। আমার মনে হয় আমাদের জন্মটাই আসল বাকি সব নকল।