ক্যাটেগরিঃ অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড - ব্লগ সংকলন, ধর্ম বিষয়ক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

51_Avijit-Roy_Protest_TSC_27022015_27
“আমারা মানব কুল কারও জীবন দান করিতে পারনি অতএব কাহারো জীবন হরণ করিবার অধিকার নাই”। মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের মুল কারন হিসেবে ধরা হচ্ছে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় উগ্রবাদীদের দ্বন্দকে। মূলত অভিজিৎ ছিল ধর্মীয় বিশ্বাসের বাইরে ও বিজ্ঞান এবং দার্শনিক যুক্তির ধারক, যা ধারন ও পালন করার অধিকার আমাদের সংবিধান দিয়েছে। অন্যদিকে ধর্মীয় ধারনা যাকে অপার্থিব বা দৈব আদর্শ বলে ধরা হয় তাও মুলত পার্থিব আদর্শ যা ধারন ও পালন করার অধিকার দিয়েছে আমাদের সংবিধান।

ধর্মীয় আদর্শ দৈব বাণী হলেও তা কিন্তু এই মানব জাতিই চর্চা করে, যদি মানুষ তা পালন না করত তাহলে ধর্ম বলে কিছুই থাকত না। সুতারং ধর্ম অপার্থিব বলা হলেও এটি আসলে পার্থিব ভাবাদর্শ।

অপর দিকে তথাকথিত নাস্তিকতা কিন্তু মানুষের দ্বারাই তৈরি, মানুষ এটি ধারন, লালন ও চর্চা করে । এই আদর্শের ভিত্তি হল গাণিতিক যুক্তি, বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব এবং দার্শনিক মতাদর্শ। মূলত এখানে দৈব আদর্শের কোন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না ।

সমস্ত সৃষ্টি কাল থেকে মানুষের মনে মানব জীবনের উদ্ভব প্রসঙ্গে দুটি প্রশ্ন জেগেছে একটি “কীভাবে” অপরটি “কেন”। কীভাবে এর উত্তর পেতে বিজ্ঞান সাহায্য করে আর অন্যটি কেন এর উত্তর পেতে নির্ভর করতে হয় ধর্ম ও দর্শনের উপর। ধর্মীয় ধারনা সৃষ্টি মানুষের এগিয়ে চলা আরোও গতিশীল করেছে । কারন ধর্ম হতে সৃষ্টি হয়েছে মানুষের যাবতীয় সামাজিক বিধি নিষেধ, আইন, দর্শন ও বিজ্ঞানের অনুপ্রেরণা ।

 ছবিঃ রয়টার্স(অভিজিৎ )

মূলত ধর্ম ও বিজ্ঞান এই দুই ভাবাদর্শ একে অপরকে বিচার করতে পারে না। ধর্মকে দিয়ে যেমন গাণিতিক যুক্তিকে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায় না। তদুপরি গাণিতিক যুক্তি বা বিজ্ঞান দ্বারা ধর্মকে বিচার করা যায় না । ধর্ম ও বিজ্ঞানের লক্ষ্য এক হলেও এই দু’টির প্রক্রিয়া আলাদা।

এই দু’টি নিয়ে কোন সংঘাত হওয়ার কথা না, সংঘাত তখনি হয় যখন এই দুই পক্ষ তাদের ভাবাদর্শ একে অপরের উপর চাপিয়ে দিতে চায়। এক ভাবাদর্শের অনুগতরা বলতে থাকে আমিই সঠিক তোমারটা সঠিক নয়, অপরদিকে অন্যপক্ষ বলে সেই একই কথা। মূলত এই দুই ভাবাদর্শ আলাদা হলেও পার্থিব ,এই নিয়ে সংঘাতের কোন কারন খুঁজে পাই না ।

“জগতের সকল আস্তিক-নাস্তিক চিরজীবী হও, পাশাপাশি থাক, দ্বন্দে লিপ্ত হইও না”
বি.দ্র. আমার কথা বিশ্বাস না হলে সুরা আল বাকারা আয়াত ১- ২০ পর্যন্ত পরে যাচাই করতে পারেন আসলেই দন্দ্ব করা যায় কি না