ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

Climate change
জলবায়ু পরিবর্তন বলতে আমরা বুঝি কোন এলাকার গড় জলবায়ু দীর্ঘ মেয়াদী পরিবর্তন যা কিনা চলতে পারে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। পৃথিবী নামক এই গ্রহটি হাজার হাজার বার জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়েছিল। বিগত সেই সময়ে মানব সভ্যতার কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি যে, যার কারনে সেই জলবায়ুর পরিবর্তন হয়েছিল আর হবার কথাও না কারন সেই সময়ে তো মানুষের আবির্ভাব ঘটেনি। কিন্তু বর্তমান সময়ে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবে জলবায়ু পরিবর্তন বলতে মানব সভ্যতার প্রভাব কে । জলবায়ু পরিবর্তন মুলত প্রাকৃতিক বিষয় এটা মানব সৃষ্ট কোন কারন নয় বিস্তারিত জানতে নিচের লিঙ্কে দেখে নিতে পারেন।জলবায়ু পরিবর্তন কল্পনা, ধারণা এবং বাস্তবতা ১৯৭২ সালে ৫ থেকে ১৬ জুন সুইডেন এর রাজধানী স্টকহোম এ UN Conference on Human Environment অনুষ্ঠিত হয় এর পর UNEP, WCED এবং সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে UFCC গঠিত হয়। ১৯৯৭ সালের কিয়োটো প্রটোকল ছিল জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক গুরুত্বপুর্ন্য চুক্তি এর ফলে দেশ সমূহ কে ১৯৯০ সালের চেয়ে ৬ থেকে ৮ শতাংশ করে কার্বন নিঃসরণ কম করতে হবে।
electricityproductionhistorical
কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে সরে আসে কারন তখন বেশিভাগ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের জ্বালানী উৎস ছিল কয়লা, তেল এবং গ্যাস। যদি সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সই করত তাহলে অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যায় বেড়ে যেত। এর পর চীন তার কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন আরোও বাড়াতে থেকে যার ফলে চীন তার সস্তা বাণিজ্যর সম্প্রসারণ ঘটাতে থাকে। এর পর থেকেই মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র সহ অন্যান্য দেশ তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হওয়া শুরু করে। তখন থেকেই এ সব দেশ গ্রীন এনার্জির ধারণা সম্প্রসারণ করতে শুরু করে। তার যুক্তি প্রদান করা শুরু করে যে বাণিজ্যিক কারনে কার্বন নিঃসরণের ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন এর সূত্রপাত। এবং এই বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবী ব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে। এটাকে তারা মার্কেটিং পলিসি হিসাবে গ্রহণ করে যাতে ক্রেতা তাদের পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয় যেমন টি “হালাল পন্য” বলে মসুলিম বিশ্বে করা হয়ে থাকে। তারা মনে করত যে ক্রেতা এই ভেবে পণ্য টি গ্রহন করবে যে তাদের ব্যবহৃত পণ্য পরিবেশের জন্য হুমকি নয়। তার এই শ্লোগান প্রচার করতে থাকে যে, ফসিল ফুয়েল পরিবেশের জন্য হুমকি। চায়নার বানিজ্য বন্ধ করতে তারা গ্রীন টেকনোলজি নামে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে যাতে সস্তায় ফসিল ফুয়েল ব্যাবহার না করে পণ্য উৎপাদন করা যায়। ফলে কিছুটা হলেও বিশ্ব বাণিজ্যে দেশগুলো টিকে আছে ।
china-energy-consumption-by-source-e1347409856398
চায়নার বেশি ভাগ বিদ্যুৎ আসে কয়লা নির্ভর কেন্দ্র থেকে কিন্তু কার্বন মনো ও ডাই অক্সাইড নির্গমন বেশী এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কম। সস্তা বিদ্যুৎ ও শ্রম এই দুয়ের উপর ভিত্তি করে চায়না তার বাণিজ্য সম্প্রসারণ করেছে সারা বিশ্ব জুড়ে। চায়না কার্বন নিঃসরণ কামানোর কোন চুক্তি করেনি কারন যদি করত তাহলে চায়না কে তার পুরনো প্রযুক্তি বদল করে নতুন প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উতপাদনে খরচ বেড়ে যেত ফলশ্রুতিতে পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যেত।

অপর দিকে বাংলাদেশ সহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশ সমূহ কে জলবায়ু গিনিপিগে পরিণত করেছে। উন্নত দেশ গুলোই আবার অর্থ ঢালছে নিজেদের কে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য যাতে করে নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করা যায়। জলবায়ু তহবিল থেকে বাংলাদেশের নেওয়া ৬ বিলিয়ন ডলার প্রকৃত পক্ষে কোন কাজে আসেনি। এর চেয়ে ভালো হত যদি বাংলাদেশ দাবি করতে যে, ক্ষতি গ্রস্থ দেশ হিসেবে আমাদের কে বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা দিতে হবে। অথবা এটা বোঝানো যে তাদের উচ্চভিলাসী পরিকল্পনা আমাদের কে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলছে। যদি বাংলাদেশ বাণিজ্যে সুবিধা আদায় করে নিতে পারত তাহলে আমাদের দেশের বাণিজ্য ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছত। আমাদের বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ না দিয়ে তারা ৬ বিলিয়ন ডলারের মুলো ঝুলিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ অন্যদেশের সাথে অন্ধবিশ্বাস নিয়ে বাণিজ্য চুক্তি করে, হয়ত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পথ ক্ষীন হয়ে আসবে। প্রযুক্তি বিষয়ক চুক্তি গুলোতে আরও সাবধান তা অবলম্বন করা উচিত । আমাদের ভাবা উচিত বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা কোন প্রযুক্তি গ্রহণ করব ? ধরে নেওয়া যাক বাংলাদেশের সব বিদ্যুৎ কেন্দ্র কয়লা ভিত্তিক হল ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমে গেল কিন্তু কার্বন নিঃসরণ কমানোর চুক্তি করে থাকলে ভবিষ্যতে এই সব বিদ্যুৎ কেন্দ্র গলার কাটা হয়ে দাঁড়াবে। আমাদের কে নিজস্ব প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও বিকাশ ঘটাতে হবে না হলে আমরা বিশ্ব বাণিজ্যর দৌড়ে টিকে থাকতে পারব না।

ফেইসবুকে আমি https://www.facebook.com/ershad.pahlowan
***
জলবায়ু পরিবর্তন কল্পনা, ধারণা এবং বাস্তবতা